অনেকেই মনে করেন, আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জন্যই মহম্মদ ইউনূস সিংহাসন পেয়েছেন। শেখ হাসিনা আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করতে পারেনি। তিনি বিপক্ষে চলে যাওয়াতেই ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছে তাকে। অর্থাৎ আমেরিকার ডিপ স্টেটের ষড়যন্ত্র বারবার সামনে এসেছে। তবে যখন আমেরিকার মসনদে ডোনাল্ড ট্রাম্প বসলেন, তখন মনে করা হল মহম্মদ ইউনূসের গোদিচুত্য হতে পারে। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপক্ষে হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে বিশাল অঙ্কের টাকা লগ্নি করার ইতিহাস রয়েছে। মনে করা হয়েছিল, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসতেই ইউনূস সরে যেতে পারেন। সেই আশঙ্কা ইউনূস নিজেও করেছিলেন। তাই তিনি চীনপন্থী হয়ে গিয়েছিলেন। এমনকি পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়া লক্ষ্য করা গিয়েছে। যখন ভারত বিদ্বেষ বাড়তে শুরু করে। তবে করিডোর, বন্দর ইস্যুতে ফের আমেরিকা বাংলাদেশের প্রতি ঝুঁকছে, এমনটা মনে করা হয়েছিল। এদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলছেন, চীন থেকে অনেক কিছু তারা করতে চলেছেন। অর্থাৎ চীনপন্থী হয়ে বহু প্রকল্প তারা করতে চাইছে। কিন্তু যখন আমেরিকার সঙ্গে কাজ করতে চাইছেন ইউনূসের দেশ, তখন চীন যে পাশে থাকবে না, সেটা আগেই বলেছিলেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সেই কারণেই চীন বন্ধুত্ব শেষ করছে ইউনূসের সঙ্গে। চীনা বাঁধ তৈরি করে ফাঁদ পেয়েছে বাংলাদেশের জন্য। এবার কি করবেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা?
আসলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কোন দিকে এগোচ্ছে, এটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন চিহ্ন।
চীন ব্রহ্মপুত্রের মুখে বাঁধ তৈরি করছে। চীন যে ভারতের বিপক্ষে যে কোনও সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই স্বাভাবিক। এমনকি মনে করা হয়েছিল চিন, রাশিয়া এবং ভারত মিলে একটি জোট তৈরি করতে চাইছে। এমন কথা শোনা যায়। তবে সেই জোটের বাস্তবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। এদিকে ব্রহ্মপুত্রের মুখে বাঁধ তৈরি করতে যাচ্ছে চীন। আর এতে উদ্বেগ রয়েছে ভারতের। জানা যাচ্ছে, ইয়ার্লুং সাংপো নদ যা ব্রহ্মপুত্র নামেই পরিচিত, সেটির নিম্ন উপত্যকায় শনিবার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাঁধ নির্মাণের সূচনা করেন চিনের প্রধানমন্ত্রী লি কুয়াং। চিনা সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য সব মিলিয়ে ১৪.৪ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হবে। এই বাঁধ তৈরি হলে ভারত সীমান্তের কাছে তিব্বতে ব্রহ্মপুত্রের উপর বিশ্বের বৃহত্তম নদীবাঁধ তৈরি হবে।
মনে করা হচ্ছে, এই বাঁধ তৈরি হলে ভারত ও বাংলাদেশের নদীগুলিতে সমস্যা তৈরি হবে। কারণ নদীর জল নিয়ন্ত্রণ করবে চিন। এই বাঁধ হলে ব্রহ্মপুত্রের স্বাভাবিক প্রবাহকে রুখে দিয়ে বর্ষায় উজানের দিকে আরও জল ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে শুখা মরসুমে জলের অভাবও দেখা যেতে পারে।
এখানে প্রশ্ন উঠছে, এই সিদ্ধান্ত কেন নিতে যাচ্ছে চিন? যে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য ক্ষতি হবে, সেই সিদ্ধান্তে কেন পা বাড়াচ্ছে চিন? আসলে আমেরিকার দিকে বাংলাদেশের ঝুঁকে পড়া চীন ভালোভাবে নিচ্ছে না। সেই কারণেই চীন এবার ফাঁদ পেতেছে। যেখানে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশকেও চাপে রাখছে চীন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনও দেশের পররাষ্ট্র নীতি হওয়া উচিত প্রতিটি দেশের সঙ্গে সু সম্পর্ক বজায় রাখা। কিন্তু বাংলাদেশ এই মুহূর্তে সেটা না করে, একপেশে সম্পর্ক তৈরি করছে। আর এতেই পদে পদে বিপদে পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশকে।












Discussion about this post