ভারতে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের পুশ ইন এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছিল ভারত। এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছে বাংলাদেশকে। আন্তর্জাতিক নিয়ম না মেনে পুষ ইন করছে ভারত এমনটাই অভিযোগ ছিল বাংলাদেশের, যদিও সেই বিষয়ে কর্ণপাত করেনি ভারত। উল্টে ৪ জুলাই গুজরাটের ভাদোদারা থেকে ২৫০ জন অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠালো ভারতীয় বায়ুসেনা।
গতবছর বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠনের পর শুরুতেই সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছিলেন, ২৬ লক্ষ ভারতীয় বাংলাদেশে আছে। অনেকে বলছেন সেই সময় বাংলাদেশের শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬ লক্ষ ৪০ হাজার। এবং সেই সময় এই ২৬ লক্ষ ভারতীয়দের ফেরত পাঠানো গেলে বাংলাদেশের শিক্ষিত বেকারত্বের চাকরি দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছিলেন আইন উপদেষ্টা। কিন্তু সেই সময় উপদেষ্টার সেই বক্তব্যকে প্রহসান হিসেবে গ্রহণ করেছিল সেদেশের সাধারণ জনগণ।
কিন্তু ভারতে অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকদের বিরুদ্ধে ভারতের যে পুশ ইন প্রক্রিয়া তা কড়া হাতে অব্যহত রেখেছে ভারত সরকার। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন ও নির্যাতনের পরিপূরক বলে দাবি করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তাতেও ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশীদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে থেমে থাকেনি ভারত। সম্প্রতি গুজরাটে বসবাসকারী প্রায় ২৫০ জন বাংলাদেশিকে ৪ জুলাই একটি বিশেষ ফৌজবিমানে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে এই অবৈধ অভিবাসীদের বিমানে তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং তাদের হাত দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ভাদোদরা বিমান বাহিনী স্টেশন থেকে একটি বিশেষ বিমানের মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছিল সরাসরি ঢাকা বিমান বন্দরে। বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাতকড়া পরা বাংলাদেশি নাগরিকদের ছবি ভাইরাল হওয়াতে প্রশ্ন উঠছে কেন তাদের হাত বেঁধে রাখা হয়েছে? এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে জানা গিয়েছে ট্রানজিটের সময় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাদের হাতকড়া পরানো হয়েছিল।
উল্লেখ্য,গত দুই মাসে, ১,২০০ জনেরও বেশি অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে এমন একটি পরিসংখ্যান সামনে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসী রাজ্যের বিশিষ্ট শহরগুলিতে বসতি স্থাপন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে আহমেদাবাদ, সুরাট, ভদোদরা এবং রাজকোট। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, স্থানীয় পুলিশ সহ কর্তৃপক্ষ অবৈধ অভিবাসীদের সনাক্ত করার জন্য একটি অভিযান চালিয়েছে। এই ব্যক্তিদের অনেকেই অবৈধ প্যান এবং আধার কার্ড ব্যবহার করেছেন বলে খবর প্রকাশ্যে এসেছে।
প্রসঙ্গত,বেশ কিছুদিন আগে গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি ঘোষণা করেছিলেন যে গুজরাট পুলিশ গত কয়েক দিনে ২০০ জন অবৈধ বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয় তাদের বিরুদ্ধে। পুলিশ দলগুলি সন্দেহভাজন এলাকাগুলিতে একাধিক অভিযান চালিয়েছে। এই প্রচেষ্টার ফলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে শত শত অবৈধ বাসিন্দাকে আটক করা হয়েছে।
গুজরাট পুলিশ, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সাথে, ইঙ্গিত দিয়েছে যে আগামী সপ্তাহগুলিতেও একই ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের সন্দেহজনক কার্যকলাপের খবর দেওয়ার এবং যাচাইকরণ অভিযানে সহযোগিতা করে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেছে।











Discussion about this post