প্রতিবেদন শুরু করা যাক ডাকসুর সাবেক ভিপি নূর এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য দিয়ে।
“আওয়ামী লীগের … তো এত বড় একটা দল। তাদের কিছু মানুষ অপরাধ করতে পারে। বাট ম্যাসিভ লেভেলের মানুষ তো আর অপরাধ করে নাই। কাজেই রাজনীতির কারণে সাধারণ নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়। তাদের ওপরে যেন জুলুম না হয়। এই আহ্বানটা কিন্তু আমারা শুরু থেকে রেখে আসছিলাম। এবং আওয়ামী লীগ বড়ো একটা দল। তাদের নেতা-কর্মীদের বাইরে রেখে তো … এই রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, এই সমাজকে পুনর্গঠন করা – এ সম্ভব নয়। সেই জায়গা থেকে আমরা সব দলই কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরকে নিয়েই কাজ করার… আমরা চেষ্টা করছি। এবং একসাথে চলার চেষ্টা করছি। ছোট্ট একটা দেশ। এখানে এতো ঘনবসতিপূর্ণ মানুষ…হাটতে গেলে একজন মানুষের গায়ে লাগে আর নির্বাচন হয় না। ”
“আমাদের হাসিনা আপা চলে গিয়েছে ভারতে। চলে গিয়েছে ভালো করেছেন। কিন্তু এইখানে তাদের সমর্থকদের বিপদে ফেলাইলেন কেন?আমরা তাদেরকে জানাই কোনও বিপদের মধ্যে পড়বেন না। আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে।”
কিছুদিন আগে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যে আওয়ামী লীগ না থেকেও ভীষণ রকমভাবে রয়েছে। সেটা যে কথার কথা নয়, সেটা প্রমাণ হয়ে গেল নূর এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য। নূর তো পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন যে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় নির্বাচন কল্পনা করা যায় না। তবে সাদা চোখে বিষয়টা দেখলে মনে হবে হাসিনার প্রতি তাদের একটা সহানুভূতি রয়েছে। কিন্তু রাজনীতি বলছে অন্য কথা। আসলে ডাকসু নেতা নূর বা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চাইছেন আওয়ামী কর্মী সমর্থকদের ভোট তাদের দিকে টানতে।
যখন একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেল যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেই, তখন থেকে একটা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে যে হাসিনার দলের ভোট কাদের অনুকূলের যাবে? বিএনপি, জামাত, এনসিপি – সকলেই ওই দলের ভোট নিজেদের অনুকূলে টানার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যে দুজনের কথা এখানে বলা হল তারা আসলে বড়ো রকমের দ্বিধায় পড়ে গিয়েছেন। তাই, আওয়ামী লীগের ভোটারদের মন পেতে তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসিনার দলের হয়ে সওয়াল করছেন। তবে বক্তব্যের উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, আওয়ামী লীগের না থাকাটা যে জাতীয় রাজনীতিতে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নয়। এখন প্রশ্ন হল ভোটের আগে বড়ো ধরনের কোনও অঘটন কী ঘটতে চলেছে? শেষ পর্যন্ত কি আওয়ামী লীগকে কোনওভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে দেখা যাবে। এখন প্রশ্ন হল নূর এবং মির্জা ফখরুলের গলায় কেন আওয়ামীর প্রতি দরদ গড়িয়ে পড়ছে। এর মূল কারণ, এরা দুইজনে এমন দুটি কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যে কেন্দ্রে জয় পাওয়াটাই বড় প্রশ্ন। শুধুমাত্র দলীয় সমর্থকদের ভোটে জয় পাওয়া সম্ভব নয়। ভৌট বৈতরণী পার হতে গেলে দরকার আওয়ামীর কর্মীসমর্থকদের ভোট। তাই, হাসিনার প্রতি, হাসিনার দলের কর্মী সমর্থদের জন্য দরদ উথলে পড়ছে। ‘মায়ের চেয়ে মাসির দরদ’ বলতে যা বোঝায়, নূর আর ফখরুলের সেটাই হয়েছে।












Discussion about this post