‘হটাও ইউনূস বাঁচাও দেশ’, ‘মুজিব তোমার স্মরণে, ভয় করি না মরণে’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, আর ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’- বুঝতেই পারছেন এই স্লোগানগুলি কাদের। বিগত এক দেড় মাসে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা-সহ বিভিন্ন শহর, জেলা সদর ক্ষনে ক্ষনে কেঁপে উঠছে এই সমস্ত স্লোগানে। আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, ঘোষিত মিছিল চলছেই, যেন ঠেকানোর ক্ষমতাই নেই মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। কারণ, আগে আওয়ামী লীগের মিছিল হতো অতি গোপনে, ১২-১৫ জনের দলে। তাও কয়েক মিনিটের জন্য তাঁরা স্লোগান তুলেই গেয়েব হয়ে যেতেন। বেশিরভাগ সময়, বিএনপি, জামাত বা এনসিপি কর্মীরা তাঁদের বাঁধা দিতেন, মারধর করতেন এবং পুলিশের হাতে তুলে দিতেন। ফলে মিছিল হতো খুব ভয়ে ভয়ে। তবে এখন পাল্টে গিয়েছে পরিস্থিতি। বিগত এক দেড় মাসে আওয়ামী লীগের মিছিল ধারে ও ভারে বেড়েছে কয়েকগুন। এখন মিছিল হয় স্বতঃস্ফূর্ত ও উৎসাহ উদ্দীপনায়। একেকটি মিছিলে হাজার, দেড় হাজার মানুষের ভিড়। আর রাস্তায় পথ চলতি সাধারণ মানুষই এখন আওয়ামী সমর্থক ও নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দিচ্ছেন। তাঁদের লুকোনোর জায়গা দিচ্ছেন, আর বিএনপি বা জামাতিদের আটকে দিচ্ছেন গোলমাল পাকানোর আগেই। কোনও কোনও ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের মিছিলে কেউ বা কারা গোলমাল পাকানোর চেষ্টা বা বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলেই মারধোর হচ্ছে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রতি আগের মতো আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে আসছে। তাঁরা বুঝতে পারছেন ইউনূস সরকার ও তাঁদের দোসররা দেশের কি হাল করে ছেড়েছেন। এখন তাঁদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে, তাই ঘুরে দাঁড়াতে আওয়ামী লীগ ও নেত্রী শেখ হাসিনাকেই চাইছেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। ঠিক এই সময়ই আওয়ামী লীগ মোক্ষম চাল দিল।
আগামী ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাজার তারিখ ঘোষণা করবে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব ধরেই নিয়েছে শেখ হাসিনার সাজা হয়ে সর্বোচ্চ সাজাই দেওয়া হবে। অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড। তাই তাঁরা ওই দিনকে ঘিরে বড় কর্মসূচি ঘোষণা করে দিল। লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য, আগামী ১৩ তারিখের পর যে কোনওদিন তাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করবে ঢাকার ট্রাইব্যুনাল। তাই ১০ নভেম্বর থেকেই পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আগামী ১০ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত তিন দিন বাংলাদেশের জেলা, উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল করবে আওয়ামী লীগ। আর ১৩ নভেম্বর ঢাকায় লকডাউন পালন করার ডাক দিয়েছে শেখ হাসিনার দল। ওই দিন অফিস-আদালত হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ সব বন্ধ রেখে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং স্থানীয় স্তরে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দলটি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটা এমন সময় ঘোষণা করা হল যখন ইউনূস সরকার নিজেরাই লেজে-গোবরে অবস্থায় আছে। একদিকে আভ্যন্তরীণ রাজনীতির টালমাটাল অবস্থা, অন্যদিকে সীমান্তে সমস্যা ও আন্তর্জাতিক চাপ। সবচেয়ে বড় বিষয় হল ৫০ শতাংশ সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে এবং ধাপে ধাপে সরানো হচ্ছে। অর্থাৎ, আওয়ামী লীগের মিছিল, মিটিং আটকানোর জন্য পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাবে না প্রশাসন। আওয়ামী লীগের সফল দৌতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি একের পর এক পত্রবোমা পাঠাচ্ছে ইউনূস সরকারের কাছে। বিশেষ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-সহ বিশ্বের ৬টি শীর্ঘস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন আওয়ামী লীগের উপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আর্জি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দলটির রাজনৈতিক মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ারও দাবি করা হয়েছে। ফলে আসন্ন কর্মসূচিতে যদি জোরজুলুম হয় তাহলে ইউনূস সরকারের কপালে দুঃখ আছে বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশ। অন্যদিকে আওয়ামী লীগও একটা কুশলী চাল দিয়েছে। বনধ, হরতাল বা ধর্মঘট না বলে ১৩ নভেম্বর লকডাউনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এটা কোনও রাজনৈতিক পরিভাষা নয়। তাই এই কর্মসূচি সফল হলেই ইউনূস সরকারের উপর চাপ বাড়বে। অর্থাৎ মুহাম্মদ ইউনূসের এখন শিঁড়ে সংক্রান্তি।












Discussion about this post