বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বয়স ১১ মাস। ক্ষমতার শাসনে মহম্মদ ইউনূস। এতগুলো মাসে নির্বাচন নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। শেষমেশ নির্বাচনের আভাস বা প্রস্তুতি, তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজিত হবে। আর তার আগেই সমস্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলতে চাইছে ইউনূসের সরকার। জানা যায়, বুধবার যমুনাতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে আইন শৃঙ্খলার উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই নাকি ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের জন্য সমস্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। এমনকি প্রয়োজনে নির্বাচনের আগে নাকি রিহার্সাল হবে। অনেকে বলছেন, এটা আবার সরকারের নয়া চক্রান্ত নয় তো?
সূত্র বলছে, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশের পরই নির্বাচনের প্রস্তুতি একেবারে তুঙ্গে। এরমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়ে দেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচনের বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমস্ত প্রস্তুতি ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। এমনকি তিনি জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন দফতরে ১৭ হাজার নিয়োগ হবে। নির্বাচন যাতে অবাধ এবং সুষ্ঠভাবে করা যায়, তার দায়িত্বে থাকবে দেশের সেনাবাহিনী। এমনকি তিনি রিহার্সাল নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেন। কারণ তার দাবি, বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হয়ে কাজ করছে বলে বেশ ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠে এসেছে। এই জন্যই নির্বাচনে যাতে কোনও অপ্রীতিকর অভিযোগ না ওঠে, বা সুষ্ঠভাবে নির্বাচন করা যায়, তার জন্য রিহার্সাল নির্বাচনের কথা ভাবা হতে পারে বলে মন্তব্য তার।
শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে আগে যে ধরনের নির্বাচন হয়েছে, সেগুলি আদতে নির্বাচন বলা যায় না। সেগুলি সবই লোক দেখানো বলে উল্লেখ করেন তিনি। এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকৃত নির্বাচনের কথাই ভাবছে। সেই কারণেই তিনি জানান, কার কি কাজ, কিভাবে কাজ করতে হবে, সেটা বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে রিহার্সালের কথা বলেন। যাতে প্রত্যেকে পুরো বিষয়টি বুঝে যান।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু এই সরকার নতুন, ভোটের আবহ এর সঙ্গে মুখোমুখি হয়নি, তাই এত বড় নির্বাচন আয়োজনের আগে তারা বিষয়টি রিহার্সালের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিতে চাইছে। তবে এর মাধ্যমে আসল নির্বাচনের দেরি হতেও পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।












Discussion about this post