ভারত এবার বাংলাদেশকে সাবাক শেখাতে প্রস্তুত। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ভারতের বন্ধু দেশ নয়। তবে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতিতে প্ররোচিত হওয়ার ঘটনায় যদিও ভারত ভেবেছিল রাজনৈতিক পদ পরিবর্তন হলেও বাংলাদেশ থাকবে বাংলাদেশেই। কিন্তু বর্তমান সরকারের কু চক্রান্ত ও কট্টরপন্থী মৌলবাদীদের প্ররোচনা দেওয়ার যে প্রবণতা তা থেকে এখন ভারতের কাছে পরিষ্কার যে বাংলাদেশ আর তাদের বন্ধুরাষ্ট্র নয়। ভারতকে চাপে ফেলতেই এখন চীন ও পাকিস্তানের সহায়তা নিচ্ছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ নিজেও ক্ষমতায় ভারতকে চাপে ফেলতে না পেরে পাকিস্তান ও চীনের তারস্ত হয়েছে কিন্তু পাকিস্তান নিজেই এখন সমস্যায় জর্জরিত, সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতের মারে কুপোকাত সেই দেশ পাশাপাশি এখন দেশভাগের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে পাকিস্তানকে। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই এখন বাংলাদেশের কাছে চীন ছাড়া আর কোন রাস্তা খোলা নেই। ভারতের বড় শত্রু এই চীন। আর এবার এই চীনের সহায়তা নেই বাংলাদেশ সরকার চাইছে ব্রিটিশ আমলের বিমান ঘাঁটি গুলিকে পুনরায় বাঁচানোর চেষ্টা করছে ইউনুস সরকার।
বাংলাদেশের লালমনিরহাট বিমানবন্দর, যেটি ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ২০-২২ কিলোমিটার দূরে এবং কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা ‘চিকেন নেক’-এর খুব কাছাকাছি অবস্থিত। এই বিমান ঘাঁটটিকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগকে এখন সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছে নয়াদিল্লি।
সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, ভারতের আশঙ্কা চীন যদি বাংলাদেশকে এই বিমানবন্দর পুনর্গঠনে সহায়তা করে, তবে সেখানে চীন ভবিষ্যতে ফাইটার জেট, রাডার ও নজরদারি বিভিন্ন সরঞ্জাম স্থাপনের মতো সামরিক ব্যবহারের সুযোগ পাবে। জানিয়ে ধীরে ধীরে উদ্বেগ বাড়ছে ভারতের, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কৌশলগত ও সামরিক প্রস্তুতিও নিচ্ছে ভারত। অর্থাৎ এবার বাংলাদেশের কৌশলগত ষড়যন্ত্রের পাল্টা পদক্ষেপ নিতে উদ্যত নয়া দিল্লি। ত্রিপুরার কৈলাশহর বিমানবন্দর, যা ১৯৯০-এর দশক থেকে পরিত্যক্ত, তা পুনরায় সক্রিয় করে তোলার কাজ শুরু করেছে ভারত। মূলত বেসামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলেও, প্রয়োজনে এটি সামরিক বিমান চলাচলের জন্য প্রস্তুত রাখা হবে।
একদিকে যখন লালমনিরহাট বিমান বন্দরের সক্রিয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত অন্যদিকে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই বিমানবন্দর পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টিকে স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কারণ,সোমবার সেনাসদরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্স অধিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উল-দৌলা জানান, দেশের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলানোর উদ্দেশ্যে লালমনিরহাট বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরের পরিধি ও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে এবং সেখানে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশে সেনার তরফ থেকে আরো জানানো হয়েছে লালমনিরহাট এলাকায় একটি এরোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং বিমানবন্দরটিকে এভিয়েশন খাতের সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কাজে লাগানো হবে।
কিন্তু সে দেশের সেনার তরফ থেকে যতই এই লালমনিরহাট বিমানবন্দরটিকে পুনরায় চালু করার বিষয়টিকে স্বাভাবিক বা প্রয়োজনীয়তার জন্য বলা হোক না কেন, পেতেছে মোহাম্মদ ইউনুছের কৌশলগত ষড়যন্ত্র কাজ করছে সেটা বুঝতে বাকি নেই ভারতের, আর সেই ষড়যন্ত্রের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এবার ভারত কৌশলগত চালের মাধ্যমে ত্রিপুরার কৈতা শহরের ৩ দশকের পুরনো বিমানবন্দরকে সক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। ভারতের এই পদক্ষেপের পর, মুহাম্মদ ইউনুস এর এই ষড়যন্ত্র কোন দিকে মোড নেয় এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post