ভারতের নৌবাহিনীর বড় ঘোষণা। গুজরাট উপকূলের পাকিস্তান সীমান্ত লাগুয়া অঞ্চলে শুরু হয়ে গিয়েছে লাইভ ফায়ারিং এক্সারসাইজ। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসল গোলাবারুদ ব্যবহার করে সামরিক মহড়া চালানো হয়। অর্থাৎ ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে ভারতীয় নৌ-বাহিনীকে একেবারে সামরিক তৎপরতা শুরু করতে দেখা গিয়েছে।
উল্লেখ্য,ভারতীয় নৌবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করে জানিয়েছে,যে এটি একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ মহড়া নয়।
এটি একটি বাস্তব যুদ্ধকালীন মহড়া, যেখানে নৌবাহিনী অনুশীলন করছে কিভাবে প্রকৃত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ করা যায়।
যার অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত। পাকিস্তানের করাচি থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে গুজরাটের উপকূলে গাদার বন্দরে হাতেগোনা কিছুটা দূরত্বের মাঝেই এই মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অপারেশনটি ভারত 30 এপ্রিল থেকে শুরু করেছে এবং এটি চলবে 3 মে পর্যন্ত।
ভারতের আইনি সীমানার মধ্যে,ড্রিলটি সম্পূর্ণরূপে ভারতের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন এর মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমার মধ্যেই রয়েছে।
আবার, আমরা যদি মানচিত্রটি লক্ষ্য করি তবে আমরা দেখতে পাবো যে পাকিস্তানের সমুদ্রসীমা সেখান থেকে মাত্র 85 নটিক্যাল মাইল যেখানে এই মহড়া হচ্ছে শুরু হয়েছে।
এই লাইফ ফায়ার ড্রিলের জন্য ভারত সরকার একের পর এক গ্রীন স্ল্যাগ জারি করেছে। যেগুলি মূলত এক ধরনের সিগনাল যেখানে, গুজরাট উপকূলে সামরিক তৎপরতার স্পষ্ট লক্ষণ।
যদি এই অঞ্চলটি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায় তাহলে, লক্ষ্য করা যাবে যে গুজরাটের উপকূলরেখার সমগ্র অংশ-উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত এই নৌ অভিযানে সক্রিয়ভাবে জড়িত। এটি একটি সীমিত ড্রিল নয়, একটি ব্যাপক এবং অত্যন্ত সমন্বিত মহড়া।
আবার অপারেশনের সময় এটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলা হয়।ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আবারও দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে কাশ্মীরের জিহাদী হামলার পর । পহেলগাওয়ের নিম্নসংশ ঘটনা দিল্লির দৃশ্যমান ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, অনেক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মনে করেন যে এই ধরনের আক্রমণাত্মক এবং বৃহৎ মাপের সামরিক মহড়া শুধুমাত্র একটি সাধারণ প্রশিক্ষণ নয়। এটিকে ভারতের সামরিক প্রস্তুতি এবং কৌশলগত অভিপ্রায়ের একটি ইচ্ছাকৃত শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গভীরে গিয়ে দেখা যাচ্ছে নৌ বাহিনীর তরফে আসল গোলাবারুদ এর মাধ্যমে মিসাইল ছড়া হচ্ছে অর্থাৎ পরীক্ষামূলক নয় বাস্তব কেমন হবে যদি মাথায় রেখে একের পর এক অ্যান্টি শিপ মিসাইল ছোরা হচ্ছে যেখানে ভারতের মর্ডান জাহাজগুলিও অংশ নিচ্ছে। ভারতের কিছু আধুনিক এবং শক্তিশালী নৌ সম্পদ এই সামরিক মহড়ায় মোতায়েন করা হয়েছে- সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, কলকাতা ক্লাস ডেস্ট্রয়ার, অ্যাডভান্সড স্টিলথ ফ্রিগেট এবং বিভিন্ন সাপোর্ট ভেসেল। এই যুদ্ধজাহাজগুলি বাস্তব যুদ্ধের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কার্যকর, এই কারণেই তাদের এই অপারেশনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।












Discussion about this post