একদিকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। সেখানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য, প্রমাণের জন্য রাজসাক্ষী জোগাড় করা হয়েছে একজনকে। অন্যদিকে বিবিসি শেখ হাসিনার অডিও ক্লিপ নিয়ে বিশেষ ডকুমেন্টারি তৈরি করেছে। তখন প্রশ্ন উঠেছে শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কি বিপদে পরে যাচ্ছেন? ইউনূস যেভাবে হাসিনার বিরুদ্ধে মেতে উঠেছেন তাতে তিনি কি একা হতে চলেছেন? কারণ তারই ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন পুলিশ আইডিপি তার বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী দিতে যাচ্ছেন। এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের অবস্থান কি হবে? এক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানই বা কি? ভারত হাসিনাকে ফেরত দেবে না, সেটা তো একরকম নিশ্চিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যেভাবে মহম্মদ ইউনূসের সরকার গুটি সাজাচ্ছে, তাতে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতও চাপ অনুভব করতে পারে। কারণ বিবিসি শেখ হাসিনার যে অডিও ক্লিপ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে, তাতে এমন বাস্তবতায় লক্ষ্য করা
যাচ্ছে। কারণ অন্যান্য গণমাধ্যমের তুলনায় বিবিসির প্রতিবেদনকে চ্যালেঞ্জ করা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে বিবিসি যে অডিও ক্লিপ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে, এটাকে মিথ্যা প্রমাণ করতে না পারলে আদালতে এক প্রকার প্রমাণের কাজ করবে এই অডিও ক্লিপ। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের তরফে বলা হচ্ছে, আদালতের বিষয় সংবাদমাধ্যমের হাতে তুলে দেওয়া একটি বড় ধরনের অপরাধ। এদিকে ভারত শেখ হাসিনাকে কোনওভাবেই বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দেবে না। এটা একপ্রকার নিশ্চিত বলে জানাচ্ছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে বেশ কিছু অডিও বার্তার মাধ্যমে, এমনকি সম্প্রতি একটি অডিও বার্তা তে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার কথা বলছেন। এখন এই পরিস্থিতিতে, তারই কথা কতটা গ্রহণযোগ্য, সেটা ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ তিনি তার দলীয় নেতা কর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্যই এই বার্তা দিয়ে থাকেন বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।
এদিকে বিবিসির প্রকাশিত শেখ হাসিনার অডিও ক্লিপ ঘিরে হাসিনা পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় ফেসবুক লিখছেন, বিবিসিতে প্রচারিত অডিও রেকর্ড হল ২০১৬ সালের ১ জুলাইয়ে। সেদিন গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারিতে জঙ্গি দমনে অপারেশন ঠা বোল্ট পরিচালিত হয়েছিল। ২০১৬ সালের জঙ্গি দমনের নির্দেশনাকে বিশ্ব বাটপার ইউনূস গ্যাং ২০২৪ সালের অডিও হিসেবে বিবিসিকে গলাধকরণ করিয়েছে। বিবিসির জন্য লজ্জা। যদিও তার পোস্টটি ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বলা হচ্ছে, এই ভিত্তিহীন অডিও ক্লিপের কোনও প্রাপক নেই। অডিও টি সত্যি হলে, তার প্রাপকও সুনির্দিষ্ট কেউ হত। জননেত্রী শেখ হাসিনার মানহানি করার জন্য বর্তমান সরকার এবং আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষদের যোগসাজসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি বিবিসি যে ফরেনসিকে আর সত্যতা যাচাই করার জন্য লাঠিয়েছে, তারাও শতভাগ নিশ্চিত করতে পারেনি। এমনকি ক্রস চেক করার জন্য এখানে বিপরীত ভাষ্য অর্থাৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষের কোনও বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি।
আওয়ামী লীগ কার্যত দাবি করার চেষ্টা করছে, এআই দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। এদিকে হাসিনা পুত্র অন্য কথা বললেন। ফলে পুরো পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের খানিকটা বিপরীতে যাচ্ছে। এমনকি আওয়ামী লীগের মধ্যেই সমন্বয়ের অভাব দেখা যাচ্ছে। অনেকে এক্ষেত্রে বলছেন, তবে কি শেখ হাসিনার দল আন্তর্জাতিক লবির ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে? তবে সে যায় হোক, ভারত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে না। বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।












Discussion about this post