তারেক রহমানের দল বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শপথ গ্রহণ করেছে তাঁর মন্ত্রীসভা। পররাষ্ট্র দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খলিলুর রহমানকে। যিনি অন্তবর্তীকালীন সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। দেশের বাইরে যেমন আলোচনা চলছে, এমনকি দেশের অন্দরেও চলছে। নাহিদ ইসলামরা তাঁকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি করছে। অনেকে বলার চেস্টা করেছেন, খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে থেকে বিএনপির পক্ষে নির্বাচন নিয়ে মেকানিজম করার চেষ্টা করেছে। আর একটি সমালোচনা হচ্ছে, যে বিএনপি তাঁর পদত্যাগ চেয়েছিল, সেই বিএনপি কেন তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করল? এমন নানা আলোচনা চলছে। যদিও গণমাধ্যমে এইবার মুখ খুললেন, নব নিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বললেন, বিএনপি একসময় তাঁর পদত্যাগ চেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেই অবস্থান বিএনপির পরিবর্তন হয়েছে। তিনি বলছেন, তিনি নাকি নিজের ইচ্ছেতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হননি। তবে প্রশ্ন ওঠে, কার ইচ্ছেতে তিনি মন্ত্রী হলেন? বিএনপি সরকার কাজ শুরু করতে না করতেই খলিলুরকে নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
ভারত থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। অনেকেই বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সেই সম্পর্ক উন্নত করছে। এমনকি দুই দেশের সম্পর্ক ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি তিনি বলেছেন, বিএনপি আগে আমার পদত্যাগ চাইলেও সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। কার্যত তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, যে বিএনপি এক সময় তাঁর পদত্যাগ চেয়েছিল। বুধবার সন্ধ্যেতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। আর আগে বাংলাদেশ সফররত নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এরপর খলিলুর রহমান বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে বাংলাদেশ আগে পররাষ্ট্রনীতি নেবে সরকার। অর্থাৎ তিনি বলতে চাইছেন, সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ। ঠিক যেমনটা বলেছিলেন, তারেক রহমান। রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা আরও বাড়বে বলে মন্তব্য তাঁর। এছাড়াও তিনি বলেন, আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি বলেও তিনি বলেন। এমনকি খলিলুর রহমান বলেন, তিনি নিজের ইচ্ছেতে মন্ত্রী হননি। তিনি বলেন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ যারা করছেন, তাদেরকে আরেকবার ভোট গণনার আহ্বান জানিয়েছেন খলিলুর রহমান। এছাড়াও সমস্ত দেশের সঙ্গে সু সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলেন। পাশাপাশি সবার আগে বাংলাদেশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এরমধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হল, বিএনপি এক সময় তাঁর পদত্যাগ চাইলেও সেটি সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে। তবে কি তিনি সরকারের মধ্যে থেকে বিএনপির হয়ে কাজ করছিলেন? নাকি তিনি এমন কাজ করেছেন, সেই কাজের ওপরে বিএনপি আস্থা রাখতে পেরেছে? আরও একটি বিষয় নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি নাকি নিজের ইচ্ছেতে মন্ত্রী হননি। তাহলে প্রশ্ন, কার ইচ্ছেতে তিনি হলেন? তারেক রহমানের ইচ্ছেতে? নাকি বিদেশী কারও ইচ্ছেতে? এই প্রশ্নটাই ঘুরপাক খাচ্ছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মন্ত্রী হওয়ার পর তিনি একটি ভুল করে ফেললেন এই মন্তব্য করে। কারণ তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে ফের নানা রকম আলোচনার জন্ম দেবে। তবে এই প্রশ্নও উঠছে, যে তিনি কি এই খোরাক নিজের ইচ্ছেতে তৈরি করে দিলেন? নাকি অজান্তেই? তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, তিনি যখন নিজের ইচ্ছেতে মন্ত্রী হননি, তিনি নিশ্চিতভাবে বিদেশী কোনও শক্তির কথায় এই মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। অনেকে এই আলোচনা করছে, যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যতদিন বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিল, তারমধ্যে বিদেশী শক্তির অনেক স্বার্থ পূরণ হয়নি। সেই কারণে খলিলুর রহমানকে মন্ত্রী পদে বসানো হয়েছে। এখন দেখার, শেষমেশ খলিলুর রহমানের সৃষ্টি করা এই বির্তক কোথায় গিয়ে থামে!












Discussion about this post