একদিকে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর নিয়ে নানা গুজব রটছে। অন্যদিকে দেশের রাষ্ট্রপতিকে নিয়েও নানা বিষয় উঠে আসছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, রাষ্ট্রপতি কি পদত্যাগ করেছেন? যখন দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা চলছে, তারই মাঝে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রপতি পদে বসিয়েছেন কিনা, এই নিয়ে চলছে দিনভর আলোচনা। এদিকে রাষ্ট্রপতির ভেরিফাইয়েড ফেসবুকে পেজে একটি আপডেট দেওয়া হয়েছে। সেখানে পদত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। আর সেটা ঘিরেই দিনভর চর্চা বাংলাদেশের রাজনীতিতে।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধেতে রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত ওই অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। এমনকি এই বিষয়ে নিশ্চিত করা হয় বঙ্গভবন থেকে। পরে অবশ্য অ্যাকাউন্টটি উদ্ধার করার কথাও জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির একান্ত সহকারী সচিব মো. সাগর হোসেন জানান, রাষ্ট্রপতির ভেরিফায়ের ফেসবুক পেজটি হ্যাকড হয়েছে। বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ করেন তিনি। মাত্র কয়েক মিনিট নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। পরে বিটিআরসি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেটি উদ্ধার করা হয়। তবে যতক্ষণে উদ্ধার হওয়ার তথ্য আসে, ততক্ষণে নানা খবর চাউর হতে থাকে। যদিও যে পোস্টটি নিয়ে এত বিভ্রান্ত তৈরি হয়েছে, সেই পোস্টটি যেহেতু অনলি মি করা ছিল, তাই রাষ্ট্রপতির ফেসবুক পেজে যারা ফ্রেন্ড ছিলেন, তারাই দেখতে পেয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, কারা রাষ্ট্রপতির ফেসবুক পেজ হ্যাকড করল? এমনকি হ্যাকড ঙওয়ার পর পদত্যাগ নিয়েই বা কেনব পোস্ট করা হল? তবে কি দেশবাসীকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলতে এই উদ্যোগ? নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও খেলা রয়েছে? অন্তত সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিয়ে খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ পরবর্তীকালে ফের এমন ঘটনা ঘটতে পারে। এর আগেও রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগ ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এমনকি বঙ্গভবন ঘেরাও থেকে শুরু করে, নানা বিষয় উঠে আসে। এমনকি রাষ্ট্রপতিকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে কিনা সরকারের পক্ষ থেকে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যদি এইসব আলোচনা থেমে যায়, যখন জুলাই সনদ প্রকাশের দিন দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি। তবে বাংলাদেশে যতই জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তাপ পরিস্থিতি। তারমধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে। অনেকে বলার চেষ্টা করছেন, তিনি প্রয়াত হয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে না। আবার কেউ বলছেন, ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবসের দিন বিষয়টি সামনে আনা হবে। নানা গুজব রটানো হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন বাংলাদেশে যাতে নির্বাচন আরও দেরী করা যায়, আরও কিছুদিন অন্তবর্তীকালীন সরকার দেশের ক্ষমতায় থেকে যায়, তারই চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সেই কারণেই বাংলাদেশের রাজনীতির আঙিনায় এমন মন্তব্য, বক্তব্য বা গুজব। আসলে বাংলাদেশের পরিস্থিতিত কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, কি হচ্ছে পদ্মাপাড়ে সেটার দিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।












Discussion about this post