মঙ্গলবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তা হালুক গোরগুন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন সামরিক নেতৃত্বের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প সচিব হালুক গোরগুন বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে কারিগরি সহায়তা দেওয়া এবং কৌশলগত সবধরণের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। সেই সঙ্গে এও জানানো হয়েছে, তুরস্ক বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি এবং অস্ত্র কারখানাগুলি উন্নত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন। এর পিছনে যথেষ্ট যুক্তিও আছে। কারণ, এপ্রিলে যখন পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হল, তার পর ভারত পাকিস্তানের মাটিতে অপারেশন সিঁদুর পরিচালনা করে। পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গিঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনী। এরপরই পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালানোর চেষ্টা করে। বেঁধে যায় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চারদিনের যুদ্ধ। ভারত পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছিল পহেলগাঁও হামলার প্রায় দিন পনেরো পর। কিন্তু ভারত যে কড়া পদক্ষেপ নেবে, সেটা আন্দাজ করেছিল বিশ্বের বহু দেশ। কিন্তু দেখা যায়, তুরস্ক প্রকাশ্যেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে ইসলামাবাদকে অত্যাধুনিক ড্রোন এবং অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে। যা তাঁরা ভারতে হামলা চালানোর জন্য ব্যবহারও করে। স্বাভাবিকভাবেই এটা ভারত সরকার ভালোভাবে নেয়নি। অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী সময় ভারত তুরস্কের ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়। এতে তুরস্কের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। মনে করা হচ্ছে, তুরস্কের রাষ্ট্রপতি এরদোগান এবার ভারতকে চাপে ফেলার কৌশল হিসেবেই পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশকেও বেছে নিয়েছেন।
বেশিদিন আগের কথা নয়, ২০২৩-এ তুরস্কে ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময় সে দেশের নাগরিকদের উদ্ধার করতে এবং মেডিকেল সহায়তা দিতে সবার প্রথম দেশ হিসেবে ভারত শুরু করেছিল ‘অপারেশন দোস্ত‘। সেবার ভারত আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি-সহ একাধিক উদ্ধারকারী দল এবং কয়েকটি মেডিকেল টিম পাঠিয়েছিল প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও অ্যাম্বুলেন্স। সেই তুরস্কই ভারতের সঙ্গে বেইমানি করল অপারেশন সিঁদুরের সময়। যদিও তুরস্কের ড্রোন বা অস্ত্র কোনওটাই ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে ধোপে টেকেনি। কিন্তু তুরস্কের একনায়ক প্রেসিডেন্ট এরদোগানের আঁতে ঘা লাগার পক্ষে যথেষ্ট। এরদোগান মুসলিম বিশ্বে নিজেকে মুকুটহীন সম্রাট ভাবতে শুরু করেছেন। তাই তিনি এবার দক্ষিণ এশিয়ার দিকে নজর দিয়েছেন। তাঁর মূল লক্ষ্যই হল ভারত। আসলে পাকিস্তানের পর এবার বাংলাদেশের দিকে হাত বাড়িয়ে তলে তলে ভারত-বিরোধী জিগির তুলতে চান এরদোগান। আর ভারতের চিন্তার প্রধান কারণ হল বাংলাদেশের জামাতের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলিকে তুরস্কের খুল্লামখুল্লা সমর্থন। সেই তুরস্কই এবার বাংলাদেশের মাটিতে অত্যাধুনিক অস্ত্র কারখানা এবং ড্রোন নির্মাণকেন্দ্র তৈরি করতে চাইছে। এটা যে ভারতকেই চাপে ফেলতে সেটা বুঝতে কারও অসুবিধা হওয়ার নয়।
সম্প্রতি, ভারত-মায়ামনার সীমান্তে তুরস্কের নজরদারি ড্রোন দেখতে পাওয়া গেছে। যেমনটা অপারেশেন সিঁদুরের সময় পাকিস্তান সীমান্তে তুরস্কের ড্রোন গুলি করে নামায় ভারতের সেনা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সন্দেহ, বাংলাদেশি সেনা তুরস্কের ড্রোনগুলি পরীক্ষা করে দেখছিল। দিল্লির মাথাব্যথার কারণ আরও রয়েছে, যেমন ইসলামিক রাষ্ট্রের প্রতি তুরস্কের ঘোষিত সমর্থন। পাকিস্তানকে যেমন তাঁরা অস্ত্র ও ঘাতক ড্রোন দিয়ে সাহায্য করেছিল। এবার বাংলাদেশেও অত্যাধুনিক অস্ত্র কারখানা তৈরির চেষ্টায় এরদোগান। ঢাকা সূত্রে খবর, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার আশ্বাস মিলেছে তুরস্কের তরফে। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে দুটি ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন তৈরির চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে এবারের বৈঠকে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরের আশেপাশে তুরস্কের চোখে পড়ার মতো কোনও উপস্থিতি নেই। কিন্তু বাংলাদেশে তুরস্কের সহযোগিতায় ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন তৈরি হলে এটাই হবে তুরস্কের প্রথম বড় পদক্ষেপ। যা ভারতের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য যথেষ্টই চিন্তার কারণ। জানা যাচ্ছে, নয়া দিল্লি মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিটি পদক্ষেপের দিকে কড়া নজর রাখছে। এমনকি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সমস্ত পরিকল্পনাও সাড়া হয়ে গিয়েছে দিল্লির সাউথ ব্লকে।











Discussion about this post