গোপালগঞ্জের ঘটনায় পরতে পরতে উঠে আসছে একের পর এক তথ্য। ছাত্র নেতাদের কাছে নাকি রেডি ছিল AK 47। নিরাপত্তা বাহিনীর ওপরও কি চলতে পারত গুলি? এমন নানা প্রশ্ন উঠে আসছে এই ধরনের খবর সামনে আসাতে। যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেই ভাইরাল ভিডিওতে পড়তে একগুচ্ছ তথ্য এবং প্রমাণ। এরপরও কি চুপ থাকবে বাংলাদেশের আইনশৃংখল রক্ষা বাহিনী?
১৬ই জুলাই বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে কি ঘটল, তার পরিপ্রেক্ষিতে এখন কি ঘটছে, সেটার বিষয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ বিষয়ে সাধারণ জনগণ অবহিত নয়। কারণ এর পিছনে গভীর চক্রান্ত রয়েছে। যেটা স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসছে না। আগে সরকারি দলের কোনও কোনও ছাত্র সংগঠনের নেতাদেরকে পুলিশকে সরাসরি গুলি করার নির্দেশ দিতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু সেনাবাহিনীকে কোনও সরকারি দলের ছাত্র নেতাদের সংগঠনের নেতাদেরকে গুলি করার নির্দেশ দিতে দেখা যায়নি। এবং যারা নির্দেশ দিচ্ছেন, তাদের কাছে কি ধরনের অস্ত্র থাকতে পারে, তার ধারণা পাওয়া যায়।
গত বুধবার গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ বা গোপালগঞ্জের মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলল জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের উপর। তখন সেনাবাহিনী তাদের সন্তর্পনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলো। তখন এনসিপির নেতাদের গাড়ি বহর থেকে একজন এনসিপি নেতা লাইভ করছিলেন, তার ৩২ মিনিটের ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। সেখান থেকে সেনাবাহিনীকে গুলি করার কে নির্দেশ দিয়েছে, তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কি, তাদের কাছে কি ধরনের অস্ত্র রয়েছে, সেগুলি ফুটে উঠেছে। এবং যা কিছু ঘটে যাক, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তাদের নিরাপত্তা দেবে, সেগুলি ফুটে উঠেছে।
এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, যখন গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ বা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে থেকে সেনাবাহিনী ছাত্র নেতাদের পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তখন মাদারীপুরের এনসিপি তত্বাবধায়ক রাকিব হাসনাকে বলতে শোনা যায়, এত কিছু দরকার কি, একটি লাশ ফেলে দিলেই তো হয়ে যায়। তারপর দেখা যায়, একটা ইটের টুকরো তাদের গাড়িতে এসে পড়ে এবং তাদের গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। এমনকি ওই ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে বলা হচ্ছে, গুলি করেন, গুলি করেন। তারপরে আরো বলা হয়। আমার পায়ে কাচ ফুটেছে। আর আপনারা গুলি না করে তামাশা দেখছেন? এমনকি দাঁড়িয়ে থাকা অন্য এক ছাত্র নেতা কে বলতে শোনা যায়, সেনাবাহিনী কি নিরাপত্তা দিচ্ছে আমাদের? এরপর রাকিবকে বলতে শোনা যায়, তাদের তো সম্পন্নভাবে বলা হয়েছে গুলি করতে। তারপরও তারা গুলি করছে না।
এখানেই পরিষ্কার হয়ে যায়, তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কোন এক পর্যায়ে থেকে গুলি করতে। এনসিপি নেতারা সব জানতেন। সেই কারণেই তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। এমনকি ওই ভিডিওতে একটি জায়গায় বলতে শোনা যায়, না পারলে আমাদের দিয়ে দেন। এটি শুনে পাশে একজন বলতে থাকেন, একটার বদলে দশটা লাশ ফেলতে হবে। রাকিবকে বলতে শোনা যায়, মুজিব্বাদীদের কবর আজকে রচনা করা হবে।
অন্যদিকে ভিডিওর মাঝ বরাবর গাড়ির সামনে সিটে বসা ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ঢাকা শহরে আওয়ামী লীগের কোনও লেস্পাসার রাখবো না। যেখানে পাই জবাই করব। মেরে ফেলব। রেডি রাখ। তিনি বলছেন, অস্ত্র AK 47 ৮০ টা রেডি রাখবি। চিরুনি অভিযান করব ঢাকা শহরে। অন্য একজন বলছেন, দুটো হেলিকপ্টার পাঠালেই তো হতো। সেখান থেকেই ফায়ার করতো।
এই ভিডিও থেকে অনেক কিছুই পরিস্কার হয়ে যায়। তাদের কাছে কি ধরনের অস্ত্র ছিল এবং কারা নির্দেশ দিতে পারে গুলি চালাতে, সেটাও পরিষ্কার। কিন্তু তারপরও কেন তল্লাশি চালানো হল না? কেন দেখা হলো না ওই গাড়িতে কারা ছিল! প্রশ্ন উঠে যায়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই ভিডিও কি যথেষ্ট নয়? এমন প্রশ্ন উঠছে।











Discussion about this post