জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভয়হীন পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেই আবহেই আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই মোতাবেক প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু বাংলাদেশ যে বাংলাদেশেই আছে তার প্রমান মিলল ২৫ আগস্ট মধ্যরাতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী জালাল আহমেদ ঘটিয়ে ফেললেন এক ভয়াবহ ঘটনা। তিনি তাঁরই রুমমেটকে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে বসেন। মধ্যরাতেই উত্তাল হয়ে উঠল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। জানা যায় তাঁকে শিক্ষার্থীরাই তাঁকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। তাঁকে তড়িঘড়ি বহিস্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য এই জালাল আহমেদ ছাত্র নেতা হিসেবে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে বেশ নামডাক করেছিলেন। তাঁর তুখোড় ও যুক্তিনিষ্ঠ ভাষণের জন্য তাঁকে জ্বালাময়ী জালাল নামেও ডাকা হচ্ছিল। তবে আপাতত এই জ্বালাময়ী জালাল গণধোলাই খেয়ে শ্রীঘরে।
গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের ৪৬২ নম্বর রুমে রবিউল হক নামে এক শিক্ষার্থীকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী জালাল আহমদ। জানা যাচ্ছে, একই রুমে দুজন থাকতেন। মধ্যরাতে ঘরের আলো জ্বালানো নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় রবিউল ও জালালের মধ্যে। সেখানেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র রবিউলকে প্রথমে টিউবলাইটের ভাঙা কাঁচ ও পরে ছুঁড়ি দিয়ে একাধিক আঘাত করে জ্বালাময়ী জালাল। ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্র পরে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মধ্যরাতে ঘরে আলো জ্বালানোর জন্য আমি প্রতিবাদ করি। এতেই জালাল রেগে গিয়ে আমাকে অবৈধ, বহিরাগত বলে। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে আঘাত করে জখম। পরে কোনও ক্রমে আমি নিজেকে আত্মরক্ষা করেছি। অপরদিকে প্রবল বিক্ষোভের মধ্যে জালালকে যখন বের করে আনছিল পুলিশ, তখন সে পাল্টা অভিযোগ করতে থাকে। এমনকি হাইকোর্টে মামলা করার হুমকিও দিতে শোনা যায় তাঁকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানিয়ে দিয়েছেন, জালাল আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ আইন অনুযায়ী নেওয়া হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, এবার ডাকসুর ২৮ পদে প্রার্থী ৪৭১ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ৬২ জন। ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। এর মধ্যে জ্বালাময়ী জালাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছিলেন। সেই মতো তিনি প্রচারও চালাচ্ছিলেন। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্মৃতি বিজরিত ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি ভাঙার ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা ছিল এই জালাল আহমেদের। তাঁর জ্বালাময়ী ভাষণে যথেষ্ট উস্কানি ছিল বলে দাবি। এবার তিনিই গণধোলাই খেলেন তাঁর ক্যাম্পাসের ছাত্রদের হাতে। এটাই হয়তো ভবিতব্য।












Discussion about this post