প্রায় বছর দুয়েকের বেশি সময় ধরে ইউক্রেন ও রাশিয়া যুদ্ধ চলছে। কূটনৈতিক মহলের একটা অংশের অভিমত, বিশ্বের কয়েকটি দেশ, বাংলাদেশকে সেই ইউক্রেন বানাতে চাইছে। অর্থাৎ, পশ্চিমা শক্তিগুলি যেভাবে ইউক্রেনকে ব্যবহার করে রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক সেভাবেই বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ভারতকে একটা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে দিতে তৎপর তাঁরা। এই দুষ্ট চক্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেমন রয়েছে, তেমনই তাঁর ধামাধারী কয়েকটি দেশ সরাসরি বাংলাদেশকে ভারতের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে তৎপর। মুহাম্মদ ইউনূস হলেন মার্কিন এজেন্ট, এমনকি জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের গতিবিধিও সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। আপনাদের মনে নিশ্চই প্রশ্ন উঠছে কেন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় দেশগুলি ভারতকে বিপদে ফেলতে চাইছে? আসুন সেটাই একটু আলোচনা করা যাক।
বিগত ১৪ মাসে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ভারতকে দূরে ঠেলে পাকিস্তানকে আপন করে নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ভারতের বিরুদ্ধে ক্রমাগত উস্কানিমূলক মন্তব্য করে চলেছেন। তাঁর উপদেষ্টামণ্ডলী এবং দোসররাও ক্রমাগত ভারতের বিরুদ্ধে নানা বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও হুমকি দিয়ে চলেছেন। এমনকি সাহস এই পর্যায়ে গিয়েছে যে কখনও ভারতের অতি সংবেদনশীল অংশ শিলিগুড়ি করিডোর এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য বা সেভেন সিস্টার্সকে নিয়েও হুমকি দিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। যদিও তাঁর একার ক্ষমতা নেই ভারতকে এভাবে হুমকি দেওয়া বা উস্কানি দেওয়ার। এটা দিনের আলোর মতো পরিস্কার। তাহলে এই সাহস আসছে কোথা থেকে? একটু লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে, বিগত ছয় মাসে বাংলাদেশে পাকিস্তানের একাধিক সেনা কর্তা ও শীর্ষ জেনারেলদের আনাগোনা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনার একটা অংশও ঘনঘন পাকিস্তানে যাচ্ছেন। এবার আসা যাক বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের কথায়। তিনি একাধিক বিদেশ সফর বাতিল করলেও আচমকা এমন তিনটি দেশে ভ্রমণ করলেন যা তাঁর না গেলেও চলতো। জেনারেল ওয়াকার মধ্য আফ্রিকায় গেলেন, কাতারে গেলেন এবং একবার সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। এই তিনটি দেশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করায়ত্ব। বিশেষ করে কাতার হল এমন একটা দেশ যেখানে বৃহৎ মার্কিন সামরিক বেস রয়েছে এবং বিশ্ব সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমের কোনও না কোনও লিঙ্ক রয়েছে। জানা যায় এই তিন সফরেই তিনি মূলত মার্কিন কূটনৈতিক এবং সামরিক কর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। অন্যদিকে মুহাম্মদ ইউনূস যে ১৪টি বিদেশ সফর করেছেন, তা থেকে বাংলাদেশের কতটা লাভ হয়েছে তার হিসেব নেই। কিন্তু বেশিরভাগ সফরেই তিনি এমন কয়েকটি ফোরাম বা সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন যা মূলত মার্কিন ডিপ স্টেটের অংশ। অর্থাৎ দুয়ে-দুয়ে চার করতে থাকুন।
এবার আসি বাংলাদেশের কথায়। বিগত দুই-তিন মাসে বাংলাদেশ একের পর এক প্রতিরক্ষা ডিল করছে। তুর্কির থেকে ২৬টি ‘তুলপার লাইট ট্যাঙ্ক’, ‘বের্যাকটার টিবি-২’ ড্রোন এবং ‘হিসার ও+’ মাঝারি পাল্লার এবং ‘সিপার’ ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য দূরপাল্লার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কেনার ব্যাপারে অনেক দুর এগিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ইউনূস সরকার পাকিস্তানের অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরিকে ৪০,০০০ রাউন্ড গোলা-গুলি কেনার বরাত দিয়েছিল। পাশাপাশি পাকিস্তান থেকে অত্যাধুনিক জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার ব্যাপারেও কথাবার্তা চালাচ্ছে ইউনূস সরকার। চিন থেকেও বিপুল অস্ত্রশস্ত্র এবং যুদ্ধবিমান কেনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনার কয়েকটি সূত্র। এরমধ্যে এয়ার মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ২০টি জেএফ ১০ সি যুদ্ধবিমান রয়েছে। এছাড়া জাপান ও ইতালির সঙ্গেও বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিরক্ষা চুক্তি হতে পারে বলেই জানা যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের যা আর্থিক হাল তাতে এই বিপুল পরিমান যুদ্ধাস্ত্র কেনার সামর্থ রয়েছে বাংলাদেশের? মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনও বিদেশি বিনিয়োগ বা শিল্প আনতে না পারলেও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে উদ্যোগী। এর থেকেই বোঝা যায় ওই রাশিয়া-ইউক্রেন মডেল বাংলাদেশে কাজে লাগাতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র এবং সহযোগী দেশগুলি। লক্ষ্য একটাই ভারতকে দীর্ঘকালীন যুদ্ধে ফাঁসিয়ে ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে ধ্বংস করা। যাতে আর্থিকভাবে ভারত অনেকটাই পিছিয়ে যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের দাবি, বাংলাদেশকে ইউক্রেন বানানো এতটা সহজ নয়। কারণ, বাংলাদেশ তিন দিক দিয়ে ভারত দিয়েই ঘেরা এবং একদিকে বঙ্গোপসাগর। ফলে যুদ্ধ বাঁধলে পরবর্তী রসদ এবং যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করা খুব কঠিন। আর ভারতও জানে কিভাবে বাংলাদেশকে বাগে আনতে হবে। তাই বিগত দুই-আড়াই মাসে ভারতীয় সেনা বাংলাদেশকে কার্যত চারদিক থেকে ঘিরে সমরসজ্জা তৈরি করে ফেলেছে।












Discussion about this post