বাংলাদেশে নির্বাচন জট যেন কাটছেই না। যত দিন এগোচ্ছে, ততই নির্বাচন নিয়ে কথা উঠে আসছে। এমনকি দেশের অন্দরে নয়, বিশ্বের বহু দেশ এই নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছে। এরই মাঝে জাতিসংঘ খানিকটা তাদের সুর বদল করেছে। আগে তারা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে ইনক্লুসিভ নির্বাচনের তত্ত্ব সরকার আবিষ্কার করবে বললেও, এখন ভিন্ন কথা শোনা যাচ্ছে। জাতি সংঘের মানবধিকার প্রধান বলেন, রাজনৈতিক দলের উপর নিষেধাজ্ঞা, স্বাধীনতা হরণ তারা সমর্থন করে না। অর্থাৎ অনেকেই বলছেন, তবে কি জাতিসংঘ চায়, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশ নিক? হাসিনা দেশে ফিরুক, এটা কি চাইছে জাতিসংঘ? এমনকি ব্রিটেনও অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে অবস্থান নেয়নি। এমনকি রাশিয়া, ভারত, জার্মানের মত বাংলাদেশের মিত্র দেশ, তারাও বাংলাদেশে ইনক্লুসিভ নির্বাচনের কথা জানিয়েছে। তাহলে কি মহম্মদ ইউনূসের সরকার সেই পথেই হাঁটতে বাধ্য হবে? আওয়ামী লীগের উপর যে নিষেধাজ্ঞা, সেটা কি তুলে নেবে সরকার? এমন নানা প্রশ্ন উঠে আসছে।
বাংলাদেশে নির্বাচন হোক ইনক্লুসিভ। এমনটাই জানিয়েছেন জার্মানির বিদায়ী রাষ্ট্রদূত আখিম ট্র্যোস্টার। তিনি বলেছেন, জার্মানি সুষ্ঠ গণতন্ত্রের কথা বলে। তারা সুস্থ, অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণকারী নির্বাচন চায়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বের বহু দেশ তো বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কথা বলছে। সেখানে দাঁড়িয়ে আদেও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জার্মানির কথা কি গুরুত্ব দেবে? আসলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে জার্মানির কূটনৈতিক স্তরে সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। শুধু তাই নয়, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও তাদের সম্পর্ক রয়েছে। তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে জার্মানি ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যর পরিমাণ ৮.৬ বিলিয়ন ইউরো। এমনকি জার্মানি হল বাংলদেশের দ্বিতীয় রফতানিকারক দেশ। এমনকি জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্প জার্মানিতে রফতানি হয় প্রায় ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশে সব থেকে বড় শিল্প বস্ত্র শিল্প। আর সেক্ষেত্রে জার্মানি হল বাংলাদেশের সব থেকে বড় নির্ভরশীলতা দেশ। এছাড়াও জার্মানি থেকে রাসায়নিক পদার্থ থেকে যন্ত্রাংশ…বহু কিছু বাংলাদেশ আমদানি করে। ১৯৭২ সালে জার্মানি বাংলাদেশকে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা করেছিল। অর্থাৎ এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়, জার্মানি বাংলাদেশের কাছে কতটা গুরুত্বপুর্ণ। এবং তাদের মন্তব্য, বাংলাদেশের প্রতি ধারণা কতটা অর্থ বহন করে।
এর আগে রাশিয়া থেকে ভারত..একাধিক দেশ বিভিন্ন সময় বুঝিয়েছে, তারা বাংলাদেশে একটি সুস্থ নির্বাচন হোক, সেটা চায় তারা। এখন জার্মানি, যারা বাংলাদেশের পরম মিত্র দেশ, তারাও চাইছে বাংলাদেশে ইনক্লুসিভ নির্বাচন হোক। অর্থাৎ প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেটার কথায় বোঝাতে চেয়েছে তারা। এখন দেখার, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই চাপ কিভাবে মোকাবিলা করে। আদেও তাদের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটে, বিশ্বের একাধিক দেশের কথাতেই মান্যতা দেয়, নাকি যেনতেন প্রকারে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখে!












Discussion about this post