আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। হাতে আর বেশি দিন নেই। পদ্মাপারের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে কৌতহুলের পারদ ক্রমশই চড়তে শুরু করেছে। এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের সব থেকে বৃহত্তম একটি রাজনৈতিকদলকে বাদ দিয়েই। এই ভোট নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রথম প্রশ্ন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে তো? প্রশ্ন ওঠার কারণ, শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশে বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অপরদিকে, তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতায় টিকে থাকার। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তিনি জামাত এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। বাংলাদেশের ভোট নিয়ে যেমন কৌতুহল বাড়ছে কৌতুহল বাড়ছে ভোটের দিন এবং ভোট পরবর্তী পর্বে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও। হাসিনা ইতিমধ্যে দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন তারা যেন ভোটের দিন বুথে না যান। বঙ্গবন্ধু কন্যা মনে করছেন, তাঁর দল ভোট বয়কট করলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ভোটের ফলাফলকে আন্তর্জাতিক মহল স্বীকৃতি দেবে না। এই কৌশল কতটা ফলপ্রসু হয় সেটা দেখার।
এই অবস্থায় হাসিনা দিল্লিতে একটি বৈঠক করেন। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেনযুক্তরাজ্যআওয়ামীলীগেরএকদলনেতা। বৈঠক হয় গত ২১ জানুয়ারি। হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল খান। ভারতে এক সপ্তাহের সফর শেষে ২৬ জানুয়ারি তাঁরা লন্ডন ফিরেছেন।
শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেআসাআওয়ামীলীগনেতাদেরএক নেতা বাংলাদেশের একটি পত্রিকাকে জানিয়েছেন, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সাক্ষাৎটিঅনুষ্ঠিতহয়।মোবাইলসহকোনোব্যক্তিগতসামগ্রীসঙ্গে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর নিরাপত্তা যাচাই শেষে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের এই দলকে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে করে শেখ হাসিনার দিল্লিতে বসবাসরত বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই নেতা বলেন, ‘হাসিনার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে পাঁচ ঘণ্টার। তাঁকে বেশ আত্মবিশ্বাসী ও প্রত্যয়ী মনে হয়েছে। শারীরিক কোনো অসুস্থতা তাঁর মধ্যে লক্ষিত হয়নি। কলকাতায় দলের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে হাসিনার এই বৈঠক নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
কোনওভাবেই এই বৈঠককে রুটিন বৈঠক বলা যাবে না। তার বড়ো কারণ, বৈঠক হল ভোটের ঠিক মুখে মুখে। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ভোট। তার ২১ দিন আগে বঙ্গবন্ধু কন্যা দলের অন্যতম পাঁচ শীর্ষনেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে, আওয়ামী লীগের রণকৌশল ঠিক করতেই যে হাসিনার এই বৈঠক তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বোন রেহানাকে। লন্ডন থেকে প্রায়ই তিনি দিল্লি যাতায়াত করছেন।
প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে হাসিনা সরে যাওয়ার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা নানা হিসেব কষছিলেন। উঠে এসেছিল নানা মত। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল, কোনও হিসেবের সঙ্গেই পদ্মাপারের রাজনীতির মিলছে না। বিশ্লেষকদের ভাবনা এক। আর ঘটছে অন্যকিছু। পদ্মাপারের জাতীয় রাজনীতিতে ঘনঘন পট পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে সব হিসেব মিলছে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হিসেবের ঠিক উল্টোটা ঘটছে। জামাতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক এতটা হার্দিক হবে, সেটা কেউ আন্দাজ করতে পারেনি। আমেরিকা এখন তাদের বাংলাদেশের ক্ষমতায় দেখতে চাইছে। ফলে, আগামী দিনে বাংলাদেশ কার দখলে থাকবে, সেই প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে। তারেক না তারেক জিয়া না শফিকুর রহমান? এই অবস্থায় হাসিনা দিল্লিতে গোপন বৈঠক করলেন। কার হাতে হস্তান্তরিত হবে ক্ষমতার ব্যাটন? তা দেখার জন্য আমাদের আর ১০দিন অপেক্ষা করতে হবে।












Discussion about this post