বাংলাদেশে ফের মব। কোনওভাবেই থামানো যাচ্ছে না। আদালত প্রাঙ্গণে মব নিয়ে নানা কথা উঠেছিল। সেটা যেমন ঠেকানো যাচ্ছে না, তেমন গোটা দেশের অন্দরে মব ঠেকানো যাচ্ছে না। সেনাবাহিনীর অভিযানের পরও এই মব থামানো যাচ্ছে না। তবে কি সেনা অভিযানের কোনও গাফিলতি দেখা যাচ্ছে, নাকি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এই মবের সংস্কৃতি? খবর রয়েছে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রংপুরের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, আগুন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আর সেই কাজটি বৈষম্য বিরোধী আন্দনের ব্যানারে। এর পিছনে এনসিপি রয়েছে বলে অভিযোগ জাতীয় পার্টির। কিন্তু কেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বাড়িতে এভাবে ভাঙচুর, আগুন দেওয়া হল? উঠছে প্রশ্ন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্দরে এই মব কতদিন চলবে, সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই ঘটনাটি বাংলাদেশ বর্তমান সরকারের ভূমিকা নির্বিকার। তবে কি সেনাবাহিনী কোনও পদক্ষেপ করবে? গাজীপুরে বৈষম্য বিরোধী এক নেতাকে আটক করা হয়েছে। সেটার পিছনে রয়েছে পাট ব্যবসার ঝামেলা। তারপরই দেখা গেল জাতীয়পার্টির চেয়াম্যানের বাড়ি ভাঙচুর করে অগ্নি সংযোগ করা হল। কিন্তু এরকম পরিস্থিতি আর কতদিন এই দেশে?
সেনাপ্রধান বারবার বলে আসছেন, মব সহ্য করা হবে না। কিন্তু তার প্রমাণ তো পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত দেশ যে অস্থির অবস্থায় রয়েছে, সেটাই প্রমাণ করছে। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে এনসিপিআর নেতারা একটি মিছিল করেছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কে গ্রেফতার করতে হবে। আর সেই মিছিল থেকেই নাকি তার বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, আক্রমণ করা হয়েছে। এই অভিযোগ করতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। কারোর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তার প্রতিক্রিয়া জানানোর উপায় রয়েছে। কিন্তু এই মব করে আর কতদিন? তবে কি সরকার,প্রশাসন, সেনাবাহিনীর থেকে যারা মব করছে তাদের শক্তি বেশি? এদিকে সার্জিস আলমের বক্তব্যে উঠে এসেছে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বাইরে থাকে কি করে? এখানেই প্রমাণ করে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জেএম কাদেরের বাড়ি যে ভাঙচুর করা হয়েছে তার পিছনে এনসিপি রয়েছে। এরপর কি কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে সরকারের পক্ষ থেকে? অনেকে বলছেন, এই কাজ যে ঘটানো হয়েছে তার প্রমাণ যথেষ্ট পরিমাণে থাকার কথা। সিসিটিভি ফুটেজ নিশ্চয়ই ছিল। এবং সেখান থেকেই দোষীদের চিহ্নিত করা সম্ভব। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কে কোনও পদক্ষেপ করবে সরকার? নাকি দেখেও না দেখার ভান করবে তদারকি সরকার?
দেশে যখন বারবার নির্বাচন প্রসঙ্গ তোলা হচ্ছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচন হোক এটা চাইছে গোটা দেশের মানুষ, তখন দেশ আরো বিশৃঙ্খল জায়গায় পৌঁছাচ্ছে। আসলে স্থায়ী সরকার যে প্রয়োজন এটা এখন বারবার প্রমাণিত। দেশের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিতে যাওয়া উচিত। যেমনটা সেনাবাহিনীও বলেছিল। না হলে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোর নেবে। পাশাপাশি সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আসতে শুরু করবে। ইতিমধ্যেই যেটা শুরু হয়ে গিয়েছে।
এদিকে আব্দুল হান্নান মাসুদ মব সৃষ্টি করা ব্যক্তিদের ধানমন্ডি থানায় ছাড়িয়ে আনতে গিয়েছিলেন। যখন প্রচুর সমালোচনা হয়েছিল, তখন তার দল থেকে শোকজ করা হলো। শোকদের উত্তরে আব্দুল হান্নান মাসুদ বললেন, তার ভুল হয়েছে। তারপরই দল শোকজ তুলে নিল। আসলে এই ধরনের ঘটনার কতদিন চলবে? এই প্রশ্নটাই উঠছে। এর পাশাপাশি সরকারের কি ভূমিকা? সেনা কি করছে? আসলে দেশের পরিস্থিতি কোনো দিকে গড়াচ্ছে, সেই নিয়েই প্রশ্ন তুলছে গোটা বাংলাদেশ।












Discussion about this post