গত বছরের ১৯ নভেম্বর, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে নিয়োগ পান খলিলুর রহমান। তাঁর নিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশে পক্ষে ও বিপক্ষে নানা মতভেদ হয়েছে। অনেকেই দাবি করেছেন, খলিলুর রহমান আদদে মার্কিন নাগরিক ও সে দেশের পাসপোর্ট বহন করেন। যদিও কেউ কেউ দাবি করছেন, তিনি বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৈত নাগরিক। তাই তাঁর এই পদ পাওয়া নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। কিন্তু গোল বাধল এই খলিলুর রহমানকে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর পর। গত বুধবার অন্তর্বর্তী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, তাঁকে বাংলাদেশের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসাবের নিয়োগ দেওয়া হল। সেই সঙ্গে তিনি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনেও সাহায্য করবেন। অর্থাৎ, এক ধাক্কায় খলিলুর রহমানকে অনেক বড় দায়িত্ব দেওয়া হল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই নতুন পদটি সৃষ্টি করা হল সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানকে চাপে রাখতেই।
বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতি একটু মন দিয়ে লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান এবং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দেশের আভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণে ঠিক বিপরীত পথে হাঁটছেন। ইউনুস যেখানে পাকিস্তান ও চিনের দিকে ঝুঁকেছেন ঠিক তখনই দেখা যাচ্ছে সেনাপ্রধান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে। গত মার্চ মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন পদস্থ সেনাকর্তা ঢাকায় এসেছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তারা সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গেই বৈঠক করেন, কিন্তু তারা প্রধান উপদেষ্টা বা বাংলাদেশ তদারকি সরকারের কারো সঙ্গে দেখা করেননি। এই বৈঠকের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে জারি করা বিবৃতিতে জানানো হয় বাংলাদেশ দিয়ে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে একটি মানবিক করিডোর তৈরীর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আবার সেনাপ্রধান রাশিয়া সফরে গেলেন। তিনি দেশে ফিরতেই দেখা গেল চার দিনের শুভেচ্ছা সফরে রাশিয়ান নৌবাহিনীর তিনটি যুদ্ধজাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। আবার দেশে ফিরেই কট্টরপন্থীদের উদ্দেশেই যেন কড়া বার্তা দিলেন বাংলাদেশি সেনা প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। ঢাকায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে সম্প্রীতি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধরে রাখতে সেনাবাহিনীর সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা হিংসা-বিদ্বেষ চাই না।
অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আবার চিন সফরে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি চীনা প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আহ্বান জানান এমনকি ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে প্রচ্ছন্ন হুমকিও দেন। বাংলাদেশের লালমনিরহাট বিমানবন্দরকে উন্নত এয়ারবেস তৈরির জন্য চিন ও পাকিস্তানকে একযোগে কাজ করার কথাও বলেন। অর্থাৎ তিনি ঝুঁকে আছেন বেজিং ও ইসলামাবাদের দিকে। অন্যদিকে সেনাপ্রধান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ভারত এই অক্ষে ঝুঁকে আছেন।
বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ও প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে সম্পর্ক যে এই মুহূর্তে দাঁ ও কুমড়োর সম্পর্কের মতো, তা আর নতুন করে বলে দিতে হবে না। সেনাপ্রধান রাশিয়া সফরে যাওয়ার পরপরই সে দেশের ৫ পদস্থ সেনা কর্তাকে গৃহবন্দী রাখা হয়েছে বলে খবর। এও জানা যাচ্ছে, এই সেনাকর্তারা আওয়ামী লীগ পন্থী। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশেই যে এই পাঁচজনকে গৃহবন্দী করা হয়েছে সেটাও মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। আবার খলিলুর রহমানকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়াটাও যে সেনাপ্রধানকে চাপে রাখতে, সেটাও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার নয়। সরকারের মধ্যে সেনাপ্রধানের গুরুত্ব কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। যা সেনাপ্রধান মেনে নেবেন কিনা সেটাই এখন দেখার। ফলে বাংলাদেশে যে কোনও সময় বড় কোন ঘটনা ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ভারতের গোয়েন্দা বিভাগ বাংলাদেশের প্রতিটি পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে, প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও নয়া দিল্লি সূত্রে খবর।












Discussion about this post