বাংলাদেশে সরকারি চাকরি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য নির্ধারিত কোটা বাতিলের দাবিতে গত বছরের জুলাইয়ে শুরু হয়েছিল এক আন্দোলন। পরে তা শেখ হাসিনা হটাও আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। আর এই আন্দোলনেই বিদায় নিতে হয়েছিল টানা তিন মেয়াদের শাসক শেখ হাসিনাকে। যদিও এই আন্দোলনকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা গণঅভ্যুত্থান বলেই আখ্যা দিয়ে চলেছেন।
প্রথম দিকে স্লোগান উঠেছিল, ‘কোটা না মেধা? মেধা, মেধা’। আর হাসিনা সরকারের পতনের পর স্লোগান ওঠে দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা। ফলে বোঝাই যাচ্ছিল, কোটা বিরোধী আন্দোলন আসলে মুখোশ, মুখ হল শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানো। কারণ মজার বিষয় হল, সে দিনের সেই কোটা-বিরোধীরাই এখন জুলাই আন্দোলনকারীদের পরিবারের জন্য কোটা দাবি করছেন। ইতিমধ্যে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার চাকরি ও ভর্তির ক্ষেত্রে ‘জুলাই আন্দোলনকারীদের কোটা’র দাবি মেনেও নিয়েছে।
বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এ বার যারা সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের ও পরিবারের ছেলেমেয়েদের জন্য একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কোটা রাখার সংরক্ষণের দাবি উঠেছে। এই কোটার নাম হচ্ছে- ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোটা’। প্রতিবেদন অনুযায়ী এই দাবি, আন্দোলনকারী ছাত্রদের রাজনৈতিক দল এনসিপির। এমনকি এও জানা যাচ্ছে, এনসিপির প্রস্তাব অনুযায়ী কলেজে ভর্তির খসড়া নীতিমালায় বিশেষ ভাবে আলোচিত হচ্ছে কোটা বণ্টন ব্যবস্থা। অর্থাৎ, যুক্ত হচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোটা’, বাতিল হতে চলেছে ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা’। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে তৈরি হওয়া খসড়া নীতিমালায় গত বছরের জুলাইয়ে আন্দোলনে হতাহতদের পরিবারের ছেলেমেয়েদের জন্য কোটা রাখার প্রস্তাবটি বিবেচনাধীন।
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী অনেক অসুস্থ শিক্ষার্থী এ বারেও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। জানা যাচ্ছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ ছাত্রছাত্রী অনুতীর্ণ হয়েছে। যা নিয়ে বিশাল বিতর্কের জন্ম হয়েছে বাংলাদেশে।। দাবি, যারা আশানুরূপ ফলাফল করতে পারেনি তারা নাকি অন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের ছেলেমেয়েদের কথাও ভাবা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রকের এক জন কর্মকর্তার কথায়, ‘এই সমস্ত শিক্ষার্থীরা যাতে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য সীমিত আকারে কোটা প্রবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে।’
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশ দাবি করছেন, পূর্বতন শেখ হাসিনা সরকারকে হঠানোই ছিল এই চক্রান্তকারীদের অন্যতম উদ্দেশ্য। যে কোটা বাংলাদেশের আদালত চাপিয়ে দিয়েছিল সেই কোটা নিয়েই শেখ হাসিনাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। চা নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল তা আজ অতীত। মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে নতুন করে ফিরে আসছে কোটা। এবার বাদ মুক্তিযোদ্ধারা। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়েছিলেন। আজ কটার সুবিধা পাচ্ছেন জুলাই আন্দোলনকারীদের পরিবার। স্বৈরাচারের নতুন নমুনা বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের ওয়াকিবহাল মহল।












Discussion about this post