প্রতিবেদনের সূত্রে সোনার কেল্লার বিখ্যাত এই সংলাপের উল্লেখ করতে হয় – “সেই দুষ্টু লোকটা ভ্যানিশ।” সোনার কেল্লার লোকটা যে দুষ্টু ছিল না, তা পরে প্রমাণিত হয়। আর সংবাদ শিরোনামে যার কথা বলা হয়েছে, তিনিও দুষ্টু কি না, তা নিয়ে তর্ক হতেই পারে। তবে বাংলাদেশ নির্বাচনের পর তিনি আশ্চর্যরকমভাবে ভ্যানিশ। কোথায় গিয়েছেন, তা কোউ জানে না। তবে তাঁর এই গোপনীয়তা জন্ম দিয়েছে একাধিক জল্পনার। প্রশ্ন উঠছে, তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে এখন সব থেকে বেশি আলোচিত নাম মুহাম্মদ ইউনূস। আলোচনার কারণ ভোটের পর থেকে তিনি আশ্চর্যরকমের নীরব। তাঁর এই নীরবতা জন্ম দিয়েছে একাধিক প্রশ্নের। তিনি কি বন্দি আছেন গোপন কোনও কক্ষে? এমনই সব প্রশ্ন যখন জনমনে দেখা দিয়েছে, তখন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এল। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ড. মুহাম্মদ ইউনুস যেন আচমকাই হারিয়ে গিয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর কিছু পুরনো ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেই সব ছবি দিয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশেই আছেন। এখানেই তিনি থাকবেন। আগামী সপ্তাহ থেকে তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইউনূস সেন্টারের কাজ শুরু করবেন। সেখানে তিনি তাঁর বিখ্যাত থ্রি জিরো ধারণা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন। আগামী মার্চে তিনি জাপান যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী ও “ ফাউন্ডেশন ফর এনকারেজমেন্ট অব সোশ্যাল ”-য়ের প্রধান আকি আবে। গত ১১ জানুয়ারি দুপুরে আকি আবে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় যান। আকি আবে বর্তমানে বাংলাদেশে তাঁর প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে বাংলাদেশে রয়েছেন। সাক্ষাৎকালে আকি আবে তাঁর প্রয়াত স্বামী শিনজো আবের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও আন্তরিক সম্পর্কের স্মৃতি চারণা করেন। সাক্ষাত তিনি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রধান উপদেষ্টার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কাজের ধরন সম্পর্কে জানতে চান। তিনি ইউনূসকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানান। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি জাপান যাবেন। সাসাকো ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণ আয়োজিত আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে যোগ দেবেন। এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত সমুদ্র গবেষণা নিয়ে কাজ করে। ওই সফরে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত ও গবেষণামূলক সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা বলে আশা করা হচ্ছে।
ইউনূস জানিয়েছেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তিনি মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর কাজ করবেন। প্রথমত ডিজিটাল স্বাস্যসেবা উন্নয়নে কাজ করা হবে। যাতে দেশের নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের পরিবারের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য জানতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারেন। দ্বিতীয়ত, তরুণদের উন্নয়ন ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত থাকবে বলে জানান ড. ইউনূস। তৃতীয়ত, এসডিজি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও তিনি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে চান। গুলশনের বাসভবনে সংস্কারকাজ চলছে। তাই, তিনি স্ত্রী ও সন্তাসহ রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনাতেই রয়েছেন। সংস্কার শেষ হলে তিনি নিজের বাড়িতে ফিরে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ইউনূসকে নিয়ে চলেছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিশেষ করে তাঁর রাষ্ট্রপতি হওয়া নিয়ে এখন বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে তুমুল আলোচনা চলছে। তাঁর রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা কতটা? অনেকের ধারণা, রাষ্ট্রপতি পদে আশীন হওয়ার জন্যই প্রাক্তন তদারকি সরকার প্রধান বাংলাদেশেই রয়েছেন। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা খন্দকার মুশারফ হোসেন।












Discussion about this post