সম্প্রতি ভারতের বিশেষ সেনাবাহিনী অত্যন্ত গোপনে কৌশলগতভাবে চিকেন নেক করিডোর বা শিলিগুড়ি করিডোরকে ২২ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার চওড়া করা অপারেশন সফলভাবে সফল করেছে। তবে এই অপারেশনকে সম্পূর্ণ গোপন রেখে অত্যন্ত সুকৌশলে মাত্র ৫ দিনের মধ্যে শেষ করেছে ভারতীয় আর্মি ফোর্স। এমনকি ভবিষ্যতে এই করিডোরকে আরও চওড়া, আরও ৭০ কিমি বা ৮০ কিমি বাড়ানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে ভারতীয় সেনার মিশনটি এখনও চলমান। সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার মুহাম্মদ ইউনূস পাকিস্তানের জেনারেল সাহির শামসাদ মির্জাকে একটি বিতর্কিত মানচিত্র উপহার দিয়েছেন। যেখানে ভারতের সেভেন সিস্টার্সের বেশ কিছু অংশকে বাংলাদেশের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ভারতের সেভেন সিস্টার্সের উপর বাংলাদেশের যে কুনজর পড়েছে, সেটা পরিষ্কার। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও দেখা গিয়েছিল, ভারতের সেভেন সিস্টার্সের উপর নজর রয়েছে বাংলাদেশের। তবে এবার বাংলাদেশের চিকেন নেকের ক্ষেত্রে ভারতের রাতারাতি অ্যাকশন? অনেকে বলছেন, যে অ্যাকশন শুরু করেছে ভারত, তাতে ভয়ে কাঁপছে ইউনূস।
গত বছর ৫ই আগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি বদলেছে। এমনকি রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ক্ষেত্রও পাল্টেছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অবনতি হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে বেড়েছে সখ্যতা। ঘনঘন পাকিন্তানের কর্তারা বাংলাদেশ সফর করছে। এরমধ্যে শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তানের আর্মি চিফ চিকেন নেক পরিদর্শন করেছেন। এখন প্রশ্ন, হঠাৎ করে কেন চিকেন নেক নিয়ে পড়ে গেল পাকিস্তান? অনেকে বলছেন, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ সরকারি ভারতের সঙ্গে পেড়ে না উঠে, ভারতের দূর্বল জায়গাতে আঘাত করছে।
চিকেন নেক, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শিলিগুড়ি করিডোরকে বোঝায়। এটি একটি সরু ভূখণ্ড এবং এটি ভারতের উত্তর পূর্ব অংশ ভারতের বাকি অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করে। এই করিডোরের আকৃতি অনেকটাই চিকেন নেকের মতো। এটি ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া, এই অঞ্চলটির উপরে নজর রয়েছে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের। এমনকি চিন থেকে আমেরিকা, প্রত্যেকের নজর রয়েছে উত্তর পূর্বের এই অঞ্চলটির উপর। এই অঞ্চলটির সরু পথ রেল ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে একমাত্র সড়ক। চা, তেল এবং পর্যটন শিল্পের জন্য সবকিছু এই পথ দিয়ে যায়। এই অঞ্চলটি ভারতের চারটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত যথাক্রমে নেপাল, ভুটান, চিন ও বাংলাদেশ…এই চারটি দেশের মধ্যমণি হয়ে রয়েছে। এমনকি প্রথম থেকে পাকিস্তানের কুনজর রয়েছে এই অঞ্চলটির উপর। তাই ভারতকে বিপদে ফেলতে মজমুদ ইউনূসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। পাকিস্তান, চিন এবং বাংলাদেশ তিনটি দেশের নজর রয়েছে এই অঞ্চটির উপর। এই এলাকাটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখন থেকেই দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশ এবং সিকিমে সামরিক অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ এবং সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এছাড়া ভারত চিন সীমান্তে উত্তেজনার সময়ে অস্ত্র শস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য এই করিডরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের পঞ্চগড় রয়েছে, যেটা বাংলাদেশে থাম্ব বলা হয়, সেটি প্রায় ২৫ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ যদি চিকেন নেকের দিকে নজর দেয়, তবে ভারত কিন্তু বাংলাদেশের ওই অংশটি ধীরে ধীরে নিজেদের আওতায় নিয়ে নিয়েছে। তবে কি এবার চিকেন নেক পরিবর্তিত হয়ে রাইনো নেকে পরিবর্তন হতে চলেছে? এর আগে আমরা দেখেছি, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছিলেন, এর একটি চিকেন রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের দুটি রয়েছে। যদি বাংলাদেশ আমাদের চিকেন নেকে হাত দেয়, তবে বাংলাদেশের দুটি চিকেন নেকে আক্রমণ করব। তবে কি সেই পথেই হাঁটছে ভারত। বলছেন বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post