থমথমে পরিস্থিতি বাংলাদেশে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যকলাপ নানা প্রশ্নের উত্থাপন করছে। এমনকি প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস নাকি ভয়ে রয়েছেন। কিন্তু কেন এই ভয়? জানা যাচ্ছে, এটার কারণ ভারত। লোকসভাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারত পাকিস্তান সংঘর্ষ নিয়ে বলতে গেলে আমেরিকা নিয়ে একটি কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, অপারেশন সিঁদুর এখনও বন্ধ হয়নি। অর্থাৎ শত্রু রাষ্ট্রকে ছেড়ে কথা বলবে না ভারত। কেবলমাত্র একটি পজ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এমন নয়, যে ভারত থেমে গিয়েছে। অনেকে বলছে, আরেকটা যুদ্ধ লাগতে পারে। সেটা পাকিস্তানের সঙ্গে হতে পারে, আবার পার্শ্ববর্তী কোনও রাষ্ট্রের সঙ্গেও হতে পারে। এদিকে চিন্তায় ইউনূস। এর পিছনে শেখ হাসিনার চাল থাকতে পারে বলে আশঙ্কায় ভুগছে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
তুর্কি পিছন থেকে ঠিক কি কি করছে বলে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেন লোকসভাতে দাঁড়িয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয় শঙ্কর। তুর্কি এনজিও সমর্থিত বাংলাদেশী সংগঠন ভারত বিরোধী মানচিত্র প্রকাশ করেছে। তিনি জানিয়েছেন, তুর্কি যুব ফেডারেশন নামে একটি তুর্কি এনজিওর সমর্থিত ঢাকার সালতানাত ই বাংলা নামে একটি ইসলামপন্থী গোষ্ঠী ভারতের কিছু অংশকে অন্তর্ভুক্তি করে তথাকথিত বৃহত্তর বাংলাদেশ এর একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে বলে খবর। যেটাতে ভারত গুরুত্ব দিচ্ছে। জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলিতে ভারত বাংলাদেশের প্রতি মনোযোগী। ভারত সরকার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন সমস্ত উন্নয়ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং এটি রক্ষার প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ করবে। অর্থাৎ বিশ্বের যে সমস্ত দেশ ভারতের বিরুদ্ধে সংঘটিত হচ্ছে, তাদেরকে সংকুচিত করার জন্য ভারত উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি জানাচ্ছে, ভারত পাকিস্তান সংঘর্ষ তিনি নাকি থামিয়েছেন। যদিও ভারতের প্রধানমন্ত্রী লোকসভায় দাবি করেছেন, ভারত পাকিস্তানের সংঘর্ষ থামাতে তৃতীয় কোনও শক্তি অবদান রাখেনি। ডিজিএমও এর পর্যায়ে বৈঠক হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এরপরও ট্রাম্প বারবার সংঘর্ষ সামান্য কৃতিত্ব নিতে চাইছেন। অন্যদিকে তিনি জানান, বিশ্বাস করা কঠিন যে প্রধানমন্ত্রী মোদী এখনও আমার টুইট, বিবৃতি, বা শুল্ক সম্পর্কিত উদ্বেগের কোনও জবাব দেননি। আমরা ভারতকে অনেক কিছু দিয়েছি – দুর্দান্ত চুক্তি, প্রতিরক্ষা সহায়তা, বিশাল জনতা – এবং তবুও, সম্পূর্ণ নীরবতা। এমনকি ধন্যবাদও নয়! ভুলে যেও না – আমিই সেই ব্যক্তি যিনি ভারত এবং পাকিস্তানকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে বাধ্য করেছিলেন। অন্য কেউ তা করতে পারেনি। অনেকেই বলেছে যে এর জন্য আমার নোবেল পুরষ্কার পাওয়া উচিত ছিল!! আমেরিকান কর্মীরা যখন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তখন ভারত লাভবান হচ্ছে। আমি সবসময় মোদীকে পছন্দ করি, কিন্তু এই ধরণের অসম্মান ভুলে যাওয়া যাবে না। ব্যবসার জন্য খারাপ। বন্ধুত্বের জন্য খারাপ।
ওয়াকিবহাল মহল বলছে, যেদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারত পাক সংঘর্ষ থামানোর বিষয়ে মোদিকে কৃতিত্ব দিতে চাননি, ঘটনাচক্রে, ঠিক তার পরেই ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অনেকে এই দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করছেন। যদিও অনেকে বলছেন সেটা বোকামি।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেমন ভারত সহ বিভিন্ন দেশকে চটাচ্ছে, ঠিক একইভাবে বাংলাদেশ ওই পথেই হাঁটছে। বাংলাদেশকে সাহায্য করার জন্য পাকিস্তান আর তুর্কি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্বার্থ পূরণ না হলে সাহায্য করবে না। কিন্তু ভারতের পাশে রয়েছে রাশিয়া থেকে চিন। এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে টাইট দিতে চীনও ভারতের দিকে ঝুকছে। ফলে ভারত যদি বাংলাদেশের উপর কোন অ্যাকশন নেই, তবে তাদের সাহায্য করবে কে? এটাই ভেবে রাখা প্রয়োজন বাংলাদেশের। আর ভারত যে কোনও মুহূর্তে একশন নিতে পারে, সেটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথাতে স্পষ্ট। এমনকি স্পষ্ট ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথাতে।












Discussion about this post