জাতীয় নাগরিক পার্টির সকল দাবি যেন শিরোধার্য অন্তর্বর্তী সরকারের। কারণ বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে বা অন্তরালে এই দলটি যা যা দাবি জানিয়েছে তা সবটাই আনুষ্ঠানিকভাবে পূরণ করা হচ্ছে সরকারের তরফে। ফলে আকাশ ছোঁয়া ঔদ্ধত্য এখন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির। ইতিমধ্যে সংস্কার ইস্যুতে প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য কমিশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির বৈঠক সম্পন্ন হয়। আর সেখানেই বিএনপি নেতাদের সঙ্গে এনসিপির নেতাদের ভিত্তিহীন তর্ক, আক্রমন শুরু হয়েছে।
এদের প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যে বৈঠকটি সম্পন্ন হল সেখানে বিএনপি’র তাই কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ এর বক্তব্যের একটি অংশে, বলা হয় বিএনপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে চলতি বছর 31 ডিসেম্বরের পর আর একটি দিনও অপেক্ষা করতে রাজি নয়। সংবিধান সংশোধন ছাড়া, অন্যান্য প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গুলি, এক মাসের মধ্যেই সংশোধন করা সম্ভব। ফলে চলতে বছর ডিসেম্বরে নির্বাচন করা নয় আর কোন বাধা থাকছে না।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি র আহ্বায়ক নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কিছু দল ভারতের কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে ডিসেম্বরেই নির্বাচন চায়। তাদের বক্তব্যের সঙ্গে ভারতের বক্তব্যের পার্থক্য নেই। তারা ভারতের সুরেই নির্বাচনের কথা বলছে।’
এনসিপির এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ডিসেম্বরে নির্বাচন চাইলে যদি ভারতের সুরে কথা বলা হয়, তাহলে যারা নির্বাচন বিলম্ব করতে চায়, তারা নিশ্চয়ই যুক্তরাষ্ট্র কিংবা চীনের সুরে কথা বলছে।’
তবে এই বৈঠকের পর, বিএনপি আশাবাদী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের সম্ভব নিয়ে। নির্বাচন নিশ্চিত করতে যেসব সংস্কার দরকার, বিশেষ করে নির্বাচনী সংস্কার, সেগুলো চিহ্নিত করে সম্মতির ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করাও জরুরি বলে দাবি দলটির। অন্যদিকে এনসিপি দাবি করছে, জুলাই সনদের বাস্তবায়নের আগে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা ঠিক হবে না। আগেভাগে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে সংস্কার প্রক্রিয়াতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
উল্লেখ্য, ঐক্যমত কমিটির বৈঠকে মূলত সংস্কার নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে এটা রূপান্তরিত হয়, নির্বাচনের সময়কাল বিতর্কে।












Discussion about this post