গত বছর শেখ হাসিনা সরকারকে হটিয়ে ছাত্ররাই তাকে ক্ষমতায় এনেছিল। এখন সেই ছাত্রদের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ করছে মহম্মদ ইউনূসের সরকার। অনেকে বলছেন, ক্ষমতা পেয়ে হিটলারি শাসন চালাচ্ছে ইউনূস। ১২০০ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে ইউনূসের বাহিনী। ক্ষোভে ফুঁসছে ছাএমহল।
সোমবার বিমান দুর্ঘটনায় ঘটনার সূত্রপাত। মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের উপর বায়ুসেনার বিমান ভেঙে পড়ায় মৃত্যু হয়েছে বহু পড়ুয়ার। আর এতেই ক্ষোভে ফুঁসছে ছাত্ররা। তার উপর এমন দুর্ঘটনার পরও এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করেনি ইউনূসের সরকার। আর এতেই ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে। শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা সচিবের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয় পড়ুয়ারা। উত্তাল হয় ঢাকা।
জানা যায়, মঙ্গলবার বিমান দুর্ঘটনা এবং পরীক্ষা স্থগিত না করাতে সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন পড়ুয়ারা। গেট ভেঙে ঢুকে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। তাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে। এই ঘটনায় ১২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ডিএমপির সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের এসআই গোলাম মুক্তি মাহমুদ এই মামলা করেন। মামলাতে দাঙ্গা তৈরি করে সচিবালয় প্রবেশ এবং ভাংচুর ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে লাঠি নিক্ষেপ করার অভিযোগ তোলা হয়। একাধিক কলেজের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
ওই মামলাতে যোগ করা হয়, আন্দোলন চলাকালীন সচিবালয়ের সমস্ত গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। সচিবালয়ে যাতে প্রবেশ না করে, তাদের অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তারা না শুনে আন্দোলন আরও সংঘঠিত করে। তারা সচিবালয়ের প্রধান গেটের সামনে এসে প্রবল বিক্ষোভ শুরু করে। গেট ভেঙে তারা ভিতরে প্রবেশ করে। স্বাভাবিকভাবেই তাদের বাধা দেয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। তারা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর এবং আনসার বাহিনীর উদ্দেশ্যে লাঠি ছুড়তে থাকে। অভিযোগ তোলা হয়, তাদের হত্যার উদ্যেশ্যে এই কর্মকাণ্ড। এমনকি বিক্ষোভকারীদের আক্রমণে আহত হন অনেকে। অভিযোগ ওঠে সরকারি সম্পত্তি ভাংচুর এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। অন্যদিকে শিক্ষাথীরা অভিযোগ করছেন তাদের উপর লাঠিচার্জ করেছে ইউনূসের প্রশাসন বাহিনী। শুধু তাই নয়, আহত ৭৫ জন ছাত্রকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ফলে সবমিলিয়ে ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ এবং পাল্টা অভিযোগে উত্তাল বাংলাদেশ। অনেকে বলছেন, যে ছাত্ররা তাকে সিংহাসন এনে দিল, তারাই এখন তার সিংহাসন কেড়ে নিতে উদ্যত। লড়াই করে আর কতদিন তারা সিংহাসন বাঁচাতে পারেন, এখন সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন চিহ্ন।












Discussion about this post