গত বছরের জুলাই আগস্ট, প্রবল আন্দোলনে কাঁপছে বাংলাদেশের পথঘাট। ঢাকার রাজপথ তখন কার্যত ছাত্র-জনতার দখলে। ৫ আগস্ট সকাল থেকেই একটা থমথমে পরিবেশ ঢাকায়। বিভিন্ন এলাকা ধরে একাধিক মিছিল গণভবনের দিকে এগিয়ে আসতে পারে, এমন খবরই ঢাকার আকাশে বাতাসে উড়ছে। তবুও গণভবনে অবিচল বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে ঠিক কি ঘটেছিল ৫ আগস্টের সকাল থেকে, তা জানার কৌতুহল বাংলাদেশ থেকে শুরু করে ভারতের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে আজও আছে। সম্প্রতি দীপ হালদার, জয়দীপ মজুমদার এবং সহিদুল হাসান খোকনের লেখা ‘ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ: দ্য স্টোরি অফ অ্যান আনফিনিশড রেভোলিউশন’ নামে একটি বই প্রকাশ পেয়েছে। আর সেই বইয়ে রয়েছে চাঞ্চল্যকর বহু তথ্য, দাবি ও গল্প। সেই বইয়েই লেখা হয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে গণভবনে ঠিক কি হয়েছিল। যার পরতে পরতে নাটক, রোমাঞ্চ এবং রোমহর্ষক মোড় রয়েছে।
ঢাকার বাতাসে তখন বারুদের গন্ধ। গণভবনে তখনও ব্যস্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তখনও চেষ্টা করছেন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে। সে সময় তাঁর অফিসের আধিকারিক, সেনা ও নিরাপত্তাবাহিনীর কর্তারা ছাড়াও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকরা প্রধানমন্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন তাঁর গণভবনে থাকা নিরাপদ নয়। কিন্তু মুজিবকন্যা আজন্ম লড়াকু। ‘ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ: দ্য স্টোরি অফ অ্যান আনফিনিশড রেভোলিউশন’ বইটিতে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং বিমানবাহিনীর প্রধান শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন। এমনকি সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসেও মা শেখ হাসিনাকে ফোন করেছিলেন উদ্বিগ্ন ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনিও মাকে বোঝাতে পারেননি। ওই বইয়ের দাবি, হাসিনা বারবার “বলেছিলেন, “দেশে মরে যাব, তবু দেশ ছেড়ে পালাব না”। কিন্তু অত্যন্ত নাটকীয়তার মাঝে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁর বাসভবনে পৌঁছানোর মাত্র ২০ মিনিট আগে তিনি দেশ ছাড়েন। কারণ একটা ফোনই নাকি ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। জানা যায় ওই ফোন ধরার পর কিছুক্ষণ কথা বলেছিলেন শেখ হাসিনা, তারপরই দ্রুত সিদ্ধান্ত বদল করেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। ওই সাড়াজাগানো বইয়ে দাবি করা হয়েছে, ফোনটি নাকি ভারত থেকে এসেছিল।
দীপ হালদার, জয়দীপ মজুমদার এবং সহিদুল হাসান খোকনের লেখা ওই বইয়ে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি যখন চূড়ান্ত নাটকীয় পর্যায়ে, কোনও ভাবেই হাসিনাকে গণভবন ছাড়তে রাজি করানো যাচ্ছে না। ঠিক তখনই শেখ হাসিনার কাছে ভারত বা নয়া দিল্লি থেকে সরাসরি একটি ফোন আসে। ভারতের কোনও এক শীর্ষ কর্মকর্তা ফোন করেছিলেন। যদিও সঙ্গত কারণে ওই বইয়ে তাঁর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু দাবি করা হয়েছে, যিনি ফোন করেছিলেন তিনি শেখ হাসিনার অত্যন্ত পরিচিত ছিলেন এবং তিনিই হাসিনাকে সতর্ক করে বলেন, “অনেক দেরি হয়ে গেছে,” এবং তিনি যদি দ্রুত দেশ না ছাড়েন, তাহলে তাঁকে “হত্যাও করা হতে পারে”। এই ফোনের পর শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নিতে আর মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় নিয়েছিলেন। অবশেষে, তিনি এবং তাঁর বোন একটি চপারে উঠে দ্রুত তেজগাঁও বিমানবন্দরে এসে পৌঁছন। এবং দুপুর ২:৪২ মিনিটে তাঁরা তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে একটি সিজে-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমানে চেপে দিল্লির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবনে বিক্ষোভকারীরা প্রবেশের মাত্র ২০ মিনিট আগে উড়োজাহাজটি একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট হিসেবে উড্ডয়ন করে তেজগাঁও থেকে। ওই সময়ই ‘এজেএক্স ১৪৩১’ বিমানটির ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে রাখা ছিল। বিমানটি প্রথমে কলকাতার দিকে যায় ঢাকা-দিল্লি রুটে না গিয়ে। কারণ দ্রুততার সঙ্গে বিমানটিকে বাংলাদেশের আকাশসীমা ছাড়তে বলা হয়েছিল। তখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল এবং হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। প্রায় ২০ মিনিট পর বিমানটি পশ্চিমবঙ্গের মালদার ওপর দিয়ে ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। বইটিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ভারতীয় বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই শেখ হাসিনার ওই বিমানকে ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি দিয়ে রেখেছিল। এবং ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশের পরই হাসিমারা বিমানঘাঁটি থেকে দুটি রাফাল যুদ্ধবিমান সেটিকে এসকর্ট করে দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। সেদিন ভারত থেকে যদি হাসিনার কাছে ফোন না যেত, তাহলে হয়তো প্রাণেই বাঁচতেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে আজও আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশে গত...
Read more












Discussion about this post