গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ভারত বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে মিত্রতা বাড়ে পাকিস্তানের। এমনকি দুই দেশের মধ্যে একাধিক চুক্তি, ব্যবসায়ী লেনদেনের উন্নতি ঘটেছে। যেটা ভারত ভালোভাবে নেয়নি। এবার খবর, প্রায় তিন দশক পরে পাকিস্তানের কোনও বিদেশমন্ত্রী ঢাকা সফর করছেন। আগামী ২৩ অগাষ্ট বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইসাক দার। দ্বিপাক্ষিক এই সফর ঘিরে আলোচনা চলছে তুমুল। এরই মধ্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানিয়ে দিল, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঠিক কি হবে, সেটা ভারত সিদ্ধান্ত নেবে না। তবে কি মহম্মদ ইউনূস হুশিয়ারি দিলেন ভারতকে? যদিও ভারত চুপ থাকবে না। মত ওয়াকিবহাল মহলের।
সোমবার পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জবাব দেন বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, পাকিস্তান এবং ভারতের সম্পর্ক কেমন হবে, এটা যেমন আমি ডিসাইড করি না, ঠিক একইভাবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হবে সেটা ভারত ডিসাইড করবে না।
২০২৪ সালের ৫ ই আগস্ট বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এদিকে তার আমলেই উল্লেখযোগ্যভাবে দুই পড়শী দেশের সম্পর্কের উন্নতি ঘটে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয় সাবেক পূর্ব পাকিস্তান। তৈরি হয় বাংলাদেশ। তারপরই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের চরম উন্নতি ঘটে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে লেনদেন বাড়ে। হঠাৎই হাসিনার পতন ঘটতেই সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছয়। এমনকি শেখ হাসিনার জমানায় যে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ক্ষেত্র বন্ধ থাকে, তার জমানা শেষ হতেই ফের চালু হয় বাণিজ্য। শুধু তাই নয়, পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে ভিসা সংক্রান্ত নিয়মে শিথিল করা হয়েছে। এরইমধ্যে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ঢাকা সফরে আসছেন। জানা যাচ্ছে, তিনি তৌহিদ হোসেনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও বৈঠকে বসতে পারেন। প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসে ঢাকাতে গিয়েছিলেন, পাকিস্তানের বিদেশ সচিব আমনা বালোচ। তখন থেকেই পাক বিদেশমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর ঘিরে আলোচনা বাড়তে থাকে।
জানা গিয়েছে, দুই দেশ চাইছে সম্পর্কে শিথিলতা আনতে। এমনকি বাণিজ্যিক ক্ষেত্র বাড়াতে চাইছে দুই দেশ। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ চাইছে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে। তৌহিদ বলেন, এই সম্পর্ক অস্বাভাবিক জায়গাতে পৌঁছবে না। তিনি জানান, অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যেমন সম্পর্ক, ঠিক একইভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক রাখা হবে।
তবে বিষয়টি নিয়ে কি ভাবছে নয়া দিল্লি, সেটা ঘিরেই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আলোচনা তুঙ্গে। এখন দেখার, তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া আসে কিনা ভারত থেকে।












Discussion about this post