২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা ছড়িয়েছিল। কারণ সামনেই বাংলাদেশে নির্বাচন। আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না আওয়ামী লীগ। এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পর শেখ হাসিনা একটি ইংরেজি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। তার রেশ কাটতে না কাটতে আর একটি ভারতীয় গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সাক্ষাৎকারে সবথেকে গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হল, শেখ হাসিনা যা দেশে ফিরছেন, এমন একটা ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা খুব তাড়াতাড়ি কি বাংলাদেশে ফিরছেন?
শেখ হাসিনা বলছেন, আইনের শাসন ফিরিয়েই দেশে ফিরব। তবে কি হাসিনা নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছেন? কারণ নির্বাচন না হলে তো স্থায়ী সরকার আসবে না। আর স্থায়ী সরকার না এলে দেশ স্থিতিশীল হবে না। পাশাপাশি আইনের শাসনও প্রতিষ্ঠা হবে না। তবে কি তিনি অপেক্ষা করছেন, নির্বাচন হওয়ার? নাকি এর পিছনে আরও কোনও গভীর কারণ রয়েছে? তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বাংলাদেশে পা রাখার পর আপনার প্রথম অগ্রাধিকার কি হবে? জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমার প্রথম ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হবে, সংবিধান সম্মত শাসন ব্যবস্থা ও আইনের শাসন পুন:প্রতিষ্ঠা। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বিগত কয়েক মাস ধরে মব, সন্ত্রাস গ্রাস করেছে। এমনকি গণহারে গ্রেফতার, গণতন্ত্র অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এমনকি আইনের শাসন ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আজ পর্যন্ত ১ লক্ষ ৫২ হাজার মানুষ মিথ্যে মামলায় কারাবন্দি। যাদের অনেককেই নির্মম নির্যাতনের শিকার, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া জরুরি। এর পাশাপাশি ইউনূস সরকার যে সর্বনাশ করে গিয়েছে, সেটা মেরামত করাই আমার দায়িত্ব। যেটা দ্রুত গতির অর্থনীতি ফিরিয়ে আনা, কৃষক শ্রমিকের অধিকার, রাষ্ট্রের ধর্ম নিরপেক্ষ ভিত্তি আক্রান্ত হয়েছে, সেটা ফিরিয়ে আনা, সংখ্যালঘুদের যে শঙ্কায় দিন কাটানো সেগুলিকে মেটানো। এমন নানা বিষয়ের কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তারেক রহমান এবং বিএনপি কে কি বিশ্বাস করা যায়? এমনই প্রশ্ন করা হয় শেখ হাসিনাকে। সেখানে তিনি বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিনের সংসদীয় প্রতিদ্বন্দ্বী। এটাই গনতন্ত্রের স্বাভাবিক রীতি। শক্তিশালী বিরোধিতা শাসন ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করে। কিন্তু কিছু বাস্তব সত্য ভুললে চলবে না। তারেক রহমান ১৭ বছর স্বচ্ছন্দে নির্বাসনে দিন কাটিয়েছেন। তিনি বলেন,বিএনপি যদি সরকার গঠন করেন, তাহলে আমি আশা করব, তারা আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে প্রকৃত সংসদীয় গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। প্রকৃত বিরোধী দলছাড়া সংসদ কখনও সংসদ হতে পারে না। অর্থাৎ বিএনপি সম্পর্কে তার ইতিবাচক ধারণা। এখানেই বোঝা যায়, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোথাও গিয়ে সমঝোতা হয়েছে বিএনপির। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছেন। তারেক রহমানের সঙ্গে চিঠি হস্তান্তর হয়েছে, এই বিষয়টি নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। এটাকে তিনি কূটনৈতিক সৌজন্যতা বলে উল্লেখ করেছেন। এমনকি খালেদা জিয়া একজন প্রাক্তন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না। এমন ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, গত এক বছর তিনি কিভাবে কাটালেন? দলের সঙ্গে যোগাযোগ কি আপনাকে শক্তি দেয়? তিনি বলেন, দূর থেকে আমি দেখেছি। আমরা যেভাবে গড়ে তুলেছিলাম, সেগুলি সব ভেঙে ফেলা হয়েছে। অর্থনীতি, সম্প্রীতি, প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা… সবই ভাঙা হয়েছে। তারপরও তিনি উল্লেখ করেন, সাংবাদিকরা সাহস নিয়ে সত্যি লিখেছেন। সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে মুখ খুলেছেন। এই যোগাযোগ আমাকে শক্তি দিয়েছে। আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র একটি দল না, এটি ৭১-এর স্বপ্ন। ভয় আর দমন দিয়ে সেটা মুছে ফেলা যায় না বলে উল্লেখ করেন তিনি। ধৈর্য ধরেছি। ভয় দেখানোর শাসন টেকে না। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত মানুষেরই থাকবে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা একটা ইঙ্গিত দিলেন, যে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। ফের শেখ হাসিনার দল ফিরবে। পাশাপাশি হাসিনাও দ্রুত ফিরতে পারেন। তবে এখন দেখার, সামনে নির্বাচনের পর বাংলাদেশের আবহ কি তৈরি হয়!












Discussion about this post