হতে পারেন তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা, হতে পারেন তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু দলের সুসময়ে সাফল্যের কৃতিত্ব নিলে, ব্যর্থতার দায়ও তাকেই নিতে হবে। তিনি দিল্লীতে বসে বসে অডিও বার্তা দেবেন আর দল মাঠে নেমে তার নির্দেশ পালন করবেন, এমনটা ভাবলে তাকে কল্পনাপ্রবণ না বলে, বলতে হবে তিনি কল্পবিলাসী। আর তিনি এই কল্পনা বুকে নিয়েই হারিয়ে যাবেন। আর তিনি যদি দেশের রাজনীতিতে আবার প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকতে চান, তবে তাকে দিতে হবে অনেক অগ্নিপরীক্ষা।বর্তমানে ইউনূস সরকারের অতি ব্যর্থতা, দেশের খাদ্য পণ্য থেকে ব্যবসা বানিজ্য সব জায়গাতেই হাহাকারের ফলে, আবার হাসিনার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে আসছে, সেই সঙ্গে দ্রুত বদলাচ্ছে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। যেখানে গত এক বছর ধরে আমেরিকা ভারতের মধ্যে চলছিল অদৃশ্য লড়াই, সেটিও থামতে চলেছে, ফলে এই ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচন নাও হতে পারে, ভারত এবং আমেরিকার চাপে আওয়ামীলীগকেও হয়তো নির্বাচনের সুযোগ দিতে হতে পারে। সে সব তো পরের কথা, কিন্তু হাসিনাকে ফিরতে হলে, ইউনূস জামাত এবং বিএনপির অদক্ষতা বা অযোগ্যতার উপর ভরসা রাখলেই হবে না, নিজের দলকে আগে শুদ্ধ করতে হবে। আওয়ামীলীগের নাম করে যে ধরনের চুরি হয়েছে, তার উৎস জড় থেকে কেটে ফেলতে হবে, কারণ তিনি যাদের শক্ত গাছের গুড়ি হিসাবে ধরে ভাঁসতে চাইছেন, তারা আসেল খড়কুটোও নয়, তারা পচে যাওয়া অঙ্গ, দলের ক্যান্সার। তাই হাসিনার উচিত, তার জন্য যে সুযোগগুলি আসছে ভূ-রাজনৈতিক কারণে, সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইলে, আগে সেই ক্যান্সারকে কেটে বাদ দিতে হবে। আর সেই ক্যান্সার হল-বঙ্গবন্ধুকে সামনে রেখে হাসিনার নাম ভাঙিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে যাওয়া রাজনীতির দালালরা। যারা রাস্তায় নেমে রাজনীতি করেনি, রাজনীতির নামে করেছে বানিজ্য। আর দলের নিচু তলার কর্মীরা, আজও যারা দলে থেকে বা দল করার জন্য একটা টাকাও নিজের পকেটে নেয়নি, আজ তারাই হয় মিথ্যে মামলায় জেলে, নয়তো পরিবারকে ফেলে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। অথবা মৃত। অথচ যারা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে, টেন্ডারবাজি করে অথবা মামলা বানিজ্য, বা যে কোন ভাবে দলের নাম ভাঙিয়ে, তারা হয় দেশেই বিএনপি জামাতকে কিছু টাকা দিয়ে বহাল তবিয়তে তাদের সঙ্গে পার্টনারশিপে ব্যবসা করছে, নয়তো বিদেশে আরাম আয়েশে জীবন যাপন করছে। এখন হাসিনার অগ্নিপরীক্ষা হল, তাদের চিহ্নিত করে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া। দলীয়ভাবে কিছু সংস্কার করা অতি প্রয়োজন। যেখানে যাদের হাজার হাজার কোটি টাকা আছে, আর যারা শুধু তোষামোদ করে বড় বড় পদ পেয়ে যায়, তাদের সাইড লাইনে রেখে, নিচুতলার কর্মীদের বরাবরের জন্য সামনে আনা, গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর জন্য দলীয় কর্মসূচি নিশ্চিত করা। যারা পথে নেমে দলের জন্য, দলীয় প্রতীকের জন্য নিজের সংসার এবং জীবন বাজি রেখে রাজনীতি করে, তাদের সম্মান দেওয়া, আর যারা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে তাদের জরিমানা করে, সেই টাকায় এই নিচুস্তরের কর্মীদের পাশে থাকার জন্য একটি ফান্ড তৈরী করা। আর হাসিনা যদি মনে করেন তাকে এবং বঙ্গবন্ধুকে আওয়ামীলীগ করা মানুষগুলো পাগলের মত ভালোবাসে, তাই এই লোকগুলি বার বার প্রতারিত হয়েও তার ডাকে সাড়া দেবেন, তাহলে তিনি চিরকাল কল্প জগতেই থেকে যাবেন, আর কল্প জগৎ থেকেই হারিয়ে যাবেন। আর যদি ভাবেন তিনি আগে ক্ষমতায় ফিরে তার পর দলের ভিতরে থাকা এই ঘুঘুদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে এই ধরণের ব্যবস্থা নিবেন, তাহলে তিনি নিচু তলার কর্মীদের বিশ্বাস ভাজন হতে পারবেন না। আর এই সবের আগে প্রয়োজন নিজের পরিবারের নামে ওঠা যে কোন অভিযোগের তদন্ত করে কোন ভুল থাকলে দেশের মানুষের কাছে সেই ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। তাহলে হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি মানুষের যে আবেগ আছে, তাকে তিনি কাজে লাগিয়ে আবার দেশে ফিরতে পারবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে আজও আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশে গত...
Read more












Discussion about this post