মিয়ানমারের জুন্টা সরকারের বিরুদ্ধে সেদেশের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মিকে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশের উপর রয়েছে মার্কিন চাপ। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে আরাকান আর্মিদের জলক কেলির উৎসবে মেতে ওঠার ঘটনায় নানারকম অভিযোগ উঠে আসছে। এবার কি তবে আরাকান আর্মিকে সহায়তায় মার্কিন প্রস্তাবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ যুদ্ধে সামিল হয়েছে? ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ৭৩ মিলিয়ন ডলার নতুন আর্থিক সহায়তা প্রদান করার ঘোষণাও করেছিল।
মিয়ানমারের সামরিক জুন্টা সরকারের সঙ্গে চিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। অন্যদিকে আমেরিকা মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে পরিকাঠামোগত সহায়তা প্রদানের কৌশল গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে আরাকান আর্মির দখলে থাকা রাখাইন প্রদেশকে মিয়ানমার থেকে বিচ্ছিন্ন করে নতুন রাষ্ট্র গড়ার কার্যক্রম চালাচ্ছে । সূত্রের খবর, এই বিষয়টি নিয়ে আমেরিকা ইউনূস সরকারের কাছে আবেদন করেছে। আমেরিকার তরফে বলা হচ্ছে, ঢাকা যাতে স্বাধীন রাখাইনকে স্বীকৃতি দিতে উদ্যত হয় । এই উদ্দেশ্যে দফায় দফায় ঢাকা সফরে আসা আমেরিকার কর্মকর্তারা বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলেছেন। যদিও ইউনুস সরকারের তরফে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু স্পষ্ট করা হয়নি।
আবার এগুলির মাঝে সম্প্রতি আরাকান আর্মির ওয়েবসাইটে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়, যাতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের বান্দারবনের একটি জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলে জলকেলি উৎসবে মেতেছেন উর্দি পরা সশস্ত্র আরাকান আর্মির সদস্যরা। এই জায়গাটি বাংলাদেশের মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ১০ কিলোমিটার ভিতরে। উৎসবের ছবিতে বাংলাদেশের কয়েক জন সীমান্তরক্ষীকে দেখা গিয়েছে নির্বিকার দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই ভিডিয়ো সামনে আসার পরে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামি সীমান্ত লঙ্ঘনের দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু বিএনপি বা ছাত্রদের তৈরি নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি চুপ।
জামায়েতে ইসলামীর ফেসবুক পেজে অভিযোগ করে জানানো হয় , বাংলাদেশের ১০ কিলোমিটার ভেতরে অনুপ্রবেশ করে উড়তি পরিহিত ও অস্ত্রধারী আরাকান আর্মির সদস্যরা স্থানীয় উপজাতিদের নিয়ে জলকেলি উৎসব পালন করেছে। বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে। মায়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে এর আগে সীমান্তে গোলাগুলি এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ বার উঠল সরাসরি সীমান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ! উল্লেখ,বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বান্দরবানের থানচিতে মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসবে মিয়ানমার বিদ্রোহী সশস্ত্র গ্রুপ আরাকান আর্মির উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই এ ঘটনায় উৎসবের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে নেটিজেনদের মধ্যে।












Discussion about this post