আবারও পাকিস্তানের পথেই পা বাড়ালো বাংলাদেশ। পাকিস্তান যেমন খোলাখুলি ইজরায়েলকে শত্রুদেশ হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের দেশের নাগরিককে ইজরায়েলে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তেমনই এবার বাংলাদেশ করল। বিশ্বের মাত্র কয়েকটি দেশ এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তাঁদের দেশের নাগরিকদের জন্য। পাকিস্তান ছাড়াও সেই তালিকায় রয়েছে, আলজেরিয়া, ইরান, ইরাক, লেবানন, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, সিরিয়া এবং ইয়েমেন। এবার বাংলাদেশও তাঁদের পাশপোর্টে সরাসরি লিখে দিল “ইসরায়েল ছাড়া বিশ্বের সকল দেশের জন্য এই পাসপোর্ট বৈধ”। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাসপোর্ট ও অভিবাসন বিভাগ ৭ এপ্রিল এই নির্দেশিকা জারি করেছে।
প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট বাংলাদেশ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে “মার্চ ফর গাজা” কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। ওই উদ্যোগে সামিল হয়েছিল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি, হেফাজতে ইসলাম-সহ বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং ইসলামি কট্টরপন্থী নেতারা অগ্নিগর্ভ বক্তব্য পেশ করেন। এবং সমাবেশ শেষে পাঁচ দফা দাবিতে একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়।
এতে ইসরায়েলের সাথে বাংলাদেশ সরকারের সব চুক্তি বাতিলের দাবিসহ গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ এবং মুসলিম বিশ্বকে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক ছিন্নের আহ্বান জানানো হয়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই আহ্বানের পরই বাংলাদেশ সরকারের তরফে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাশপোর্টে “ইসরায়েল ছাড়া বিশ্বের সকল দেশের জন্য এই পাসপোর্ট বৈধ” বাক্যটি যুক্ত করে দিল। উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনের গাজায় ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার প্রতিবাদে গত শনিবার ওই মার্চ ফর গাজা মিছিলে কয়েক হাজার মানুষ নানা রকম প্ল্যাকার্ড, পোস্টার, ব্যানার-সহ বাংলাদেশ ও শিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে হাঁটেন।
জানা যাচ্ছে, একটা সময় বাংলাদেশি পাসপোর্টগুলিতে “এই পাসপোর্টটি ইসরায়েল ছাড়া বিশ্বের সকল দেশের জন্য বৈধ” লেখা বাক্যটি থাকতো। কিন্তু ২০২১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার, বাংলাদেশি পাশপোর্ট থেকে এই বাক্যটি সরিয়ে নেয়। এবং তাঁরা ইজরায়েলের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়। যদিও সেই সময় শেখ হাসিনা সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, তারা ইসরায়েলের প্রতি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেনি, তবে নথির আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার জন্য পাসপোর্ট থেকে এই বাক্যাংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের পর, বাংলাদেশি নাগরিকরা ভিসা পেলে তৃতীয় কোনও দেশ থেকে ইসরায়েলে ভ্রমণের অনুমতি পেতেন। কিন্তু এখন আর কোনও বাংলাদেশি নাগরিক ইজরাইল ভ্রমণ করতে পারবেন না। কারণ, পাশপোর্টে “এই পাসপোর্টটি ইসরায়েল ছাড়া বিশ্বের সকল দেশের জন্য বৈধ” লেখা থাকায় তৃতীয় কোনও দেশ থেকেও আর ইজরায়েলের ভিসা মিলবে না।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা বাংলাদেশের জন্য অনেকটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। পাকিস্তান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক যে কোনও ভাবেই হোক টিকিয়ে রেথেছে। সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশও একই পথ অবলম্বন করছে। সেখানে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যারা এই সিদ্ধান্তের জন্য একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল, ভারত ও কিছু ক্ষেত্রে রাশিয়ার কোপে পড়তে চলেছে। মার্চ ফর গাজা কর্মসূচিতে বিভিন্ন ভিডিওয় দেখা গেছে কিছু প্রতিবাদী ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেঞ্জামিন নেতিনইয়াহুর ছবিতে জুতো মারছেন।
যা নিয়ে ইজরায়েলি মিডিয়া খবর করেছে। ১৫ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুসের সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এক সাংবাদিক। তাঁর প্রশ্নের উত্তরে ট্যামি ব্রুস বলেন, আমরা বাংলাদেশে কি হচ্ছে তার খবর রাখি, এমনকি ব্রিটিশ সাংসদ টিউলিপ সিদ্দিকীর সঙ্গেও যা হয়েছে তার খবর রাখি। আসলে বাংলাদেশের বর্তমান তদারকি সরকারকে বুঝতে হবে বাংলাদেশি জনগণ ঠিক কি চায়। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচনের কথাও বলেছেন। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ভারত এমনিতেই বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছে। ফলে তাঁদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বড়সড় সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের কোপে পড়লে বাংলাদেশিদের হাল আরও খারাপ হবে।










Discussion about this post