জাতিসঙ্ঘ থেকে বাংলাদেশের তদারকি সরকারকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। যদিও এই চিঠি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই চিঠি তো অনেকদি আগেই তাদের পাঠানো উচিত ছিল। এতদিন বাদে পাঠিয়ে জাতিসঙ্ঘ এখন মুখ বাঁচানোর একটা চেষ্টা চালাচ্ছে। চিঠিতে বহু বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। এই প্রতিবেদনের বিষয় চিঠির সাত এবং আট অনুচ্ছেদ নিয়ে।
চিঠির সম্ভাষণে বলা হয়েছে ‘মাননীয় অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূস, প্রধান উপদেষ্টা, তদারকি সরকার প্রধান, ঢাকা, বাংলাদেশ।’ চিঠির সাত নম্বর অনুচ্ছেদ বাক স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছ। সেখানে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের তদারকি সরকারকে এটা নিশ্চিত করতে হবে যাতে কোনও সাংবাদিক, তিনি যে কোনও একটি রাজনৈতিক দলের আদর্শে বিশ্বাসী হতে পারে, তাদের যেন কোনওভাবেই গ্রেফতার না করা হয়। তাদের যেন মত প্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত থাকে। রাষ্ট্র বা রাষ্ট্র বহির্ভুত সন্ত্রাসের শিকার যাতে তারা না হন, সেটা তদারকি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। যে সব সাংবাদিকে সরকার বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করেছে, সেই সব অভিযোগের স্বপক্ষে পাকাপোক্ত প্রমাণ বা নথি পেশ করতে হবে। সেটা করতে না পারলে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। অগাস্ট ২০২৪-য়ের আগে এবং পরে যে সংবাদমাধ্যম বা গণমাধ্যমের যে সব কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এমনকী তাদের মধ্যে যে সব আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম বা গণমাধ্যমের প্রতিনিধি রয়েছে, তাদের বিনা প্রমাণে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে। চেষ্টা চলছে তাদের এটা দেখানো যে তারা কোনও না কোনও অপরাধে জড়িত অথচ কোনও প্রমাণ নেই। এদের সবাইকে ছেড়ে দিতে হবে।’
চিঠিতে এর পরের অনুচ্ছেদ রয়েছে আওয়ামী লিগকে নিয়ে। তদারকি সরকার হাসিনার দলকে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ করেছে। সেই প্রসঙ্গে উত্থাপন করে চিঠিতে তদারকি সরকারের উদ্দেশ্যে এই বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘ওই নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বের প্রত্যাহার করা হোক। এই প্রসঙ্গে জাতিসঙ্ঘের ২০২৫-য়ের একটি একটি রিপোর্টের উল্লেখ করা হয়। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, জাতিসঙ্ঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে তদারকি সরকার রাজনৈতিক দল বা তাদের কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকুক। এটা না হলে দেশে বহুত্ববাদী গণতন্ত্র ফিরবে না। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। ’
এছাড়াও চিঠিতে রয়েছে গুমখুন সহ মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার বিষয়। চিঠিতে তোলা হয়েছে রোহিঙ্গা সমস্যা। তবে এই আলোচনা মূলত চিঠির সাত এবং আট নম্বর বিষয় নিয়ে। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী মহলের একাংশ বলছে, এই চিঠি এক ধরনের পাওয়ার প্লে। সেটা চিঠির বয়ান দেখলে বোঝা যাবে। কিন্তু মূল প্রশ্ন, যা নিয়ে এই প্রতিবেদন শুরু হয়েছিল, সেই প্রশ্নে ফিরে যাওয়া যাক।
মহম্মদ ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর কেটে গিয়েছে এক বছরের বেশি। এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশে যা যা হয়েছে, তা নিয়ে অনেক আগেই জাতিসঙ্ঘ এবং তাদের মানবাধিকার কমিশনের তো মুখ খোলা উচিত ছিল। ধর্মাচরণের অধিকারের কথা ধরা যাক। গত বছর দুর্গাপুজো এবং কালীপুজোর সময় প্রতিমা ভাঙচুরের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ঘটেছে সংখ্যালঘু নিপীড়নের একাধিক ঘটনা। তারপরেও জাতিসঙ্ঘ এবং তাদের মানবাধিকার কমিশন চুপ করে কেন বসেছিল?। আসলে এই দুই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী এখন মুখ রক্ষার চেষ্টা করছে, ইংরেজিতে যাকে বলে ফেস সেভিং ট্যাকটিক্স।
২০২৪ সালের ৫ই অগাষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। ওইদিনই শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। ভারতে আশ্রয় নেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের...
Read more












Discussion about this post