শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই নিজেকে কার্যত রাষ্ট্রপতি ভবন বা গণভবনে বন্দী করে রেখেছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এর মধ্যে দু-বার তাঁকে গণভবনের বাইরে দেখা গিয়েছিল বিজয় দিবস ও ভাষা শহীদ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়ার সময়ে। উল্লেখ্য, সেই দু-বারই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল। অজ্ঞাতকুলশীল ভুঁইফোর কয়েকটি সংগঠন এই বিক্ষোভ দেখালেও তা আসলে ছাত্র নেতাদের কারসাজি সেটা সবাই জানেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান।
তাঁর বিরুদ্ধেও ক্রমাগত ষড়যন্ত্র করে চলেছেন ইউনুস বাহিনী। বিগত ১০ মাসে জেনারেল ওয়াকারের বিরুদ্ধে অন্তত দুবার সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছিল, এবং এর পিছনে যে মোঃ ইউনুস ও তার সহযোগীদের হাত রয়েছে সেটাও স্পষ্ট। ওয়াকিবহাল মহল বলছে বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী মুহাম্মদ ইউনুস কোনও ভাবেই রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু এবং সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানকে সরাতে পারবেন না। ফলে তাঁদের সরাতে হলে অন্য পথ অবলম্বন করতে হবে। আর সেই অন্য পথ তাঁরা বেশ কয়েকবার প্রয়োগ করেছে। কিন্তু ফল হয়নি। তাই শেখ হাসিনার আমলে নিয়োগ হওয়া এই দুই গলার কাঁটা এখনও বিঁধে আছে ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে।
গত সোমবার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সেনাবাহিনীর এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। সেখানে তাঁকে রাষ্ট্রপতি গার্ড অফ ওনার দেওয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশের নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানরাও। সেখানে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণও দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এই ঘটনা এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চার বিষয়। কারণ, যখন মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি, জামাতের মতো রাজনৈতিক দলগুলি দ্রুত জুলাই সনদ ঘোষণা করতে তৎপর, তখন রাষ্ট্রপতির ওপরেই আস্থা রেখে এক বিশেষ বার্তা দিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। সেটা হল, এখনও রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধান এবং তাঁর মর্যাদা ক্ষুন্ন হতে দেবে না বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বাংলাদেশে যখন সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি জোট নিয়ে চর্চা চলছে, তখন ভারতে চর্চা চলছে ভারতীয় নৌসেনার একটি টুইট নিয়ে। যা বাংলাদেশের রাতের ঘুম উড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। ভারতীয় নৌ বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় শাখা ইস্টার্ন নাভাল কমান্ড এক ট্যুইটে নৌসেনার সকল বিভাগকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। যা এই মুহূর্তে যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ। বঙ্গোপসাগরে কী তাহলে বড় কোনও পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে? এই প্রশ্নটাই ভাবাচ্ছে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের। কারণ ইস্টার্ন নাভাল কমান্ড যে বিবৃতি দিয়েছে, তাতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ রয়েছে, পাশাপাশি পূর্ব দিকে মুখ করা কয়েকটি যুদ্ধজাহাজের ছবিও রয়েছে ওই ট্যুইটে। এই যুদ্ধজাহাজগুলির মধ্যে ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট শ্রেনির অত্যাধুনিক জাহাজ রয়েছে। যেখানে ব্রহ্মস মিসাইল রাখা থাকে। কেন আচমকা এই ধরণের মেসেজ দিল ভারতীয় নৌসেনা? চলছে চর্চা।
জানা যাচ্ছে, ভারতীয় গোয়েন্দা এজেন্সিগুলির কাছে খবর এসেছে, পূর্ব উপকূলে এবার জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা হতে পারে। বিশেষ করে, বঙ্গোপসাগরের খাড়িগুলি জঙ্গিদের লুকিয়ে অনুপ্রবেশের জন্য সুবিধাজনক। তাই সুন্দরবন ও সংলগ্ন সাগরে উপকূল রক্ষী বাহিনীকে বাড়তি নজরদারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের গোয়েন্দা এজেন্সিগুলিও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। কারণ, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে জঙ্গিদের তৎপরতা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। আর নয়া দিল্লি সেই বিষয়ে যথেষ্ট অবগত। ফলে পূর্ব উপকূলে ইস্ট্রান নাভাল কমান্ডের ট্যুইট থেকে বোঝা যায় ভারত বঙ্গোপসাগরে নৌ-অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, বাংলাদেশকে উচিৎ শিক্ষা দিতে চট্টগ্রাম বন্দরকে আংশিক অবরুদ্ধ করা হতে পারে। সেই সঙ্গে উপকূলরক্ষী বাহিনীও তৎপরতা বাড়িয়েছে, যাতে কোনও রকম জঙ্গি অনুপ্রবেশ রোখা যায়। মনে রাখা প্রয়োজন, নরেন্দ্র মোদি সরকারের এখন ঘোষিত নীতিই হল, যে কোনও জঙ্গি কার্যকলাপকেই যুদ্ধের হুমকি হিসেবে দেখা হবে। ফলে বাংলাদেশের কাছেও এটা পরামর্শ হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।












Discussion about this post