মহম্মদ ইউনূসের লন্ডন সফর ঘিরে আলোচনার শেষ নেই। কারণ সে দেশের মাটিতে পা রাখতে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের পূর্বতন কোন রাষ্ট্রপ্রধানকে এইভাবে বিদেশের মাটিতে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়নি। তবে এখানেই বিতর্ক থামেনি। বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার দেখা করেননি ইউনূসের সঙ্গে। তবে কিসের জন্য বিদেশ সফরে গিয়ে সরকারের কারি কারি টাকা খরচ করলেন ইউনূস? মহম্মদ ইউনূস বলে গিয়েছিলেন, তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন এবং শেখ হাসিনার দল যত টাকা ব্রিটেনে পাচার করেছেন সব টাকা তিনি ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু বিদেশের মাটিতে পা রাখতেই খেলা ঘুরে গেল। ভারতের সুকৌশলী খেলা ধরতেই পারেননি তিনি। যেটা হয়তো তিনি নিজেও কোনওদিন কল্পনা করতে পারেননি। উল্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর বিপক্ষে কথা বলে ফের একবার ভারত বিরোধিতা করলেন।
মোহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী নাকি দেশেই নেই। তিনি কানাডা সফরে গিয়েছেন। সেখান থেকে ফিরে এসে মোটেই ইউনূসের সঙ্গে দেখা করা তার সম্ভব নয়। তবে সত্যি কখনও চাপা থাকে না। খবর পাওয়া যায়, তিনি দেশেই রয়েছেন। অর্থাৎ আরও একবার মিথ্যাচার ধরা পড়ল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। এই প্রেস সচিবকে কাজে লাগিয়ে দিনের পর দিন মিথ্যাচার করেছেন মহম্মদ ইউনূস। শুধু তাই নয়, বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মহম্মদ ইউনুসের বৈঠকের পর প্রেস সচিব ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক স্টেটমেন্ট দেন। তিনি বলেছিলেন, এই বৈঠকে নাকি শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন মহম্মদ ইউনূস। এমনকি এমন কিছু বক্তব্য রেখেছিলেন, যেখানে তারা বোঝাতে চাইছিলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বৈঠক চায়নি। কিন্তু বাংলাদেশ বাধ্য হয়েছে বৈঠক করতে। এখন তিনি আশা করেছিলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা একাধিকবার বলেছিলেন, একটি দেশের অস্থায়ী সরকার প্রধানের সঙ্গে কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানই বৈঠক করতে চাইবেন না। আর তার উদাহরণ দেখা গেল ব্রিটেনে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের সঙ্গে ব্রিটেনের সমীকরণটা একটু আলোচনা করা যাক। যখন ভারত পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদকে দমন করতে অপারেশন সিঁদুর চালায়, তখন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে এসেছিলেন। সেই সময় ব্রিটেনের সঙ্গে ভারতে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট হয়। সেটা ঐতিহাসিক এবং নজিরবিহীন। আমেরিকার সঙ্গে সেই চুক্তি হবে কি হবে না, সেই নিয়ে যখন নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তখন ব্রিটেনের সঙ্গে ভারতের ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট চুক্তি আমেরিকার কাছে একটা বড় ঝটকা। অর্থাৎ ব্যবসায়িক স্বার্থে ভারতের পাশে রয়েছে ব্রিটেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ খানিকটা বিপদে পড়েছে। কারণ তারা ভারতের মাটি ব্যবহার করতে পারছে না। এমনকি দুটো বন্দর ছাড়া অন্য কোথাও দিয়ে তারা জিনিসপত্র পাঠাতে পারছে না। এখানে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি শক্তিশালী দেশ ব্রিটেন কখনোই চাইবে না ভারতের বিরুদ্ধে যাওয়া একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে। ভারতকে চটাতে চাইনি বলেই ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেননি। বলছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post