নোবেল জয়ী মহম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশে মানুষ সাধ করে সিংহাসনে বসিয়েছিল, যাতে দেশে শৃঙ্খলা ফেরে। কিন্তু সেসব চোখে পড়ছে না একেবারেই। বরং তিনি যে দেশ চালাতে কতটা ব্যর্থ, সেটা প্রমাণিত হচ্ছে বারবার। আর সব ক্ষেত্রেই ভারত বিরোধিতা। ভারতকে দায়ী করার চেষ্টা করছেন ইউনূস। ভারতীয় আধিপত্যের জন্য নাকি দেশ সংকটে। এইবার কঠোর জবাব দিল নয়া দিল্লি। এইবার কি করবেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা?
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে প্রায় ১০ মাস হতে চলল। ভারত বিরোধিতা কিন্তু কমেনি। বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবিক করিডর হোক বা নির্বাচন ইস্যু…. ভারত কখনও কড়া মন্তব্য করেছে আবার কখনও রাখ ঢাক করে মন্তব্য করেছে। গত রবিবার প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি একটি মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রধান উপদেষ্টা নাকি বলেছেন, ভারতীয় আধিপত্যের কারণে দেশ বড় সংকটের মধ্যে রয়েছে। সেই কারণেই গোটা জাতিকে ঐক্য থাকার কথা বলা হয়েছে। এই ধরনের মন্তব্যে ভারত কি জবাব দেবে? স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্নটা উঠছে। যদিও দিল্লি থেকে এল ইউনূসের জন্য কড়া জবাব। নয়া দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে বলব, দেশে যা ঘটছে, তাতে সেখানকার সরকারকেই সামলাতে হবে। কিন্তু তারা সেই দায় অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে। বাইরের শক্তিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। স্পষ্ট বার্তা নয়া দিল্লির।
একটা বিষয় বাংলাদেশের মানুষ বেশ বুঝতে পারছে। সেটি হল, ইউনূস নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে ভারত বিরোধিতা করছেন। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সু সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু তার সরকারের তো পতন ঘটেছে। এমনকি তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাহলে যেটুকু বাংলাদেশকে দিয়ে ভারতের স্বার্থ পূরণ হত, সেগুলি তো আর হয় না। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্দরে নির্বাচন নিয়ে তুমুল শোরগোল চলছে। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলি ডিসেম্বরে নির্বাচন হওয়াকে কেন্দ্র করে সরকারকে চাপ দিচ্ছে। কিন্তু তাতে ভারতকে টেনে নিয়ে আসার অর্থ কি? সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান এবং বিএনপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি চাইছে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হোক। কিন্তু বারেবারে ইউনুস বলছেন, আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন করাতে। আর সেই জন্যই তো রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন মহম্মদ ইউনূস। আর সেখানে হঠাৎ কেন ভারতীয় আধিপত্যের কথা এল? সেনাপ্রধান বারবার বাংলাদেশে বলে এসেছেন, মানবিক করিডর বাংলাদেশ দিলে দেশের ক্ষতি হবে। দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে কোনও আপোষ নয়।এদিকে সেই সেনাপ্রধানকেই ভারতের দালাল বলা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মুক্তি যুদ্ধের পক্ষে কথা বলা হলে , আওয়ামী লীগের দালাল বলা হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষ এগুলি শুনে অভ্যস্ত । তারা এগুলকে নেয় না। কাজেই সব কিছুতে ভারত বিরোধিতা এবং অবাঞ্চিতভাবে ভারতকে দোষারোপ করা ভারত মেনে নেবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মানবিক করিডর ইস্যুতে বলেছেন, যেখানে দেশের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জড়িত রয়েছে, সেখানে দেশ নজর রাখছে। আর একটু বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সেটি হল, নির্বাচন ইস্যু নিয়ে। বাংলাদেশের বহু রাজনৈতিক দল দ্রুত নির্বাচন চাইছে, এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে বারবার একটি কোথায় বলে আসছি, বাংলাদেশকে নিজের দেশের জনগণের রায় যাচাই করতে হবে। এবং তিনি বলেছেন, অন্তর্ভুক্তিভাবে সুষ্ঠ এবং অবাধ নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ ভারতের ইঙ্গিত একেবারে স্পষ্ট। দেশে যতগুলি রাজনৈতিক দল রয়েছে, প্রত্যেককে যেন অংশগ্রহণ করতে পারে। কোথাও গিয়ে আওয়ামীলীগ ও এর মধ্যে রয়েছে। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের সমস্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে তাই নয় তাদের নিবন্ধনও বাতিল করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে কোন কৌশলে, কিভাবে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানো যায়, তার চেষ্টা করবে ভারত। কিন্তু সে তো পরের কথা। এখন দেখার, নয়া দিল্লির পাল্টা জবাবে কি করেন মহম্মদ ইউনূস।












Discussion about this post