টাইম ম্যাগাজিনে তারেক রহমানের ছবি দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে একটি বড় অংশ জুড়ে ছিলেন শেখ হাসিনা। এমনকি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা হয়েছিল ওই টাইম ম্যাগাজিনে। যেটা নিয়ে আবার বিএনপির সমর্থকরা প্রতিবাদও করছে। এগুলি যখন চলছে, তখন আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যমে ফের সাক্ষাৎকার দিলেন শেখ হাসিনা। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই সাক্ষাৎকার অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচন নিয়ে তাঁর ভাবনা, তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলেছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে যখন সরকার উদ্বিগ্ন, এমনকি যদি নির্বাচনের দিন বা পরে সহিংসতার ঘটনা ঘটে, তবে তার দায় আওয়ামী লীগকে নিতে হবে…এমনটা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই সমস্ত বিষয়গুলি নিয়ে এইবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফের মুখ খুললেন শেখ হাসিনা। এইবার হাসিনা জোরালো দাবি জানালেন।
ভারতে নির্বাসিত থেকে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর দলকে নির্বাচন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর সেটা নিয়েই তীব্রভাবে নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। দাবি করেন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর দলকে নির্বাচন থেকে বাদ দিয়ে লক্ষ লক্ষ ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। এই বিষয়গুলি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করবে। এমনকি তিনি বলেন, বহির্ভূতভাবে জন্ম নেওয়া এই সরকার একটি বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে না। এমনটা শেখ হাসিনা বলেছেন। অর্থাৎ বাইরে থেকে আসা একটি সরকার, যা নির্বাচিত সরকার নয়। তারা জনগণকে বিভক্ত করতে কাজ করতে পারে। ঐক্যবদ্ধ করতে পারে না। গণভোটকে ঘিরে নিরাপত্তা ও অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। যা সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এদিকে মহম্মদ ইউনূসের কার্যালয় থেকে একটি গনমাধ্যমে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী সুশৃংখলভাবে নির্বাচন সুনিশ্চিত করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কাউকে বল প্রয়োগ বা সহিংসতার মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করতে দেবে না। আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলিকে এক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এদিকে এখন বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মত একাধিক ঘটনা ঘটছে। যা নিয়ে ইউনূসের অফিসে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকে। সাংবাদিক নির্যাতনের হার বেড়েছে, সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার বেড়েছে। ভোটের সময় আরও উত্তরোত্তর বাড়ছে, সেটা স্পষ্ট। শেখ হাসিনা এই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁর দলের নেতা, কর্মীদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে, নির্যাতন চালানো হচ্ছে। অথচ সরকার এটা অস্বীকার করছে। সমালোচকরা ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং সংখ্যালঘুদের বিশেষ করে হিন্দুদের উপর আক্রমণের বিষয়টি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইউনূসের আমলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সাংবাদিকরা ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হচ্ছে। দেশের শীর্ষ স্থানীয় দুটি দৈনিক অফিসে হামলা চালানো হয়েছে। হাসিনা বলেন, জাতির ক্ষত সারাতে হবে। এমনকি তিনি উল্লেখ করেন, তার অনুপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে বিচার কাজ চলেছে। এবং তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছে। এমনকি এই বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী গুলি বিচারের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমনটাও জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, তার আমলেও কিছু নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। কারণ বিরোধীরা স্বইচ্ছায় সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। কিন্তু এই সরকারের আমলে বিষয়টা আলাদা। এখানে সরকারের তরফেই একটি রাজনৈতিক গোটা দলকে নিষিদ্ধ করে রেখেছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমিক শেখ হাসিনার স্বীকার করলেন, তার আমলে নির্বাচন নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল সেটা একপ্রকার সত্যি। তবে এখন যেটা ঘটছে, সেটা সমস্ত নিয়মের বহির্ভূত। অর্থাৎ দুটি সময়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে স্পষ্ট জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এখনই বাংলাদেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে এই চক্র থেকে অবসান ঘটাতে হবে, না হলে এর কোন প্রতিকার হবে না। দেশটির একটি বৈধ সরকার প্রয়োজন। দেশের ক্ষত সারানোর এটাই সবথেকে বড় উপায়। অর্থাৎ শেখ হাসিনার দল ফের বাংলাদেশে ফিরে এলে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনতে সাহাষ্য করবে, সেটারই ইঙ্গিত দিলেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর কথাতে এটাও স্পষ্ট হল যে, বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি সংঝোতা হয়েছে। এখন দেখার, এই নিয়ে দেশে আর কোনও আলোচনা তৈরি হয় কিনা!












Discussion about this post