নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কারণে ভারতে টি-টয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্রিকেটে দল পাঠাতে রাজি নয়। এই বাংলাদেশই আবার ভারতে এশিয়ান রাইফেল ও পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে তাঁদের শ্যুটারদের পাঠাচ্ছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে অন্য এক বিতর্ক। বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দিন সাতেক আগেই বলেছিলেন, ভারতে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার জেরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে টি-২০ বিশ্বকাপে খেলতে না আসার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আসিফ নজরুল এ দাবিও করেছিলেন যে এই নিরাপত্তার ঝুঁকি কোনও বায়বীয় ঘটনায় তৈরি হয়নি, এটা বাস্তবেই তৈরি হয়েছে। তাই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারতে খেলতে যাবে না। এরপর বাংলাদেশের ক্রিকেট দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসি।
এত হম্বিতম্বির পর সেই ভারতেই বাংলাদেশের শ্যুটিং দলকে আসার অনুমতি দেওয়া হল। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ সরকারের এই ভোলবদল নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ক্রীড়ামহলে নতুন করে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। ২ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে এশিয়ান রাইফেল অ্যান্ড পিস্তল শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬, সূত্রের খবর বাংলাদেশের যুব ক্রীড়া মন্ত্রক তাঁদের শ্যুটিং দলকে নয়াদিল্লিতে আসার অনুমতি দিয়েছে। ফলে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কয়েকদিন আগেই ভারত সম্পর্কে বলা মন্তব্যের স্ববিরোধিতা নিয়ে চলছে হাসাহাসি। যার মন্ত্রণালয় কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ভারতে খেলতে আসতে বাধা দিয়েছিল, এবার তাঁরাই বাংলাদেশের শ্যুটিং দলকে ভারতে আসার অনুমতি দিল। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এখন ভারতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছে না বাংলাদেশ? এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এক কর্তার দাবি, বাংলাদেশ শ্যুটিং দলে একজন মাত্র অ্যাথলিট এবং একজন কোচ আছেন। ফলে খুব ছোট দল। তাছাড়া আয়োজকরা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না। কারণ এই প্রতিযোগিতা হবে ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। সেখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে বলেই মনে করছেন তাঁরা।
কিন্তু বাংলাদেশের ক্রীড়া ও রাজনৈতিম মহলে প্রশ্ন, ভারতে যেখানে বিশ্বের তাবড় তাবড় দেশ খেলতে আসছে তাঁরা কেউ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। তবে পাকিস্তান আগেভাগেই ভারতে খেলতে আসবে না বলে দরবার করেছিল আইসিসির কাছে। গত বছর এশিয়া কাপে ভারতও পাকিস্তানে খেলতে যায়নি, ফলে ম্যাচগুলি আয়োজক পাকিস্তান থেকে সরিয়ে দুবাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এবারও তাই টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সমস্ত ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিয়েছে আইসিসি। কিন্তু সমস্ত সূচি ঠিক হওয়ার পর, আয়োজন সমাপ্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ ভারতে না খেলতে আসার আবদার জানায়। যা কোনও ভাবেই মেনে নেয়নি আইসিসি। তাই তাঁদের শাস্তি পেতে হল। এ বিষয়ে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ এবং প্রাক্তন ক্রিকেটারদের বক্তব্য, আখেড়ে ক্ষতি হল বাংলাদেশ ক্রিকেটের। কারণ, বাংলাদেশ এখন বিশ্ব ক্রিকেটে উদিয়মান একটি দল। গত টি-২০ বিশ্বকাপেও তাঁরা শেষ আটে পৌঁছেছিল। এবারও একটা আশা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের কথায় নেচে, একগুয়েমি মনোভাব দেখিয়ে ভারতের সঙ্গে পাঙ্গা নিতে গিয়ে পাঁকে ডুবতে হল বাংলাদেশ ক্রিকেটকে। তাঁদের যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে, তেমনই পরবর্তী সময় আরও কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, নিরাপত্তার অজুহাতে যখন ক্রিকেট দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, তাঁরাই এবার শ্যুটিং দলকে ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল। এতেই সামনে চলে এল তাঁদের ডবল স্ট্যান্ডার্ড গেম।












Discussion about this post