এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী রইল বাংলাদেশ। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের জেরে পুড়ে গিয়েছে কোটি কোটি টাকার জিনিস। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার ব্যাপক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের আমদানি এবং রফতানিতে। ইতিমধ্যে তদারকি সরকার এই ঘটনায় ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে। ঘটনার পরে পরে সরকারের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ঘটনার পিছনে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন, প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিমানবন্দরে আগুন নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের পাঠানো একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে সন্দেহ আরও দানা বাঁধতে শুরু করে। শনিবার ১৮ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঢাকার কার্গো ভিলেজসহ অন্যান্য ঘটনায় নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই সরকার দেশের একাধিক স্থানে সংঘটিত কয়েকটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে জনগণের উদ্বেগ সম্পর্কে সচেতন। আমরা সব নাগরিককে আশ্বস্ত করতে চাই যে নিরাপত্তাবাহিনী প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে বিস্তারিত তদন্ত করছে। সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় কাজ করছে।
বাংলাদেশের অন্যতম একটি জাতীয় দৈনিকে এই অগ্নিকাণ্ড নিয়ে তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। এমনকী আগুন নেভাতে পুলিশের একটি ইউনিটকে অনুমতি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। সেখানে উপস্থিত বেশ কিছু কর্মীকে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকতে দেখা যায়। সরকারের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুনের নেপথ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা ও সমন্বয়ের অভাব ছিল। অগ্নিকাণ্ডের শুরুতেই উপযুক্ত মনিটরিং পেট্রোলিং ও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যরা সক্রিয় থাকলে দ্রুত এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হত। এই সংকট মোকাবিলায় এয়ারপোর্টে এবিপিএন অ্যাপ্রোন এলাকায় উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হলে তারা অনীহা প্রকাশ করে।
তবে এই প্রথম যে বাংলাদেশ বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী রইল তা নয়। গত এক বছরে একাধিক জায়গায় আগুন লাগে। মীরপুরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সব থেকে বিস্ফোরক তথ্য হল, পাবনা জেলার রূপপুরে পারমাণবিক কেন্দ্রের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। রাশিয়া থেকে বাংলাদেশ ১৮টন পারমাণবিক পণ্য সামগ্রী এনেছিল। নো অবজেকশন সার্টিফিকেট না আসায় পণ্যগুলিকে সেখানে রাখা হয়েছিল। শনিবারের ভয়াবহ আগুনে সেগুলি পুড়ে গিয়েছে। যদিও সরকারি বিবৃতিতে এই বিষয়টির উল্লেখ নেই। চলতি বছর ডিসেম্বর থেকে ওই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা ছিল। যদিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যা চালু করা যাবে কি না, তা নিয়ে আগে থেকে সন্দেহ ছিল। শনিবারের ঘটনায় সেটা আরও পিছিয়ে গেল।
এদিকে কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর গঠিত কমিটি আগুনের কারণ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছে। জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) এবং তদন্ত কমিটির সভাপতি লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আগুনের কারণ নির্ণয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে কমিটির সদস্যরা। ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে আজও আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশে গত...
Read more












Discussion about this post