অবশেষে মিলল জামিন। ব্যর্থ হল ইউনুস, দীর্ঘ ৬ মাস পর বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হওয়া, ইস্কন সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এর জামিনে মিলল মুক্তি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই ৬ মাসের জেলবন্দি জীবনে অনেক অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে সন্ন্যাসীর চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুকে।
উল্লেখ, বাংলাদেশের দ্রোহকালে যখন হিন্দুদের উপর নির্বিচারে অত্যাচার চালানো হচ্ছিল তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর লুটপাট চালানো হচ্ছিল সেই সময় গর্জে উঠেছিলেন ইসকন সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। সে কারণেই ইউনুস সরকারের কোন কুনজরে পড়তে হয়েছিল এই সন্ন্যাসীকে। জোরপূর্বক তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ। এমনকি তার দিকে দেশদ্রোহীতার আঙুল তোলা হয় সরকারের তরফে। তারপরেই চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর গ্রেফতারি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন গ্রেফতারের পরে যে বিচার প্রক্রিয়া চালানো হয় সেই প্রক্রিয়াতেও ব্যাঘাত ঘটিয়েছে ইউনুস সরকার। দেখা গেছে যারা সন্ন্যাসীর পক্ষে আইনের লড়াই লড়ার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন তাদের ওপর শারীরিক মানসিক হামলা চালানো হয়েছিল। তাদেরকে শুনানিতে উপস্থিত থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে দেয়নি বাংলাদেশের বর্তমান সরকার। সৃষ্টি হয়েছিল অনাচার, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।
কিন্তু সরকারের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে দেখা গিয়েছিল গোটা বিশ্বকে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিনি নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট পদে বসার পরে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও হিন্দুদের ওপর এই অত্যাচার কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ যেভাবে সন্ত্রাসবাদীর মদদ দিচ্ছে এবং সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে তাতে বিশ্বের দরবারে যে পরিস্থিতি হয়েছে পাকিস্তানের, অর্থাৎ ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ দমনের যে কৌশল গুলি চলছে, যেকোনো সময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও সেই একই কৌশল শুরু করে দিতে পারে ভারত।
সম্প্রতি দেখা গিয়েছে বিএনপির মহাসচিবের বার্তায় উঠে এসেছে আশঙ্কার ছবি, তিনি বলছেন বাংলাদেশ না গাজায় পরিণত হয়ে যায়! কিছুটা স্তব্ধ হতে দেখা যাচ্ছে ইউনুস সরকারকেও। তারা এখন পুলিশকে নির্দেশ দিচ্ছে যে, যে সমস্ত পাকিস্তানি জঙ্গিরা রয়েছে তারা বাংলাদেশের স্থল সীমা আকাশ সীমা ব্যবহার করে ভারতের শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে, এই পরিস্থিতিতে পুলিশ সতর্ক থাকুন।
আর ইউনুস সরকারের এই এই স্তব্ধতার কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হুংকার দিয়েছিলেন, জঙ্গিবাদ যেখানে যতটুকু আছে তার নির্মূল করতে হবে, জঙ্গিবাদ কে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার এবার সময় এসে গেছে। পাশাপাশি ভারতের সামরিক বাহিনী নৌবাহিনীর বিমান বাহিনী যেভাবে নিজেদের তৎপরতা শুরু করেছে তাতে পাকিস্তানের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যে বড় কোন একশন শুরু হতে চলেছে যার ফলে পাকিস্তানকে কড়া শিক্ষা দিতে পারে ভারত তার বলার অপেক্ষা রাখে না, আর পাকিস্তানের দোসর হিসেবে বাংলাদেশে যে সেই নিশানা থেকে রেহাই পাবে না তা বলাই বাহুল্য। সেই আশঙ্কা থেকেই পিছু হটতে শুরু করেছে ইউনুস সরকার। আর আজ বিগত ছয় মাস পর ইসকন সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুকে জামিনে মুক্তি দিতে বাধ্য হল বাংলাদেশ সরকার। আর তাকে ধরে রাখতে পারল না মোহাম্মদ ইউনুস। সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্বিচারে চলেছে অনাচার অত্যাচার। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের উপর নির্বিচারে একাধিক মিথ্যে মামলা দেওয়া হয়েছে, তার পক্ষে আইনজীবীদের তার হয়ে মামলা লড়তে বাধা দেওয়া হয়েছে এমনকি জেলবন্দি অবস্থায় তার উপর যে অত্যাচার চালানো হয়েছিল তার প্রতিবাদেই চিন্ময় প্রভু অন্ন গ্রহণ ত্যাগ করেছিলেন। তারপরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু তারপরেও দেখা গিয়েছে হিন্দুত্বের লড়াই সনাতনের লড়াই থেকে এক পাও পিছিয়ে আসেননি সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃশ্ন দাস। তারিখ লড়াইয়ের সাক্ষী ছিল গোটা বিশ্ব তার এই অদম্য যে ও লড়াইয়ের খিদে তাকে সফল হতেও সাহায্য করল অবশেষে এর ফলস্বরূপ তার জামিনে মুক্তি।
সারা বিশ্ব সনাতনীদের কাছে আজকের দিনটি অত্যন্ত পবিত্র কারণ আজ অক্ষয় তৃতীয়া আর এই পবিত্র দিনেই সনাতনী হিন্দুদের কাছে এই খবরটি এল। যে সনাতনীদের জন্য লড়াই করা সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর জেল মুক্তি হলো। কিন্তু এত কিছুর পরে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর লড়াইয়ের পর তার জামিনে মুক্তি হল কিন্তু বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার কি নির্মূল করা গেল? পাশাপাশি সম্প্রতি বাংলাদেশের আমার শেষে এপার বাংলার পশ্চিমবঙ্গেও সনাতন হিন্দুদের উপর যে অত্যাচারের ছবি উঠে এলো তা কি এবার বন্ধ হবে? আর যদি বন্ধ না হয় তাহলে এই দেশেও কি সনাতনে হিন্দুরা সুরক্ষিত থাকবে প্রশ্ন অনেক উত্তর সময়ই দেবে।











Discussion about this post