বাংলাদেশের ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, বদলে যাচ্ছে জাতীয় রাজনীতির চিত্র। এই ভোট আওয়ামী লীগ নেই। আর এই না থাকা নিয়ে গত কয়েক মাসে কম জলঘোলা হয়নি। দলনেত্রী হাসিনাকেও যেমন মুখ খুলতে দেখা যায়, মুখ খুলেছিলেন দলের অন্যান্য নেতারাও। হাসিনা তো তদারকি সরকারের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, যে সরকারের কোনও সাংবিধানিক বৈধতা নেই, যে সরকার জনগণের ভোটের দ্বারা নির্বাচিত নয়, সেই সরকার আওয়ামী লীগের মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারে না কি? দলের তরফ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন প্রচার চালানো হচ্ছে, ‘যে নির্বাচনে নৌকা নেই, সেই নির্বাচনে ভোট নয়’। আওয়ামী লীগের ১৪ দলীয় জোটের শরিকেরাও এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্র দলের কর্মীসমর্থকদের একটা অংশ হয়তো ভোট দিতে যাবে না।
দেশের ক্রিয়াশীল প্রায় সব রাজনৈতিকদল প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগকে গণহত্যার দায়ে নির্বাচনের বাইরে রাখার পক্ষে অবস্থান নিলেও ওই দলের সমর্থকদের ভোট নিজেদের অনুকূলে টানার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই নিয়ে তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে নীরব প্রতিযোগিতা। বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি সহ একাধিক দল মনে করছে, নিজেদের সমর্থকদের বাইরে আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারদের পক্ষে টানতে পারলে সেটা জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।ফলে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের ভোট টানতে নানা কৌশল নিচ্ছে দলগুলো। কোথাও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের দলে ভেড়ানো, কোথাও মামলা-নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর পক্ষ থেকে। ভোটের প্রচার শুরু হলে আরও নানা কৌশল দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশে ১৯৯১ থেকে ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনকে সব দলের অংশগ্রহণ করায় ওই সব বছরের নির্বাচনগুলিকে গ্রহণয়োগ্য নির্বাচন হিসেবে ধরা হয়। ওই চারটি নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় হাসিনার দল ৯১-য়ের নির্বাচনে তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ৩০.০৮%, ৯৬-য়ের ভোটে ৩৭.৪৪%, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ৪০.১৩%। ২০০৮-য়ের নির্বাচনে তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৪৮.০৪%। এর পর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনই ছিল ব্যাপক কারচুপিপূর্ণ ও প্রশ্নবিদ্ধ। গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগের পতনের পর এখন তাদের ভোট আসলে কত – সেটা কারও পক্ষে বলা সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক সূত্রগুলি বলছে, আওয়ামী লীগের ভোট কারা পাবে, তা নির্ভর করছে বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর। প্রথমত আওয়ামী লীগের আদর্শের কাছাকাছি কোনও প্রার্থী থাকলে হাসিনার দলের ভোট তাঁর অনুকূলে যাবে। দ্বিতীয় বিষয়টি হল নির্দিষ্ট আসনে ভোটারদের সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রার্থীর সম্পর্কের ওপর নির্ভর করবে। তৃতীয়ত, ২০২৪-য়ের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রার্থী বা তাদের কর্মীরা আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর কতটা বৈরি আচরণ করছে সেটাও বিবেচনায় থাকবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহাউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ‘আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবে প্রমাণিত। দলের শীর্ষনেতা শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এবং সাজাপ্রাপ্ত। আমাদের বিশ্বাস ওই দলের সমর্থকদের মধ্য চেতনার উদয় হয়েছে। ফলে, দেশপ্রেমিক লোকজন বিএনপির মতো স্বাধীন ঘোষকের দল, দেশপ্রেমিকদের পক্ষে চলে আসবে। গ্রামীণ পর্যায়ে সামাজিক রিকনশিলেয়শন হয়ে গিয়েছে। তবে শহরে হয়তো ততটা হয়নি। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দলমত নির্বিশেষে সবাই এখন ভোটের দিকে যাচ্ছে।’
বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর দিক থেকে আওয়ামী লীগের ভোট টানার চেষ্টাকে ইতিবাচক ভাবেই দেখছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আবিদ। তবে যে প্রক্রিয়ায় সেটা করা হচ্ছে, তা নিয়ে তাঁর প্রবল আপত্তি রয়েছে।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post