বাসে বা ট্রেনে, হাটে বা বাজারে – এককথায় সর্বত্র কিছু মানুষ থাকেন, যাঁরা পায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে পা লাগিয়ে ঝগড়া করতে বেশ ভালোবাসেন। মানে, এরা নিজেরা শান্তিতে থাকবে না অপরকেও শান্তিতে থাকতে দেবে না। এটা করেই তাদের আনন্দ। অন্যের সুখ দেখলে তাদের গা জ্বালা ধরে। রাতে ঘুমোতে পারে না। দিনে ভালো করে খেতে পারে না। মাঝে মধ্যে চোরা চোরা ঢেকুর ওঠে। তার জন্য আবার বাজারে অম্বলের যে রকমারি জড়িবুটি আছে, সেটা আবার কেউ জলে গুলে খান। কেউ আবার গলায় মাদুলি করে রাখতে ভালোবাসে।
এখনকার বাংলাদেশের অবস্থা খানিকটা তেমনই। দেশটা যে রসাতলে চলে গিয়েছে, তা আর নতুন করে বলার দরকার হয় না। দায়িত্ব নিয়ে দেশটাকে অর্ধেক পদ্মার জলে আর অর্ধেক মেঘনার জলে ডুবিয়ে দিয়েছেন নোবেল ম্যান ইউনূস। এবার চাইছে ভারতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে। তার জন্য মহামান্য নোবেলজয়ী পাকিস্তানের সঙ্গে এক থালায় খাওয়া-দাওয়া করতে শুরু করেছে। সাউথব্লক কিন্তু সব দেখছে। বারে বারে বলেছে সংযত হতে। ভদ্র হতে। কিন্তু কথায় আছে না – চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী। তো চোরকে যতই বল চৌর্যবৃত্তি থেকে বিরত থাকতে, চোর কি সে কথা শুনবে। নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের একটি ঘটনার নিরিখে এই গৌড়চন্দ্রিকা। কী হয়েছিল সেখানে?
ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার ৩০ নভেম্বর। কৃষ্ণগঞ্জে বিএসএফের ওপর চড়াও হয় কয়েকজন বাংলাদেশি। তাদের হাতে ছিল ধারাল অস্ত্র। সেই অস্ত্র দিয়ে কর্তব্যরত বিএসএফের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার জন্য বিএসএফ গুলি চালালে একজনের মৃত্যু হয়। কিছুদিন আগে উত্তরবঙ্গে মালদায় সীমান্তের কাছে একই ঘটনা ঘটে। কৃষ্ণগঞ্জের ঘটনায় জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার মাটিয়ারি সীমান্তচৌকির কাছে। সেখানে বিএসএফের ৩২ নম্বর ব্যাটিলিয়নের জওয়ানরা টহল দিচ্ছিলেন। বিকেলের দিকে ওই এলাকায় ছয় থেকে সাতজন ঘোরাঘুরি করতে থাকে। হাতে ছিল প্লাস্টিকের বান্ডিল। তারা সেগুলি সীমান্তের অপরপ্রান্তে ছুঁড়ে ফেলার চেষ্টা করে। কর্তব্যরত জওয়ানদের তা নজরে পড়ে। তারা শূন্য গুলি চালান। তারপরে তারা পিছু হঠতে অস্বীকা করে। বাধ্য হয়ে জওয়ানরা তাদের দিকে এগিয়ে গেলে ওই দুষ্কৃতীরা ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে বিএসএফ গুলি চালায়। মৃত্যু হয় একজনের। তাদের থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি কাটার, চারটি ধারাল অস্ত্র, ৯৬ বোতল ফেন্সিডিল কাশির সিরাপ এবং দুই বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। ভারত এভাবে কতদিন সহ্য করবে? যে কারণে শুরুতেই বলা হয়েছিল তাদের কথা যাঁরা পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করতে ভালোবাসে।
আমাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং দু’দিন আগে একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন। বলে অপারেশন সিঁদুর ২.০ যে কোনও মুহূর্তে হতে পারে। তার জন্য মানসিকভাবে সকলের প্রস্তুত থাকা দরকার। সাউথব্লক যে কিছু একটা পদক্ষেপ করতে চলেছে, তার একটা ইঙ্গিত গত কয়েক মাস ধরে আমরা পেয়ে এসেছি। শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে। নতুন তিনটি সেনা ছাউনি তৈরি করা হয়েছে, যে তিনটি সেনা ছাউনির খুব কাছেই শিলিগুড়ি করিডোর। চলছে তিন বাহিনীর মহড়া। এখন দেখার, কবে সেনাভবন থেকে আমাদের সিপাহিদের জন্য নির্দেশ আসবে – স্ট্রাইক।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post