বাংলাদেশ এই মুহূর্তে এক গৃহ যুদ্ধের সম্মুখীন। শুরু হয়েছে নির্বাচন নিয়ে তুমুল চর্চা। কিন্তু সেদেশে শাসক হিসাবে দাবি করার পরিস্থিতিতে নেই কোনও দল। আওয়ামীলীগ থেকে বিএনপি বা জামাত থেকে এনসিপি প্রতিটি দলই একই পরিস্থিতির শিকার। কারণ বাংলাদেশে এখন কেউই নির্বাচিত সরকার নয়। তারপরও বাংলাদেশে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিনিয়ত ভারত বিরোধিতা করেছে। কিন্তু ভারত এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসাবে থেমে থাকেনি। শুরুতে স্থলপথে বাংলাদেশের বাণিজ্য বন্ধ করার পর জলপথ বন্ধ করার সিদ্ধান্তের দিকেও এগোতে পারে ভারত। আর এরপর স্বাভাবিকভাবেই আকাশ পথেও তা বন্ধ হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
১৯৯৬ এ ভারত বাংলাদেশ গঙ্গা জল চ্যুক্তি শেষ হয়ে ফের সেই চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও সেটি আদৌ আর সম্ভব কিনা তা নিয়ে বড়োসড়ো প্রশ্ন চিহ্ন উঠে এসেছে। বাংলাদেশের প্রত্যাশা এর এই চুক্তি পুনঃ বিবেচনা করা হবে কিন্তু তাদের সে গুঁড়ে বালি। বাংলাদেশ থেকে একের পর এক সুবিধা ছিনিয়ে নেবে ভারত। আর এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ, চীন বা পাকিস্তানের দিকে ঝোকার চেষ্টা করবে। কিন্তু ভারত বা একের পরে কূটনৈতিক চালের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিচ্ছে ভারত কখনোই সেনা বাহিনী পাঠিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের প্রস্তুতি নেবে না। বাংলাদেশকে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে অর্থাৎ চাপে ফেলে এবং পরিবর্তন সরকারের সঙ্গে ভারতের যে সকল চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল সমস্ত চুক্তি স্থগিত রেখে অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশকে সর্বস্বান্ত করার নয়া উদ্যোগ নিয়েছেন ভারত সরকার।
অর্থাৎ ভারতের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গৃহযুদ্ধ শুরু হতে চলেছে। কারণ বাংলাদেশের ছাত্র নেতারা জুলাই সনদ ঘোষণা করলে তবে বাংলাদেশের সংবিধান শেষ হয়ে যাবে। আর সংবিধান ধ্বংস হলে সে দেশ আরও বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্মুখীন হবে ফলে সেটি আর বাংলাদেশ নয় পূর্ব পাকিস্তানে পরিণত হবে। জামাতের আমিরের তরফে বলা হয়েছে ২০২৬ এর আগে বাংলাদেশের নির্বাচনের কোন প্রয়োজন নেই। কারণ এই মুহূর্তে বাংলাদেশের নির্বাচন হলে জামাত বা তার ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলি কখনোই ক্ষমতায় আসতে পারবে না ফলে যতদিন অন্তর্ভুক্তির সরকারের মদতে দেশে নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপন করা যায় তত দিনই এই সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সুদিন। কিন্তু মোঃ ইউনুছ সহ তার ঘনিষ্ঠ সংগঠন গুলির এই পরিকল্পনা গুলি যদি এখনো বুঝতে না পারে সাধারণ জনগণ তবে তাদের দেশের জন্য তা অত্যন্ত ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করবে। এখন বিশেষজ্ঞদের দাবি গত বছর ৫ আগস্ট যেভাবে গণঅভ্যাউত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানো হয়েছিল ঠিক একইভাবে চলতি বছর ৫ আগস্টের যদি আরও একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইউনুস ও তার ঘনিষ্ঠদের উৎখাত করতে পারে সাধারণ জনগণ তাতেই দেশ ও জাতির মঙ্গল।











Discussion about this post