সৌদি আরব সফর বাতিল করলেন বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। হঠাৎ সফর বাতিল কেন? এদিকে সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, জুলাই সনদ-সহ একাধিক বিষয়ে ব্যস্ততার কারণে তিনি সফর বাতিল করেছেন। কিন্তু আসল কারণটা কি? অনেকে বলছেন, মুহাম্মদ ইউনূস দিনে দিনে যে ধাপ্পাটা দিচ্ছেন গোটা দেশবাসীকে, সেটা সামনে চলে এসেছে। তবে কি বড় কোনও ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন প্রধান উপদেষ্টা?
সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য বিভিন্ন দেশে দৌড়াচ্ছে বাংলাদেশ। ফ্রান্স থেকে ৬ টি রাফাল বিমান, তুরস্ক থেকে ১৫০ টি সাব মেরিন, চিন থেকে যুদ্ধ বিমান কেনার কথা শোনা যাচ্ছে। এত বিপুল পরিমাণে টাকা খরচ কি কারণে? তবে যুদ্ধে জড়াতে চাইছে বাংলাদেশ? নাকি পারিপার্শ্বিক বা বহিঃবিশ্বের পরিস্থিতি বুঝে তৈরি থাকতে চাইছে ইউনূসের দেশ? এমন নানা প্রশ্ন উঠে আসছে।এদিকে চিন থেকে যে যুদ্ধ বিমান কেনার কথা চাউর হয়েছে, তাতে কি আমেরিকা ভালো চোখে দেখছে? এর পাশাপাশি তুরস্ক নাকি খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তার কারণ, তারা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ডিল করতে চায়। অর্থাৎ এখানেও মুখ পুড়ল অন্তবর্তীকালীন সরকারের।
এদিকে নোবেল জয়ী মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর মালেশিয়া সফরে গিয়েছিলেন। এরপর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ অ্যাসিয়ানের সদস্য হবে। অর্থাৎ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ ইস্ট এশিয়ান নেশনস। এটার সদস্য, মালেশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এমন ১০ টি দেশ। যেখানে বাংলাদেশ বলেছিল, তারা সদস্য হতে চায়। কিন্তু তারা জানিয়েছিল, কোনওভাবে সহযোগী সদস্য পদ দেওয়া যায় কিনা তারা বিবেচনা করে দেখবে।এখন যখন অ্যাসিয়ানের সম্মেলন হচ্ছে মালয়েশিয়াতে, যে সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসছেন, সেখানে আমন্ত্রণ পায়নি বাংলাদেশ। এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর যাওয়ারও কথা ছিল। তবে এখনও পর্যন্ত খবর, তিনি যাচ্ছেন না। সম্ভবত ভটচুয়ারি অংশগ্রহণ করবেন। তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সেখানে উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু আমন্ত্রিত নন মুহম্মদ ইউনূস। ফলে অনেকে বলছেন, ইউনূস নিজে অপমানিত তো হচ্ছেন। পাশাপাশি গোটা বাংলাদেশকেও অপমানের জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে সৌদি আরবে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলছে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। সেখানেও বহু দেশের প্রধানরা আসবেন। কিন্তু ইউনূসের পক্ষ থেকে তিন মাস আগে সৌদির যুবরাজের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল দেখা করার জন্য। কিন্তু সেই চিঠির কোনও উত্তর আসেনি। কেন ইউনূসের সঙ্গে সৌদি আরবের যুবরাজ দেখা করতে চাইলেন না? অনেকে কারণ হিসাবে বলতে চাইছেন, সৌদি আরবের অন্যতম এখন মিত্র দেশ ভারত। এদিকে ভারতের সঙ্গে বিরোধীতা করছে বাংলাদেশ। আর সেটা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে। তাই সৌদি আরবও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। এদিকে বাংলাদেশ সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই সনদ বা দেশের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকবেন। তাই তিনি যাচ্ছেন না। কিন্তু আসলে তিন মাস হয়ে যাওয়ার পর কোনওরকম উত্তর পায়নি। ফলে সবমিলিয়ে প্রত্যেকে বুঝে গিয়েছে, মুহাম্মদ ইউনূস কতটা ধাপ্পা দিচ্ছে দেশ বাসীকে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন গোটা দেশ তার বিরুদ্ধে গর্জে উঠবে, তখন তিনি সামলাতে পারবেন না। এখনই দেশের বিভিন্ন কোণায় কোণায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ইউনূস বিরোধী স্লোগান, বিক্ষোভ। তাতেই হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। এখন দেখার, যে মুখোশ মুখোশটা দিনে দিনে দেশবাসী তথা গোটা বিশ্বাবাসীর কাছে খুলে যাচ্ছে, এরপর কি করবেন প্রধান উপদেষ্টা!












Discussion about this post