জুলাই সনদ নাকি জুলাই মাসে ঘোষণা হতে পারে। তারপরে কি? আদেও কি জুলাই সনদ ঘোষণা করতে পারবে ছাত্রনেতারা? আর এটাকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে রাজনৈতিক দলগুলি। তাহলে কি আস্থা হারাচ্ছে সেনাবাহিনী?
এদিকে জাতীয় ঐকমত কমিশনে প্রায় ৩০ টি রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই বৈঠকে বিএনপির মতো বড় দল ছাড়াও বহু দলই অংশ নিয়েছিল। কিন্তু সেই বৈঠকে যায়নি জামাত ই ইসলামী। তারা নাকি প্রতিবাদ করেছে। কারণ মহম্মদ ইউনূস বা অন্তর্বর্তী সরকার লন্ডনে গিয়ে বিএনপির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছে। এবং সেখানে গিয়ে নির্বাচন বিষয়ে যৌথ ঘোষণা কেন? সেই প্রসঙ্গ তুলে তারা প্রতিবাদ করছে। তবে এটাও জানা যাচ্ছে, পরের বৈঠকেই তারা অংশ নেবে। অন্যদিকে জুলাই সনদ জুলাই মাসে। তেমন একটি জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন সংকল্পবদ্ধ যে, জুলাই মাসের মধ্যে জুলাই সনদ ঘোষণা করতে পারবে। তিনি বলেন, সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি একমত হবে না। কিন্তু সবাইকে নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। ওই বৈঠকে মূল আলোচনার বিষয় হল, সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব, স্থায়ী কমিটির সভাপতি মনোনয়ন, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ এবং প্রধান বিচারপতির নিয়োগ প্রক্রিয়া। ঐক্য মত কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী তিন দিন টানা আলোচনা চলবে। রাজনৈতিক দলগুলো রাজি থাকলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনও এই আলোচনা চলবে। প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, জুলাই সনদ জুলাইয়ে ঘোষণা হবে।
এই বৈঠকে বিএনপি উপস্থিত ছিল। যেখানে বেশিরভাগ আলোচিত হয়েছে সংবিধান বিষয়ক। কিছু মাস আগে যখন ছাত্র নেতারা জুলাই সনদ ঘোষণা নিয়ে উদ্যোগ প্রকাশ করেছিল, তখন বিএনপি দ্বিমত পোষণ করেছিল। কিন্তু আজকের দিনে দাড়িয়ে বিএনপি নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তার কারণ, এই বৈঠকে জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা উঠলে, নিশ্চিত ভাবে বিএনপি বিরোধিতা করেনি। অবশ্য এর আগেও তাদের এমন কাজ দেখা গিয়েছে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা নিয়ে বলা হলে , বিএনপি বলেছিল, তারা কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধর পক্ষে নয়। কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা গিয়েছিল, তারাই বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হলে।
আসলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপিকে সামনে রেখে বিএনপি এবং জামাত তাদের কার্যসিদ্ধি করছে। এনসিপি সংবিধান ছুড়ে ফেললে, সরাসরি সমর্থন না করলেও জামাত বা বিএনপি কোনও রকম আওয়াজ তুলবে না। কারণ বিএনপি ক্ষমতার নিশ্চয়তা চায়। আর সেই জায়গা করে ফেললে, তারা হয়তো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও ভুলে যাবে। অথচ বিএনপি’র বহু মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। অর্থাৎ জুলাই সনদ জুলাইয়ে ঘোষণা করা হবে। এবং তার পরবর্তীতে সংবিধান বদল করা হবে। রাষ্ট্রপতিকে অপসারিত করা হবে। শুধু তাই নয়, দেশের তিন বাহিনীর প্রধানকেও অপসারণ করিয়ে নিজেদের মতো করে প্রধানদের বসানো হবে। সেই দিকেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ।
বিশেষজ্ঞরা এটাও বলছেন, যদি তিন বাহিনী চায়, এই ব্যবস্থা থাকবে না, তবে সব পরিকল্পনাই তো ভেস্তে যাবে। এখন সেনাবাহিনী নিশ্চুপ রয়েছে। তারমানে এটা নয়, তারা সব মেনে নিচ্ছে। তিন বাহিনীর প্রধানকে অপসারণ করার সুযোগ তারা আনতেই দেবে না বাংলাদেশের অন্দরে। ফলে পরবর্তীতে যে পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তিন বাহিনীর প্রধান, রাষ্ট্রপতি থেকে যাবে। সংবিধান থাকবে। উল্টে তোপে ফেঁসে যাবে অন্তর্বর্তী সরকার, এনসিপি, জামাত এবং যদি তাদের সঙ্গে বিএনপি থাকে, তাহলে বিএনপি।












Discussion about this post