দুই থেকে তিন ধরে বাংলাদেশে বেশ কিছু ঘটনা ঘটছে। তাতে প্রশ্ন উঠছে, সরকার কি ভয়ঙ্কর কোনও চাপে পড়েছে? নাকি সরকারের যে চিন্তা-ভাবনা, সেগুলি নিয়েই তারা এগিয়ে যাবে? এই প্রশ্নটা আরও বেশি করে উঠছে, তার কারণ সেনানিবাসে সেনাবাহিনীদের নিয়ে একটি দরবার করেছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। যেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি সেখানে জানিয়েছেন, গোটা বাংলাদেশ একটি অরাজকতার মধ্যে রয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত ৯ মাসে বাংলাদেশের প্রায় আড়াইশো টি আন্দোলন হয়েছে। সবগুলোইঅব জাস্টিস আকারে। তার মধ্যে বেশিরভাগ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন ছাত্র নেতারা বা এনসিপি।
অন্যদিকে আদালতের রায়ে, নির্বাচন কমিশন ইশরাক হোসেনের মেয়র হিসাবে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা হয়েছিল রিট । সেই রিট খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। পর্যবেক্ষণ- সহ আদেশ দেওয়া হয়। এটি আবার একটি উপদেষ্টা মানেন না। সেখানে নাকি ১০ দফা অনিয়ম। কিন্তু সেখানে অনিয়ম কিছু পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশন তো উচ্চ আদালতের কাছে দায়বদ্ধ। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি কোনওভাবে রায়ে অসন্তুষ্ট হয়, তবে আদালতেই ফিরে যাওয়া উচিত।
এদিকে মানবিক করিডোর নিয়ে সরকারের তরফে প্রথমে বলা হয়েছিল, এটি নীতিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান স্পষ্ট করে যে বক্তব্য রেখেছেন, তাতে স্পষ্ট সেনাপ্রধানের মত ছিল না। এছাড়াও সেনাপ্রধান নির্বাচন থেকে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। তাতে অনেকে বলছেন, দেশের অরাজক পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী যে চুপ থাকবে না, সেটা আগেই জানা ছিল। এছাড়াও বন্দর নিয়েও বেশ কিছু কথা বলেছেন সেনাপ্রধান। শুধু তাই নয়, নির্বাচন নিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যেই ডেড লাইন বেঁধে দিয়েছেন সেনাপ্রধান। তিনি আগেও বলেছিলেন, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন করতে হবে এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে। আর সেই কথাতেই অনড় রয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার। আর এটাই চাপে পড়েছেন মোহম্মদ ইউনূস। কারণ দশ মাস ক্ষমতায় থাকার পরও নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট কোনও ধারনা দিতে পারেননি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। তবে তার চাপ আরো বেড়েছে, যখন সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যের পর পরদিন বিএনপি জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনও মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন তারা প্রত্যাহার করে নিতে পারে। বিএনপি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে। ফলে তাদের যেকোনও প্রতিক্রিয়া জোরালো হবে সেটাই স্বাভাবিক। আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে তারপরেই মুহাম্মদ ইউনুস পদত্যাগ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। অনেকে বলছেন, এই জটিল পরিস্থিতিতে সামাল দিতে না পেরে তিনি পদত্যাগ করতে চাইছেন। আবার অনেকে বলছেন, এতদিন ছাত্র নেতাদের দিয়ে সমস্ত কার্যসিদ্ধি হয়ে যাবার পর, তাদের বলির পাঠা করে নিজে পালিয়ে যেতে চাইছেন।












Discussion about this post