২০২৬ সালের ১২ মার্চ। সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিন। ঘটনাপ্রবাহ কম কিছু নয়। অর্থবহ প্রথম অধিবেশনের দিন তা একেবারেই বলা যায় না। জামায়াত ও এনসিপির তীব্র প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠলো জাতীয় সংসদ। রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় হঠাৎ করেই শুরু হয় হট্টগোল, “চুপ্পু আউট” স্লোগান দিতে থাকে। বিরোধী সদস্যরা অভিযোগ করেন—বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদে থাকা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা দেশের রাজনীতিতে নতুন এক সংকেত দিচ্ছে।
তাহলে কি সত্যিই চাপের মুখে পড়লেন রাষ্ট্রপতি চুপ্পু? সামনে কি বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন অপেক্ষা করছে? কেন জামাত ইসলামীরা ডেপুটি স্পিকারের পদ প্রত্যাখ্যান করল? কেন বা রাষ্ট্রপতির মুখের ওপর চরম অপমান ছুড়ে দিল বিরোধী দল। কেন বিরোধী দল ক্ষমতার লোভ পায়ে ঠেলল। মার্চ মাসে ওপার বাংলা যখন নতুন কিছুর অপেক্ষায় তখনই সংসদের ভবনের করিডোরে ঝামেলা চলছিল। প্রথম অধিবেশনুযায়ী স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। সরকার বিরোধী দল জামাতকে ডেপুটি স্পিকারের পদটি ছেড়ে দেব। শেষ মূহূর্তে বদলে যায় সব প্ল্যান। দেখা যায়, সংসদের বর্তমান ডেপুটি স্পিকার হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনও নামই গোষণা করা হয়নি। নাম প্রস্তাব না করার পিছনে রয়েছে এক অন্য কারণ। ঘটনার সূত্রপাত, ১১ মার্চ ড.শফিকুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে বলে, সরকারের সাজানো নকশা চুরমার করে দেন। তিনি বলেন, জামাত কোনও সাজানো কিছু চায় না। মূল কারণ জুলাই সনদ। সনদে স্পষ্ট বলা ছিল, ডেপুটি স্পিকারের পদটি হবে বিরোধী দলের অধিকার। কিন্তু জামাতের অভিযোগ, সরকারের সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না করে কেবল একটি পদের লোভ দেখিয়ে মুখ বন্ধ করতে চেয়েছে। বিএনপির সরকার জুলাই সনদ নিয়ে গড়িমসি শুরু করেছে। তারা বাইরে দেখাচ্ছে যে তারা সনদ মানছে কিন্তু ভেতরের ছবি একেবারেই আলাদা। জামাত যখন আসল ছবিটা ধরতে পারল তখন তারা এই পদ প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেয়।
কিন্তু সরকারের কেন ঝুকি নেবার প্রয়োজন পড়ল? রয়েছে কারণ। আন্তর্জাতিক মহলে সরকার দেখাতে চায়, তারা একাই রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্ষম। কিন্তু তারা কোনও ধর্মভিত্তিকের উপর নির্ভর নয়। আসি মূল আলোচনায়। সংসদ কক্ষের অধিবেশন শুরু হওয়ার পরপরই ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হতেই ঘোষণা হল সংসদ ৩০ মিনিটের জন্য মুলতবি। কেন বিরতি। আসলে ৩০ মিনিটে সরকারী উচ্চ পর্যায়ে এবং বিরোধী দলের মধ্যে চলছিল আলোচনা। সরকার চায়ছিল, বিরোধী দল যাতে তাদের সুর কিছুটা নরম করে। কিন্তু শফীকুর রহমান জুলাই সনদের বিষয়ে সুর নরম করতে রাজি হয়নি। উলে ৩০ মিনিটের আলোচনা বোঝা যআয় আগীমী দিনের সংসদ হতে যাচ্ছে উত্তেজনাময়। তারপর ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি সাহাব্বুদ্দিন চুপ্পু। বিরোধীরা রাষ্ট্রপতির ভাষণ পুরোপুরি বয়কট করে। ওয়াকআউট করে এসে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, জুলাই খুনীদের অভিভাবককে তারা রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে মানে না। এই বয়কট নয় কোনও সাধারণ ঘটনা, বঙ্গভবনের বাসিন্দাদের প্রতি চরম অনাস্থা। সাহাব্বুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি পদে বসাতে অস্বীকার করেছে বিরোধী দল। অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। নাহিদের দাবি, রাষ্ট্রপতি শপথ ভঙ্গ করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় নির্বিকার ভূমিকায় ছিলেন। এক অন্যতম দিন ছিল ১২ মার্চ। এই দিনটি আগামী দিনের রাজনৈতিক ভূমিকা হয়তো ঠিক করে দিল। কী হবে আগামী দিনগুলি নজর থাকবে আমাদেরক।











Discussion about this post