হঠাৎ করে বাংলাদেশ থেকে কেন ভারতীয় নাগরিকরা ফিরে আসছেন? রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নয়জন ঊর্ধ্বতন ভারতীয় কর্মকর্তার নীরবে চলে আসাটা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বাইরেও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ার সাথে সাথে, ভারতের নাগরিক, ভিসা কর্মী এবং প্রকল্প কর্মকর্তাদের নীরবে প্রত্যাহার গভীর কৌশলগত এবং কূটনৈতিক অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করছে। এটি কি কেবল সতর্কতামূলক পদক্ষেপ – নাকি নয়াদিল্লির সূক্ষ্ম ভূ-রাজনৈতিক সংকেত? ভারতের এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপের পিছনে নিরাপত্তা, রাজনৈতিক এবং আঞ্চলিক প্রভাব, এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মধ্যে কোন ধরণের প্রভাব পড়বে,তা দেখে নেওয়া যাক। বাইরে থেকে সাদা চোখে দেখলে মনে হবে বাংলাদেশ আভ্যন্তরীন কারণে উতপ্ত হচ্ছে। সেদেশে সামনে ভোট।ক্ষমতা কে ধরে রাখবে আর কে কেড়ে নেবে তাই নিয়ে আভ্যন্তরীন বিশৃঙ্খলা চলছে যা আগামী দিনে আরও বাড়বে। সেই কারণে ভারত, বাংলাদেশ থেকে সমস্ত ভারতীয়দের ফিরিয়ে নিচ্ছে। সাদা চোখে দেখলে তাই মনে হয়। কিন্তু প্রশ্ন থাকে, তাহলে বিদেশী পর্যবেক্ষকরা কিভাবে সেদেশে ভোট পর্যবেক্ষন করবে, তারা কিভাবে সুরক্ষিত থাকবে। তাই সাদা চোখে না দেখে সন্দেহের চোখে দেখলে বোঝা যায়, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ভোটটাকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাদের পরিকল্পনা এবং বর্তমান কার্যকলাপ বলছে তারা একটা যুদ্ধের জন্য নিজেদেরকে তৈরী করছে। তাই তারা দেশের কঠিন অবস্থাতেও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। এই সরকার ভোট করালেও ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। তার জন্যই হ্যাঁ ভোট এবং না ভোট। এই হ্যাঁ ভোটেই খেলবেন ইউনূস সাহেবে। তিনি তারা মেশিনারি দিয়ে আগের থেকেই হ্যাঁ ভোটটি করিয়ে নেবেন। এবং আগামী আরও ছ মাস তারা ক্ষমতায় থাকবে সংস্কারের জন্য। জামাতের জায়গায় যদি বিএনপি জিতে তবে, ক্ষমতা ধরে রাখতে তাদের বড় কিছু প্লান আছে, সেটি নিজের দেশে করতে না পারলে, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়া ছাড়া উপায় নাই। তাই সেনাবাহীনিতে আগের থেকেই পরিবর্তন ঘটিয়ে, সেনাপ্রধানের ক্ষমতা কমিয়ে রাখা হয়েছে।যদি বলি এখন বাংলাদেশ স্থিতিশীল অবস্থায় আছে, এই কথাটি অন্য কোনও দেশের কথা বাদ দিন, বাংলাদেশেরই কোনও মানুষ ভিতর থেকে এটি বিশ্বাস করবে না। সবাই জানে, এ এক ‘মাৎস্যন্যায় যুগের মত অবস্থা।এখন বাংলাদেশে বড় মাছ হল জামাতী রাজাকাররা এবং বিএনপি, যারা ছোট মাছ মানে আওয়ামীলীগ এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের গিলে খাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিন্যাসহীন ক্ষমতা এবং দায়িত্ব। মানে ক্ষমতা যারা ভোগ করছে তাদের কোন দায়িত্ব নেই। পলাশীর যুদ্ধের পরে ভারতের যে অবস্থা হয়েছিল, বাংলাদেশে এখন সেই পরিস্থিতি। ক্ষমতাতেও সেই রাজাকার ইউনূসের জামাতী বাহিনী। আর দায়িত্বে সেনা আর পুলিশ। সেনাকে বার বার ক্যান্টনমেন্টে থাকার হুমকি দেওয়া হয়, আর পুলিশকে তার নিজের থানাতেই পুড়িয়ে মারা হয়।এমনকি থানায় এসে সেই কথা জোর গলায় বলার পরও, তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা নেই পুলিশের। কারণ ক্ষমতা তো তাদের হাতে নেই আছে শুধু দায়িত্ব। কিন্তু ব্যপারটা এখানেই মিটে যাচ্ছে না। আরও আছে, ছাত্রনেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীকে প্রচার চলাকালীন সময়ে পচা ডিম মারা হয়েছে। এখন ভবিষ্যতে এই ডিম কি শুধু ছাত্রনেতাদের কপালেই জুটবে, নাকি জামাতের কপালেও জুটবে তা বলা মুশকিল।যদিওছাত্রনেতাদের এর আগেও দেশে বিদেশে পচা ডিম খাওয়ার অভ্যাস আছে। ফলে ভোট ঘোষনার আগে যেমনটি মনে হচ্ছিল জামাত বিএনপি মিলে, মিলিজুলি সরকার গড়বে আর ভোটে বিদেশীদের কাছে লোক দেখানো একটা বিরোধী দেখানোর জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে কথা বলবে। তেমনটি হয়তো হবে না। এতদিন এই ছাত্রনেতারা গরুর পালে রাখালের বাঘ পড়ার গল্প বলে আসছিল। এবার সত্যিকারের গরুর পালে বাঘ পড়বে। আওয়ামীলীগ ছাড়া ভোট হলে কতদিন সরকার থাকবে, তার থেকে বড় কথা, এই ভোট যত কাছে আসবে ততই রক্তক্ষয়ী হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আর এই সব ঘটনাগুলি ঘটবে বলেই ভারত নিরবে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয়দের সরিয়ে নিচ্ছে। ভারত থেকে কোন যুদ্ধের ইঙ্গিত না দিলেও, প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে।












Discussion about this post