হাসনাত আব্দুল্লাহ, বর্তমান সময়ে আলোচিত একজন তরুণ রাজনীতিবিদ। নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হয়েছে এই ধরনের তরুণ রাজনীতিবিদদের হাত ধরে জাতীয় নাগরিক পার্টি এই নতুন রাজনৈতিক দল নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছে তেমনই শুরু হয়েছে সমালোচনা। অর্থাৎ ছাত্র সমন্বয়কদের এই রাজনৈতিক দল এনসিপি গঠন হওয়ার আগে তাদের একচ্ছত্র জনপ্রিয়তা থাকলেও এই দল গঠনের পর থেকে সেই জনপ্রিয়তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এবার ছাত্র নেতাদের বিরোধিতা করা হলে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের অ্যাকশন প্রশংসনীয় হলেও, পারিপার্শ্বিক অন্যান্য পরিস্থিতিতে পুলিশের যে নির্বিকার ভূমিকা তা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে গোটা বাংলাদেশের জনমানষে।
নাটোরের বড়াইগ্রামে চলমান জুলাই পদযাত্রায় জাতীয় নাগরিক পার্টির বা এনসিপি র দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিয়ে ফেসবুক কমেন্টে হুমকি দেয় একজন আওয়ামীলীগ কর্মী। তরফ থেকে দ্রুত পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হলে, দ্রুততার সঙ্গে ওই অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ কর্মীকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দ পুলিশ। আগ্রান গ্রামের বাসিন্দা ওই অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ কর্মী বলে জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে। আর ঘটনার দিন রাতেই নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয় পুলিশি তৎপরতায়।
সূত্র মারফত জানা যায়, গত রবিবার ‘বড়াইগ্রামের কণ্ঠস্বর’ নামে একটি ফেসবুক পেইজে পদযাত্রার অংশ হিসাবে বনপাড়ায় এনসিপির পথসভার প্রচারমূলক একটি লেখা দেওয়া হয়। এ লেখার নিচে, কমেন্ট সেকশনে, এসকে শারমিন খোরশেদ আলম নামের একটি আইডি থেকে কমেন্টে লেখা হয় ‘একটু আগে এক জায়গায় হাসনাত মার খেয়েছে এলাকাবাসীর, আসুক বনপাড়া, দেখি আমরা কি করতে পারি’ । পরে বিষয়টি এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হলে ডিবি পুলিশ ওই কমেন্টকারী খোরশেদ আলমকে গ্রেফতার করে ঘটনার দিন রাতেই।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারওয়ার হোসেন বিষয়টি সম্পর্কে জানান, অভিযোগ পেয়ে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়ে ডিবি পুলিশ কমেন্টকারী খোরশেদ আলমকে গ্রেফতার করেছে।
অর্থাৎ এই ঘটনা থেকে প্রমাণ হয় যে, পুলিশ চাইলেই গ্রেফতার করতে পারে, পুলিশ চাইলেই আসামি ধরতে পারে এবং তাদের চেষ্টার মাধ্যমে আসামির সন্ধানও পায়। পুলিশ ভূমিকা গুলি অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটি ভূমিকা। অর্থাৎ নাটোরের এই ঘটনায় পুলিশি অ্যাকশনের মাধ্যমে এই ঘটনাগুলি আর না ঘটার সম্ভাবনা। তাতে দেশে কিছুটা শান্তি শৃঙ্খলা বিরাজ করবে। কিন্তু দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী আরো যে সকল কর্মকান্ড ঘটে চলেছে তাতে পুলিশের ভূমিকা কি তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ফের বৈষম্যের প্রশ্ন আসছে। আন্দোলনের পর সে দেশে ফের বৈষম্যের প্রশ্ন আসাটা খুব একটা সুখকর নয়। অর্থাৎ পরিচয় ভূমিকা উদাহরণ হিসেবে দেখা গিয়েছে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন নিয়ে এক পুলিশ আধিকারিক কটুক্তি করায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ এ বিষয় পুলিশ আধিকারিকও রেহাই পাইনি। কিন্তু বেশ কিছুদিন আগেই পটিয়া থানার ঘটনা পুলিশের ভূমিকা কে যেন অন্যরকম ভাবে ব্যাখ্যা করছে। কারণ সেই সময় এই পটিয়া থানা চত্বর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এক ছাত্রলীগের নেতাকে শহীদ মিনার চত্বর থেকে পটিয়া থানায় নিয়ে এসে গ্রেফতার করতে বলা হলে তার বিরুদ্ধে কোনরকম মামলা বা অভিযোগ না থাকায় পুলিশ যখন তাকে গ্রেফতার করতে পারবে না বলে জানায় তখন পটিয়া থানার ভিতরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় বৈষম বিরোধী ছাত্র নেতারা। এরপরই একের পর এক ছাত্র নেতাদের তরফ থেকে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে এই পটিয়া থানার ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যখন প্রথমেই দেখা গিয়েছিল একটি পোস্টে লেখা হয়েছিল পটিয়া থানা ভেঙে ঘুরিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া উচিত, এবং এরপর পটিয়া থানার ওসির পদত্যাগের দাবি এবং তাকে উত্তরার ঘটনা মনে করিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে একটি পোস্ট সামনে এসেছিল, আবার পুলিশকে মারা হচ্ছে এই ধরনের একটি ছবি পোস্ট করে লেখা হয়েছিল পটিয়া থানার পুলিশের এখন এটাই দরকার। আরো বিভিন্ন সমাজমাধ্যমের পোস্ট প্রকাশ্যে এসেছিল সেই সময়, যেখানে পটিয়া থানার পুলিশ ও থানা এলাকাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের বিরূপ মন্তব্য করা হয়েছিল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতাদের তরফ থেকে। কিন্তু সেই সময় বলেছে তৎপরতাতে কাউকে গ্রেফতার হতে দেখা যায়নি। অর্থাৎ এখানে পুলিশের ভূমিকায় যেমন বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে তেমন দেশের প্রশাসন আইন ব্যবস্থা সর্বত্রই বৈষম্য আজ ও বিরাজমান। কিন্তু যে দেশে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মত একটি বৃহত্তর আন্দোলন ঘটে যায় যার ফলে সরকার পতন হয় সেই দেশে বৈষম্য থেকে যাওয়াটা লজ্জা জনক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।











Discussion about this post