বাংলাদেশে নির্বাচন প্রসঙ্গ তুললেই শুনতে হয় ভারতের দালাল। ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরের ও বিভিন্ন দেশ দ্রুত নির্বাচনের কথা বললেও শুধু ভারতের ট্যাগ লাগানোর নতুন কৌশল দেখা যাচ্ছে পদ্মা পাড়ের রাজনীতিতে। কিন্তু রাজনৈতিক সরকারেরকে এই ধরনের রাজনীতি করতে দেখা গেলেও অন্তর্বর্তী সরকার যে রাজনৈতিক নিরপেক্ষ সরকার হিসেবে শাসনকার্য চালায়, এরকম একটি সরকারকে এই প্রথম এই ধরনের রাজনীতি করতে দেখা গেল নতুন বাংলাদেশে। ফলে সরকারকে নিরপেক্ষ সরকার বলা যায় কিনা সেই প্রশ্নটাও উঠছে আন্তর্জাতিক স্তরে।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত নির্বাচনের কথা বললেই সে ভারতের দালাল, র এর এজেন্ট এই ধরণের প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা, সরকার ঘনিষ্ঠ সংগঠন ও বিদেশে বসে থাকা সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের তরফে দাবি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় নির্বাচন। সেদেশের নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহল বিভিন্ন স্তরের তরফে নানা রকম মতামত প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু ভারত বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানানোর পর থেকেই, যারা এই নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে তাদেরকেই ভারতের দালাল ট্যাগ লাগানো হচ্ছে, আবার যারা বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান নিয়ে বা তার ইতিহাস নিয়ে কথা বলছেন তাদের আওয়ামী লীগের দালাল, ফ্যাসিবাদের দালাল ট্যাগ লাগাচ্ছে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি। আর এটাক লাগানো রাজনীতি তোকে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কবে বেরোতে পারবে? প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের অন্দরে।
এই প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু জানিয়েছেন, নির্বাচনের কথা বললেই ভারত ও আওয়ামী লীগের দালা’ল বানিয়ে দিচ্ছে। আবার এই প্রেক্ষিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, কিছু দল ভারতের সাথে সুর মিলিয়ে ডিসেম্বরেই নির্বাচন চায়। তাদের বক্তব্যের সাথে ভারতের বক্তব্যের কোনো পার্থক্য নেই। অন্যদিকে, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ডিসেম্বরে নির্বাচন চাইলে যদি ভারতের সুরে কথা বলা হয়, তাহলে যারা নির্বাচন পেছাতে চায় তারা নিশ্চয়ই যুক্তরাষ্ট্র কিংবা চীনের সুরে কথা বলছে।
অর্থাৎ বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট তিনি উর্দু দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ট্যাগ লাগাচ্ছেন নির্বাচনের বিপক্ষে যারা তাদের। অর্থাৎ সেই দেশ এখনো এই ট্যাগের রাজনীতি থেকে বেরোতে পারেনি।
আবার মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুললে বা মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার প্রতিবাদ জানালে তাদের আওয়ামী লীগের দালাল আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতোর মালা পরানোর ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে আবার স্মৃতিসৌধে বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাকে আক্রমণ করার ঘটনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা করাসহ এই সমস্ত ঘটনারপ্রতিবাদ যারা করছে এবং বঙ্গবন্ধু আর শেখ হাসিনা এক নয় সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা করলে তাদের ফ্যাসিস্ট এর দালাল শুনতে হচ্ছে। তবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বললে যদি এই ধরনের তকমা পেতে হয় তবে কি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করতে চাইছে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান কান্ডারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অস্বীকার করতে চাইছে এবং গোটা বাংলাদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঐতিহ্য সংবিধান সব মুছে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, জল্পনা এখন দেশেরই অন্দরে।












Discussion about this post