জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত পথসভায় সংবাদিকদের দেখে নেওয়ার কথা বলেছেন। অনেকে এটিকে হুমকি হিসাবে দেখছেন। সেই ঘটনার তীব্র নিন্দা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যদিও পরে তিনি যুক্তি খাড়া করতে জানিয়েছেন, একটি নির্দিষ্ট গণমাধ্যমকে বলেছেন। সেক্ষেত্রেও গণমাধ্যমকে আদেও হুমকি দেওয়া যায় কিনা, সেরকম নৈতিক প্রশ্ন উঠছে। তবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তরফে প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানান হয়েছে। তবে কি এবার প্রেস ক্লাবে গিয়ে মব চালানো হবে? গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ কি মবের শিকার হবে? যদি কোনও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তবে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু কোনও সুস্থ দেশে এমন ঘটনা কি আদেও কাম্য?
হাসনাত আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের যেভাবে হুমকি দিয়েছেন তাতে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাব বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া। প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, মিডিয়াকে হুমকি ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রবণতা জুলাই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী। ১৯৭৫ সালের রক্তক্ষয়ী জুলাই ছাত্র গণঅভ্যুত্থান মত প্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবিতে সংঘটিত হয়েছিল। অথচ আজ সেই চেতনার আলোকে পরিচালিত হওয়ার পরিবর্তে মিডিয়াকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা সেই লক্ষ্য অর্জনের অন্তরায় ও হস্তক্ষেপের শামিল। আরও বলা হয়। গণমাধ্যমের রিপোর্ট বা ভূমিকায় কেউ সংক্ষুব্ধ হলে প্রতিকারের জন্য দেশের প্রেস কাউন্সিল ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালত রয়েছে। কিন্তু সরাসরি হুমকি, মামলা কিংবা হয়রানির পথ বেছে নেওয়া দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশের জন্য বড় বাধা।
জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী ছাত্র অভ্যুত্থান যেসব কারণে সংগঠিত হয়েছিল তার অন্যতম ছিল মত প্রকাশ এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ। অথচ সেটাই করা হচ্ছে। হাসিনা সরকারকে বলা হচ্ছে ফ্যাসিস্ট। কিন্তু এখন যে ঘটনা চলছে, সেটাকে কি বলবে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এমনকি বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকের ছবি দিয়ে বলা হচ্ছে র এর এজেন্ট। তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করা হচ্ছে। শেখ হাসিনার সময়ে যা যা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়, সেখানে দাঁড়িয়ে কি আদেও আলাদা কিছু ঘটছে বাংলাদেশে? উঠে আসছে প্রশ্ন। যদি এর সমালোচনা করা না হয়, তবে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে। মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post