উপদেষ্টা আসিফের মতের বিরুদ্ধে যাবে না বিএনপি এটা ধরে নিয়েই ইরশাক হোসেন যদি রাজনীতিতে নতুন পথ প্রশস্ত করতে পারে তবে সেটি তার জন্য শ্রেয় নইলে এখানেই তার রাজনীতিতে ইতি। এর সপক্ষে তার লড়াই নিজেকেই লড়তে হবে দল তার পাশে থাকবে না, এবং তার দাবির সঙ্গেও থাকবে না বিএনপি তা হয়তো বুঝতে পারছেন না ইশরাক হোসেন।
আদালতের রায় মেনে মেয়র পথ ফিরে পাওয়া ইরশাক হোসেনকে কেন মেয়র পদের শপথ পাঠ করানো হচ্ছে না তা নিয়ে বিস্ময়ের কোন জায়গা নেই। বরং এই মুহূর্তে যদি ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র পদে ইরশাক হোসেন শপথ গ্রহণ করেন তবে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও এনসিপির যে পরিমাণ অর্থ জমা হতো ঢাকার দক্ষিণ সিটি বিভিন্ন টেন্ডার ও ব্যবসা থেকে তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই প্রক্রিয়া বন্ধ হতে দিতে চাইবে না এনসিপি। ইরশাক হোসেন প্রচেষ্টায় আছেন তার দলবল নিয়ে নগর ভবনের দখল নেওয়ার। কিন্তু কোনভাবেই তা সম্ভব হয়ে উঠছে না। বিশেষ করে লন্ডনে ইশরাকের সম্মানীয় নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন ইস্যুতে একটি সমঝোতা বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। আর তারপর থেকেই ইরশাক হোসেনের মেয়র হব আন্দোলনে সমর্থকদের ভিড় যে অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে তা এই নগর ভবন দখলের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।
কিন্তু বিগত কয়েক মাসে যমুনা ভবনের সামনে যে পরিমাণ বৃহত্তর আন্দোলন দেখা গিয়েছিল ইরশাক হোসেনের মেয়র পথ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সেই পরিমাণ আন্দোলনের ঝাজ লক্ষ্য করা গেল না ১৬ই জুন এবং তার পরবর্তী নগর ভবনের সামনের আন্দোলনে। তবে নগর ভবনের এই অনুষ্ঠানের ব্যানারে দেখা গেছে ইরশাদ হোসেনের নামের আগে মেয়র কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আদালত করতে ইরশাদ হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করার আগে অনেকেই দাবি তুলেছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বাংলাদেশ জুড়ে যদি অবৈধ নির্বাচন হয়ে থাকে তবে সে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করা ব্যক্তিকে কিভাবে বৈধ মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করানো হতে পারে? কিন্তু শেষমেশ দেখা গেল আদালতের নির্দেশ মতই এরশাদ হোসেন এবং চট্টগ্রামেও মেয়র পদে শপথ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ যে যুক্তিতে ভর করে ইরশাক হোসেন মেয়র পদ ফিরে পেয়েছেন, সেই চুক্তিতে ভর করেই যদি ঢাকার দক্ষিণ সিটির সকলকেই অর্থাৎ বাংলাদেশের ২০১৮ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি আওয়ামী লীগ জামাত যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তাদের সকলকেই যদি আদালত নির্বাচিত ঘোষনা করা হত তাহলেই কী সবচেয়ে ভালো হতো? অর্থাৎ এরকম হলে হয়তো দেশে নির্বাচন কবে হবে কতটা দ্রুত হবে এই ধরনের বিভিন্ন বিতর্ক আর দানা বাধতো না। এর মাঝে মাঝে যে জল্পনা সামনে যে নির্বাচন পরবর্তীতে মোহাম্মদ ইউনুস খের রাষ্ট্রপতি এবং তারেক রহমানকে ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী এবং জামাতের শীর্ষ নেতৃত্বকে উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা হবে। অর্থাৎ নিজেদের মতো করে রাজনৈতিক সমীকরণ সাজাতে শুরু করে দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি একমাত্র আওয়ামী লীগকে দেশে নিষিদ্ধ রাখার জন্য।
এবং এমনও শোনা যাচ্ছে ছাত্র সমন্বয়কদের তরফ থেকে যে জুলাই সনদ ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে সেই জুলাই সনদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছিল আর এবার বিএনপির তরফ থেকে জানানো হচ্ছে এই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে চলেছে বিএনপি। ফলে এখন উপদেষ্টা আসিফের অমতে বিএনপি তার অবস্থান স্পষ্ট করবে না সেটা ধরে নিয়েই ইশরাক হোসেনকে নিজের লড়াই জারি রাখতে হবে। যদি নিজের পরিকল্পনা তে রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারে ইশরাক তবে তার রাজনৈতিক জীবন অক্ষুন্ন থাকবে অন্যথায় এখানেই তার রাজনৈতিক জীবনে ইতি টানতে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।












Discussion about this post